X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

তার পরেও দিনটি বাংলাদেশের

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ১৯:৫১

মর্নিং শোজ দ্য ডে- অর্থাৎ দিনটা কেমন যাবে তা সকাল দেখলেই বুঝে নেওয়া যায়। কিন্তু সবসময় এই কথাটি যে খাটে না তার উজ্জ্বলতম উদাহরণ হয়ে থাকলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন।সকালে মাত্র ৪২ মিনিটে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যেখানে একশ’র নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, সেখানে মুশফিক-লিটন মিলে তীব্র গরমে দেয়াল হয়ে পার করে দিলেন পুরোটা দিন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল শুরুর বাজে ব্যাটিংয়ে বুঝি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই অবস্থান থেকেই লিটন-মুশফিকের অবিচ্ছিন্ন জুটি বড় সংগ্রহের পথ দেখাচ্ছে। প্রথম দিনে ৮৫ ওভার শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৭৭ রান। ২৫২ বল খেলে ১১৫ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিক। ২২১ বল খেলে লিটন অপরাজিত ১৩৫ রানে। 

২৪ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে উদ্ধার করে মূলত ষষ্ঠ উইকেটে গড়া এই রেকর্ড জুটিই। লাঞ্চে যাওয়ার আগে তাদের প্রতিরোধেই স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৬৬। দ্বিতীয় সেশনটা আরও দৃঢ় মনোবলে খেলে হারায়নি আর কোনও উইকেট। রানও দাঁড়িয়ে যায় ১৫৩। তাতে দিন শেষে ষষ্ঠ উইকেটের জুটিটা দাঁড়িয়েছে ২৫৩ রানে।  

প্রথম সেশনে অবিচ্ছিন্ন থেকে দ্বিতীয় সেশন থেকে লঙ্কানদের রীতিমতো শাসন করেন তারা। সেই আধিপত্য অব্যাহত থাকে তৃতীয় সেশনেও। তাতে ষষ্ঠ উইকেটে গড়া হয়েছে দুইশ’ ছাড়ানো রেকর্ড জুটির। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের আগের সেরা জুটিটি ছিল আশরাফুল-মুশফিকের ১৯১ রান। ২০০৭ সালে এই লঙ্কানদের বিপক্ষেই তা এসেছিল। অবশ্য মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট বিবেচনা করলে এই জুটি আবার গড়েছে বিশ্বরেকর্ডও। 

১৯৫৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। সেই ম্যাচে ৬ষ্ঠ উইকেটে ওয়ালিস ম্যাথিয়াস ও সুজাউদ্দিন মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলটিকে উদ্ধার করেছিলেন। ২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানোর পর এতদিন ওটাই ছিল ৬ষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ৬৩ বছর পর মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে রেকর্ডটি নিজেদের করে নিলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর নিজেরাই নিজেদের বিপদে ফেলে বাংলাদেশ। যার বড় প্রমাণ লিটন-মুশফিকের ষষ্ঠ জুটি। উইকেট যে ব্যাটিং সহায়ক তার বড় প্রমাণ এই দুজন। বাকিরা কৌশলী হতে পারেননি বলেই ৪২ মিনিটে বিদায় নেন ৫ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার!

শুরুতে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেয় লঙ্কান পেস বোলিং। প্রথমে দুই ওভারে স্বাগতিকদের দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম বলটি ফুলার লেংথে দিয়ে মাহমুদুল হাসান জয়কে ভড়কে দিয়েছিলেন পেসার কাসুন রাজিথা। দ্বিতীয় বলে দুর্বল ডিফেন্সের খেসারতও দেন বোল্ড হয়ে। ফুটওয়ার্ক ঠিকমতো না করায় বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। তাতে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল। দ্বিতীয় ওভারে তামিম ইকবালও ফেরেন ডাক মেরে। আরেক পেসার আসিথা ফার্নান্ডোর লেংথ বল লেগ সাইডে খেলতে গেলে তা লিডিং এজ হয়ে জমা পড়ে পয়েন্টে থাকা জয়াবিক্রমার হাতে।

তারপর মাঠে নামা অধিনায়ক মুমিনুল হকের ব্যাটিংও স্বস্তি এনে দিতে পারেনি। বাজে ফর্মে থাকা এই বাঁহাতি দুটি চার মেরে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। বরং বিপদ বাড়িয়ে দেন আরও। ফার্নান্ডোর অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল খেলবেন কি খেলবেন না, এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। কিন্তু ব্যাট নামাতে দেরি করায় বল এজ হয়ে জমা পড়ে কিপারের গ্লাভসে। শেষ টেস্টে ২ রান করা মুমিনুল এবার করতে পেরেছেন ৯ রান। 

তারপর বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ছাড়েন রাজিথা। প্রথম টেস্টে দারুণ বল করা এই পেসার পর পর জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসানকে। তার সপ্তম ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে ভেতরে টার্ন করা বল বিলাসী ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন নাজমুল। কিন্তু বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করলে ৮ রানে ফেরেন এই ব্যাটার।

সাকিব তার পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়েছেন। একই রকম ভেতরে ঢুকে পড়া ডেলিভারি দিলে পরাস্ত হন তিনি। লঙ্কানদের জোরালো আবেদনে আম্পায়ারও সাড়া দেন সঙ্গে সঙ্গে। বাঁহাতি অলরাউন্ডার রিভিউ নিলেও সাফল্য আসেনি তাতে। আম্পায়ার্স কলে শেষ পর্যন্ত শূন্য রানে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার।     

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দলটিকে তার পর দিশা দেখিয়েছে মুশফিক-লিটনের দৃঢ়চেতা ব্যাটিং। তবে দ্বিতীয় সেশনে ৩৮.১ ওভারে ফিফটির আগেই ফিরতে পারতেন লিটন। আসিথা ফার্নান্ডোর শর্ট বলে হুক করতে গিয়েছিলেন। বল টপ এজ হয়ে বাতাসে উঠলেও তা হাতে জমাতে পারেননি বদলি খেলোয়াড় কামিন্দু মেন্ডিস। তাতে ৪৭ রানে জীবন পান তিনি। তিন বল পর চার মেরে পূরণ করেন ফিফটি। প্রথম সেশনে নবম ওভারেও স্লিপে ক্যাচ গিয়েছিল লিটনের। ভাগ্য ভালো যে আগেই তা মাটিতে ড্রপ খেয়েছে। 

সকালের ৫টি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন লঙ্কান দুই পেসার। ৪৩ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন কাসুন রাজিথা। আসিথা ফার্নান্ডো ৮০ রানে নেন দুটি উইকেট। 

/এফআইআর/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বেড়েছে লাগেজ ‘লেফট-বিহাইন্ড’, প্রবাসীদের ঈদ মাটি
বেড়েছে লাগেজ ‘লেফট-বিহাইন্ড’, প্রবাসীদের ঈদ মাটি
পুতিনের সাহায্য চাইলো শ্রীলঙ্কা
পুতিনের সাহায্য চাইলো শ্রীলঙ্কা
জেলের জালে ৩১ কেজির বাগাড়
জেলের জালে ৩১ কেজির বাগাড়
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
এ বিভাগের সর্বশেষ
বার্সেলোনা জানিয়ে দিলো, ডি ইয়ং ‘বিক্রির জন্য নয়’
বার্সেলোনা জানিয়ে দিলো, ডি ইয়ং ‘বিক্রির জন্য নয়’
স্কুল ফুটবলের শিরোপা গেলো নীলফামারীতে
স্কুল ফুটবলের শিরোপা গেলো নীলফামারীতে
ভারতের অধিনায়ক এবার ধাওয়ান
ভারতের অধিনায়ক এবার ধাওয়ান
এবার জরিমানা গুনলো বাংলাদেশ
এবার জরিমানা গুনলো বাংলাদেশ
জার্মানির অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
জার্মানির অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ