ঢাকায় নেমেই ছাদখোলা বাসে করে লাখো মানুষের সংবর্ধনা পাবো কখনও কল্পনা করিনি। কাঠমান্ডুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে এমনই বিরল এক আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি। যে আনন্দের রেশ ছড়িয়েছে সারা দেশে। আমাদের দেশের মানুষ যে কতটা ক্রীড়াপ্রেমী সেদিন আবারও প্রমাণিত হয়েছে। এমন মনদোলানো দৃশ্যের অবতারণা হোক আবারও। স্বপ্ন দেখি– বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরে আমাদের ক্রিকেট দলও ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পাচ্ছে!
জানি স্বপ্নটা অনেক বড়। এমন স্বপ্ন দেখতে তো সাকিব-মুশফিক ভাইয়ারাই সাহস জুগিয়েছেন। এরই মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে আমাদের দল শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বিভিন্ন সময় অনেক বড় বড় দলকে হারিয়েছে। আমরা সবাই একসঙ্গে বিজয় উৎসবে মেতেছি। এবার আরও বড় উৎসব করতে চাই।
যদিও বিশ্বকাপ জেতা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমাদের রয়েছে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের এই দলটা অনেক অভিজ্ঞ। অনেকদিন ধরে তারা একসঙ্গে খেলছেন। সেজন্য প্রত্যাশাটাও বেশি। মন বলছে, আমাদের টাইগাররা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত কিছু করবে।
বাংলাদেশ দলের মধ্যে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের খেলা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। তার তুলনা তিনি নিজেই। মুশফিকুর রহিম ভাইয়ের খেলাও আমার পছন্দ। এছাড়া অন্য যারা আছেন তাদের সবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস আছে। বহুদূর যাওয়ার শক্তি এবং সামর্থ্য দলটি রাখে। সেই সঙ্গে আছে দেশের কোটি মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন।
সাকিব ভাই এবং জাহানারা আপার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমার দেখা হয়েছে। তাদের সান্নিধ্যে গেলে অনুপ্রাণিত হই। বিশ্বাস করি– ক্রিকেটের মতো আমাদের ফুটবলও সবদিক থেকে এমন আলো ছড়াবে।
ফুটবলার না হলে হয়তো আমি ক্রিকেটারই হতাম! বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেখানে আমার বল ও ব্যাট দুটোই করার সুযোগ হয়েছিল। উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রানও করেছি। চার-ছক্কা মেরেছি। ম্যাচে আমাদের দুই ওভার করে বল করার কথা ছিল। মজার বিষয় হলো, একবার আমি এক ওভার বেশি বল করেছিলাম! আম্পায়ার ঘটনাটা ধরতে পারেননি! এটা নিয়ে খেলা শেষে সবাই অনেক মজা করেছি।
সবশেষে আবারও বলতে চাই, বাংলাদেশ এবার বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করুক। চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরুক। সারা দেশ মেতে উঠুক বিজয়ের বাঁধভাঙা উল্লাসে। উড়ুক লাল-সবুজের প্রিয় পতাকা।
লেখক: জাতীয় দলের ফুটবলার, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন








