টেস্টে আমরা উন্নতি করতে আসিনি, জিততে এসেছি: শান্ত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২০:২৬আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২০:২৬

স্পিনিং ও টার্নিং উইকেট বানিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ফাঁদে পড়েছে তারা নিজেরাই। বাংলাদশের ব্যাটাররা দুই ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে ৪ উইকেটে। অথচ সিলেটে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে ম্যাচ জিতেছিল তারা। ঢাকায় দলের চাওয়াতেই এমন টার্নিং উইকেট বানানো হয়েছিল। হারের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন, তারা জেতার জন্যই এমন টার্নিং উইকেটে খেলেছেন।

প্রশ্ন: ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়াটা কখনও কখনও হিতে বিপরীত হয়, এই ম্যাচ শেষে কি সেটাই মনে হচ্ছে?

নাজমুল হোসেন শান্ত: টেস্ট ক্রিকেটে তো আমরা উন্নতি করতে আসিনি, জিততে এসেছি। এখানে জেতার জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া উচিত, তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ধরনের সুবিধা অবশ্যই নেওয়া উচিত। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় যে আমরা যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলি, সেখানে আমরা ভালো উইকেটে বা এমন কন্ডিশন বানিয়ে অনুশীলন করতে পারি। যখন আমরা হোমে খেলবো, আমরা এনসিএলে এমন উইকেটে খেললাম। আবার অ্যাওয়ের জন্য দুই তিনটা উইকেট আমরা এভাবে বানালাম। কিন্তু আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনুশীলনের জায়গা না। এখানে উন্নতি করারও কিছু নেই যে, ভালো উইকেটে খেলে আমরা ভালো ম্যাচ খেললাম। এখানে আমরা জেতার জন্য আসি।

আপনাদের জন্য কি এই বাস্তবতা আছে, যেহেতু আপনারা সারা জীবন ধরে খেলেন; সেক্ষেত্রে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন কিংবা উন্নতি করবেন?

শান্ত: যারা তিন ফরম্যাট খেলে তাদের জন্য কঠিন। কিন্তু কিছু করার নেই। তারা যারা তিন ফরম্যাটে খেলে, তাদের ওভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে, নেটে হতে পারে। কিন্তু যে খেলোয়াড়গুলো কেবল টেস্টেই খেলছে, তাদের ওই সময়টা থাকে। এমন না যে এখানে ১০-১৫টা খেলোয়াড় থাকে, এমন অনেক খেলোয়াড় আছে ভবিষ্যতে যাদের টেস্ট ম্যাচে সুযোগ আসবে। তাদের জন্য সুযোগ আছে স্পিনিং বা ভালো উইকেটে খেলে অনুশীলন করে, ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এখানে আসার। 

সিলেটে যেমন উইকেটে খেলা হয়েছে, তাতে করে মনে হয়নি সিলেটের মতোই উইকেটই আপনাদের জন্য আদর্শ?

শান্ত: সিলেটের উইকেট বোলারদের জন্য খুব বেশি সহায়ক যে ছিল, তা বলবো না। বোলাররা বোলিং করেছে, ব্যাটাররাও কষ্ট করে রান করেছে। দুই ক্ষেত্রেই সহায়ক ছিল। এই টেস্টের কথা যদি বলি, আমরা ব্যাটাররা খুব একটা ভালো ব্যাটিং করিনি। প্রথম ইনিংসে ২৩০-২৪০ রানের উইকেট ছিল। ওই জায়গায় আমরা রানটা কম করার কারণে মনে হয়েছে উইকেটটা অনেক খারাপ। অবশ্যই নতুন বলে চ্যালেঞ্জ ছিল, এমন পরিস্থিতি দেশে খেলি আর বিদেশি খেলি, সেটা থাকেই। তো এখানে আলাদা কিছুই ছিল না। আমরা ব্যাটিংটা আরও একটু ভালো করলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

অধিনায়ক হিসেবে সিরিজটা কেমন গেলো, এখান থেকে কি কি নিউজিল্যন্ড সিরিজে নিয়ে যাবেন?

শান্ত: প্রথমত খুবই গর্বিত। প্রথম ম্যাচটা খুবই ভালো খেলেছি আমরা, দ্বিতীয় ম্যাচটায় সবার অঙ্গভঙ্গি খুব ভালো ছিল। ১৩৭ টার্গেট দিয়েছিল, তারপর বোলাররা যেভাবে চেষ্টা করেছে, তাতে আমি বেশ খুশি। উন্নতির জায়গা আছে, ব্যাটিংয়ে আরেকটু ভালো আমরা কীভাবে করতে পারি... এই জায়গাটায় একটু ঘাটতি আছে। আমি বলবো না আমাদের উন্নতি হচ্ছে না, এখানে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা একদমই নতুন। কিন্তু দেখে কারও মনে হয়নি খুব একটা নার্ভাস বা টেনশন অনুভব করছে। সবাই দলের জন্য খেলার চেষ্টা করেছে। তো এই দিকগুলো ইতিবাচক ছিল। 

গ্লেন ফিলিপসকে আউট করার আলাদা পরিকল্পনা ছিল কি না কিংবা শরিফুলকে শেষ দিকে কাজে লাগানো যেতো?

শান্ত: যেমন উইকেট ছিল, স্পিনাররা ভালো বল করছিল। আমার মনে হয় ও (গ্লেন ফিলিপস) খুব ভালো ব্যাট করেছে। এটা মানতে হবে। হতাশা না, সুযোগ ছিল ভালো কিছু করার। আমার মনে হয় না আমাদের বোলাররা খুব খারাপ বোলিং করেছে। ও খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। 

ব্যাটারদের ব্যর্থ হওয়ার কারণ কী মনে হচ্ছে, বেশি আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়েই কি এই অবস্থা?

শান্ত: যার যে পরিকল্পনা ছিল, তা অনুযায়ী খেলতে চেয়েছি। কিন্তু এখানে সবাই অনেক বেশি যে আক্রমণ করতে গিয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। যার যে পরিকল্পনা ছিল, ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছে। বাস্তবায়ন হয়নি। আমার মনে হয় দায়িত্বটা যদি আমরা সবাই মিলে নিতাম, তাহলে আরও ভালো কিছু হতে পারতো। 

/আরআই/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম