পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান মাউমারি বাজারের। ২০১৫ সালে সেখানে বসেই পেসার হওয়ার স্বপ্নটা উঁকি দিয়েছিল শরিফুল ইসলামের মনে। ভারতের বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমানের আগুন বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে এমন স্বপ্ন দেখেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই স্বপ্নগুলো পূরণ হচ্ছে বাঁহাতি পেসারের। তিন ফরম্যাটেই জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার হয়ে উঠছেন। গত বছর দারুণ সময় কাটানো শরিফুলের নতুন বছরের শুরুটাও হলো রাজকীয়ভাবে। বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে মাঠে নেমে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিক করলেন তিনি।
অনেকটা কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই জাতীয় দলে সুযোগ করে নিতে হয়েছে পঞ্চগড়ের কৃষক-সন্তান শরিফুলকে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় এরকম পরিবারের সন্তানদের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটু বাড়াবাড়িই। তারপরও স্বপ্নটা দেখেছিলেন দীর্ঘাদেহী এই তরুণ। স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে একটু একটু করে উপরে উঠছেন তিনি। এমন দিনে শরিফুল ক্যারিয়ারের অনন্য অর্জন পেলেন, যে দিন তার বাবা-মা গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন!
বাবা-মায়ের সামনে পারফরম্যান্স করতে পেরে দারুণ খুশি শরিফুল। ম্যাচসেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, ‘আমার পরিবার আজকে মাঠে এসেছে প্রথমবার খেলা দেখতে এবং এই দিনেই আমার হ্যাটট্রিক হয়েছে, এটা খুব ভালো লাগছে। না, হ্যাটট্রিকের চিন্তাভাবনা ছিল না। চিন্তা করেছি আমার হাতে বল আছে আরও তিনটা। আমি ভালোভাবে ফিরে আসতে পারবো। হয়তোবা এখান থেকে একটা উইকেট নিতে পারবো। কিন্তু হ্যাটট্রিকটা...।’
কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে আলোর দেখা পাওয়া শরিফুলের সাফল্য শুরু ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে। বয়সভিত্তিক ধাপ পেরিয়ে দ্রুতই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যান তিনি। এখন তো জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন। শুক্রবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে নিজের অনুভূতি এভাবে জানিয়েছেন শরিফুল, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি গত বছর যেভাবে শেষ করেছি এ বছর সেভাবে শুরু করতে চাই। আলহামদুলিল্লাহ প্রথম ম্যাচটা ওরকম হয়েছে, চেষ্টা করবো বাকিগুলো করার। আর মিরপুরের উইকেট আজকে একটু ভালো, খুব ভালো লাগছিল যে বল ক্যারি করছিল। ভালো স্কোরিং উইকেট ছিল।’
এদিন শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করলেও শুরুতে খেই হারিয়েছিলেন শরিফুল। দুটি ছক্কা খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর টোটকার কথা জানালেন এই পেসার, ‘দুটি ছক্কা খাওয়ার পর মনে করছিলাম কীভাবে রান আটকানো যায়। কারণ, হয়তো আরেকটা যদি ছয় খেতাম স্কোরটা বড় হয়ে যেত। আমার লক্ষ্যটা ছিল যেন আমি ডট বল করতে পারি। তাসকিন ভাই, মোসাদ্দেক ভাই একই কথা বলেছিল যে, গতি পাল্টালে হয়তো ভালো হবে। কারণ, উইকেটে একটু আলাদা বাউন্স আছে।’
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ১৪৩ রানে থামিয়ে দিয়ে শুরুতেই জয়ের স্বপ্নটা বুনে ফেলে ঢাকা। ড্রেসিংরুমে প্রথম ইনিংস শেষেই জয়ের সুবাস পাওয়া যায়, ‘আমরা যখন ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলাম, আমরা সবাই বিশ্বাস করেছিলাম ম্যাচটা জিতবো। লক্ষ্যটা আমাদের ধরাছোঁয়ার মধ্যে আছে। আমরা যদি ভালো শুরু করি, ইনশাআল্লাহ জিতবো। যেরকম শুরু চেয়েছিলাম, ওটা আমাদের ব্যাটারদের জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হয়েছিল।’







