নাঈম শেখের সঙ্গে একই পজিশনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জায়গা পেয়েছেন মুনিম শাহরিয়ার। বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলা ২৩ বছর বয়সী এই ওপেনার ১৫২.১৩ স্ট্রাইকরেটে ৬ ম্যাচে করেছেন ১৭৮ রান। বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেই সবার নজর কেড়েছেন তিনি।
তারই পুরস্কার হিসেবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। শুধু স্কোয়াডে নয়, একাদশেই দেখা যাওয়ার জোর সম্ভাবনা এই ওপেনারের। বিপিএল মাতিয়ে এবার দেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপেক্ষায় ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার অনুশীলনে মুনিমকে নিয়ে বাড়তি কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। মুনিমের অভিষেক ইস্যুতে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সরাসরি কিছু না বললে তার খেলার সম্ভাবনা যে শতভাগ সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফরচুন বরিশালের হয়ে মাঠ মাতানো এই ওপেনার সাকিব আল হাসানেরও প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিলেন। সাকিব, মুনিমকে বলেছিলেন বিপিএলের সেরা আবিষ্কার। এমন প্রশংসা তার প্রাপ্যই ছিল। ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইলকে পাশে রেখে যেভাবে প্রতিপক্ষের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন, তা ছিল এক কথায় প্রশংসনীয়।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুনিমের ব্যাপারে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘মুনিমের ভালো সুযোগ আছে কালকে। এখন নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না, আমরা উইকেটটা আজ (বুধবার) দেখলাম। আমরা পরিকল্পনা করবো আমাদের ব্যাটিং অর্ডারটা আমরা কীভাবে সাজাতে চাই।’
মাহমুদউল্লাহ আরও বলেছেন, ‘শুধু টপ অর্ডার নিয়ে পরিকল্পনা করলেই হবে না, গোটা ব্যাটিং ইউনিট আমাদের ভালো করতে হবে। কোনোদিন টপ অর্ডার ভালো শুরু করবে না, মিডল অর্ডার সেটা ক্যারি করবে, টপ অর্ডার ভালো শুরু করলে মিডল অর্ডার বিল্ডাপ করতে হবে। তো আমার মনে হয় এটা টোটাল টিম গেম। টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতা অনেক কঠিন। তবে টিম হিসেবে আমরা যদি খেলতে পারি তবে আমাদের ভালো সুযোগ আছে।’
এদিকে মুনিমের ওপেনিং প্রতিদ্বন্দ্বী নাঈম গত এক বছর ধরে বাংলাদেশের জার্সিতে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটের সব ম্যাচই ওপেনার হিসেবে খেলেছেন। টি-টোয়েন্টি দলের সেরা ওপেনার হিসেবে খেললেও তার স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলেও নিজের পজিশনে ব্যাটিং করতে পারেননি তিনি। ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার হয়ে খেলে ৮ ম্যাচে ৮.৩৩ গড়ে ৭৬ রান করেছেন তিনি। বিপিএলের ব্যর্থতায় ওয়ানডে দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল নাঈমকে। যদিও আফগানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিরিয়ে আনা হয় তাকে।
স্কোয়াডে থাকলেও নাঈমের প্রথম ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণই। এ ব্যাপারে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘ ও (নাঈম) গত বছর আমাদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিল। বিপিএলে হয়তো সেভাবে ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি, যেভাবে আমরা চেয়েছিলাম। তবে আমার মনে হয় সে অনেক ভালো খেলোয়াড়, ইনশাআল্লাহ্ কামব্যাক করবে। সে এখনও ট্র্যাকে আছে।’
বিপিএলে ওপেনার হয়ে মাত্র একটি ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন নাঈম। সবচেয়ে বেশি তিন নম্বর পজিশনে তিনবার ব্যাটিং করেন তিনি। এছাড়া একবার করে চার নম্বর, সাত নম্বর ও আট নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। অথচ নাঈম যে দলের হয়ে খেলেছেন সেই মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার অধিনায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ নিজেই। কেন একজন ওপেনারকে বারবার ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করানো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘বিপিএলের কম্বিনেশন আর জাতীয় দলের কম্বিনেশন দুইটা দুই জিনিস। বিপিএলে তামিম ছিল, শাহজাদ ছিল। এজন্য ভেবেছিলাম নাঈম তিনে খেললে ভালো। বিপিএলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদিন খেলেছি। এখানে আপনি জানেন কারা মাঝখানে বল করবে কারা শেষে বল করবে। এই জিনিসগুলো মোটামুটি ছক কষা থাকে।’







