ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর জাতীয় দলে অনেক রদবদল হয়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে সরিয়ে সাকিব আল হাসানের কাঁধে নেতৃত্ব ভার তুলে দেওয়া হয়। তামিম ইকবাল তো আগেই অবসরে গেছেন। মুশফিকুর রহিম বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে কুড়ি ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। মাহমুদউল্লাহ অবসর না নিলেও তাকে বাইরে রেখে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সিনিয়রদের সরিয়ে যে তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তরুণদের ব্যর্থতা হতাশ করেছে সাকিবকে।
আজ (রবিবার) পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ দল। অথচ তরুণ এই ক্রিকেটারদের কাছে প্রত্যাশা ছিল ফিয়ারলেস ক্রিকেটের। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। সৌম্য সরকার তিন ম্যাচে ৩৫, মোসাদ্দেক হোসেন ৫ ম্যাচে ৩৮, নুরুল হাসান সোহান ৫ ম্যাচে ৪১ ও ইয়াসির আলী ৩ ম্যাচে ৪ রান করেন। দারুণ ছন্দ নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়া আফিফ হোসেনও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। ৫ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫২ রান। ৫ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৮০ রান শান্তর, তবে তার ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়েই সৌম্য-সোহানদের পারফরম্যান্সে হতাশ সাকিব।
এক প্রশ্নের উত্তরে সাকিব বলেছেন, ‘নতুন ছেলেরা এসেছে, অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে অন্তত এটুকুর আশা ছিল আমাদের।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের আশা জাগিয়েও মাত্র ১২৭ রান করতে পারে বাংলাদেশ। অথচ শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। পাকিস্তানের লেগ স্পিনার শাদাব খানের পরপর দুই বলে সৌম্য ও আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সাকিব বিদায় নিতেই বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আফিফ একপ্রান্তে টিকে থাকলেও মোসাদ্দেক ও সোহানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে শেষ ২৯ বলে কেবল ২৪ রান নিতে পারে বাংলাদেশ।
লক্ষ্য ১৪৫-১৫০ হলেও সেটি ছুঁতে না পারায় হতাশ বাঁহাতি অলরাউন্ডার, ‘(ইনিংসের) মাঝপথে আমাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৭০ রান। আমরা ১৪৫-১৫০ রানের আশেপাশে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম। এই পিচে সেটা ভালো সংগ্রহ হতো। আমরা জানতাম যে নতুন ব্যাটারদের জন্য এটা কঠিন হবে। তাই সেট ব্যাটারদের শেষ পর্যন্ত থেকে যেতে হতো। সেটা হয়নি।’
১৫ বছর আগে ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মূল পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। লম্বা সময় পর চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেই খরা কাটিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এরপর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে সেরা সাফল্যে উজ্জিবীত হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরেই বিশ্বকাপের মঞ্চ ছাড়তে হয়েছে সাকিবদের।
যদিও টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামের মতো সাকিবেরও একই কথা, ‘ফলের দিক থেকে, এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আরও ভালো করতে পারতাম। তারপরও নতুন ছেলেদের দলে আসা ও নানা পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে এটিই আমাদের সেরা প্রত্যাশা ছিল।’








