দুই দলের জন্যই ম্যাচটা ছিল সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাচিয়ে রাখার মঞ্চ। সেখানে একপেশে ম্যাচের জন্ম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তারা সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে। অপর দিকে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন কার্যত শেষ। ৫ ম্যাচে এটি তাদের চতুর্থ পরাজয়। ফলে এখন শুধু কাগজে কলমেই টিকে থাকলো তারা! বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি টানা পঞ্চম জয় শ্রীলঙ্কার। টুর্নামেন্টে লঙ্কানদের এটি দ্বিতীয় জয়।
ইংল্যান্ডকে ১৫৬ রানে বেঁধে ফেলেই জয়ের পথটা সহজ করে রেখেছিল লঙ্কান দল। ৫.২ ওভারে ইংলিশ পেসার উইলি শ্রীলঙ্কার দুটি উইকেট নিয়ে শুরুতে আঘাত হানলেও জয়ের জন্য স্কোবোর্ডের রানটা যথেষ্ট ছিল না। পরে তো ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও সাদিরা সামারাবিক্রমার ফিফটিতে ম্যাচটা ২ উইকেট হারিয়েই শ্রীলঙ্কা ২৫.৪ ওভারে জিতে নিয়েছে। নিসাঙ্কা ৮৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। সামারাবিক্রমা ৫৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৬৫ রানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ১৩৭ রান যোগ করেছে।
বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আজ জয়ের বিকল্প ছিল না ইংল্যান্ডের। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ের উদাহরণ রাখে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও লঙ্কান বোলিং নৈপুণ্যে ৩৩.২ ওভারে ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। যা বিশ্বকপে লঙ্কানদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন স্কোর! চেন্নাইয়ের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেও এত কমরানে অলআউট হলো কোনও দল।
শুরুতে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরার পেছনে বড় অবদান বলা চলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের। শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলে ছিলেন না অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত তার কপাল খুলে দিয়েছে মাথিশা পাথিরানার ইনজুরি। ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সরাসরি একাদশেই ঢুকে গেছেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা ২০২০ সালের মার্চের পর যিনি বলই হাতে নেননি, আজ বল করতে নেমে শুরুর আঘাতটা হেনেছেন। ভেঙেছেন ওপেনিং জুটি! তখন ব্যাট হাতে আগ্রাসী ব্যাটিংটা শুরু করেছিলেন ডেভিড মালান। সপ্তম ওভারে ম্যাথুজ এসেই দারুণ ডেলিভারিতে মালানকে ২৮ রানে গ্লাভসবন্দি করিয়েছেন। তার পর তো দারুণ ফিল্ডিংয়ে জো রুটকে (৩) রানআউট করতেও অবদান রাখেন তিনি।
ম্যাথুজের নৈপুণ্য-ই তারপর ইনিংসে ধস নামানোর মঞ্চটা গড়ে দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেয়ারস্টোকে রাজিথা ও অধিনায়ক বাটলারকে কুমারা সাজঘরে ফেরালে ভীষণ বিপদে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে উত্তরণের কোনও পথ জানা ছিল না তাদের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানে গুটিয়ে গেছে। অবশ্য লিয়াম লিভিংস্টোন পঞ্চম উইকেট হিসেবে আউটের পর মঈন আলী-বেন স্টোকস ৩৭ রানের জুটিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই জুটিটিও ম্যাথুজ ভেঙে দিয়ে ইংল্যান্ডকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে অবদান রাখেন। মঈনকে ১৫ রানে ফেরান লঙ্কান অলরাউন্ডার। স্টোকস প্রান্ত আগলে লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত যোগ্য সঙ্গী না পেয়ে হতাশায় ৪৩ রানে আউট হয়েছেন। তার ৭৩ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার।
৩৫ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন লাহিরু কুমারা। যিনি গত ম্যাচ পর একাদশে ফিরেছেন। দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। ৫ ওভারে ১৪ রান দিয়ে দুটি নিয়েছেন ম্যাথুজ। ৩৬ রানে দুটি নেন কাসুন রাজিথাও। একটি নিয়েছেন মাহিশ থিকশানাও।









