X
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪
১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

'বল ইজ নট ইয়েট ডেলিভার্ড। লেট দ্য বল কাম, লেট মি প্লে দ্য বল’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:০৬আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:০৬

সবাইকে চমকে দিয়ে প্রধান নির্বাচক হিসেবে গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নাম ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। নতুন দায়িত্ব পেয়ে মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আসেন তিনি। এসেই প্রথম কথা, ‘অনেক দিন পর’। 

সত্যিই অনেক দিন পর এলেন তিনি। সেই ২০১৩ সালে নির্বাচনে হেরে বিসিবির সঙ্গে তৈরি হয়েছিল দূরত্ব। যে বোর্ডের কাছে হেরে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল সাবেক এই অধিনায়কের সঙ্গে, তাকেই প্রধান নির্বাচকের পদে বসালো পাপনের বোর্ড। 

দায়িত্ব নিয়ে মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে লিপু বলেছেন, ‘বল ইজ নট ইয়েট ডেলিভার্ড। লেট দ্য বল কাম, লেট মি প্লে দ্য বল।’

লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও ক্রিকেট বোর্ডে তার পদচারণা কম ছিল না। ১৯৮৬ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। পরে ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবেও লম্বা সময় দেখা গেছে তাকে। ১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতা দলের ম্যানেজারও ছিলেন। ২০০৭ সালে অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে পাঁচবার বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বও করেছেন। বিসিবির পরিচালক, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের পরিচালক, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধান নির্বাচক হিসেবে হয়তো প্রথমবার, তবে ভূমিকা নতুন হলেও কাজটা পুরোনোই। এটাই তো লিপুকে আত্মবিশ্বাসী করছে।

লম্বা সময় পর মিরপুরে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপ করেন লিপু। সেখানেই তিনি বলেছেন, ‘ধন্যবাদ সবাইকে। আসলে অনেক দিন পর বিসিবির প্রাঙ্গনে আসা এবং একটা নতুন দায়িত্বে। তো আমার বিশ্বাস এই ভূমিকায় (প্রধান নির্বাচক) আমি আগে কখনও কাজ না করলেও, এটা নিয়ে অবগত। এই মুহূর্তে ক্রিকেট খেলা মানে চ্যালেঞ্জ, সবকিছুতে চ্যালেঞ্জ থাকেই।’

ক্রিকেট বোর্ডের বড় বড় দায়িত্ব সামলানো লিপু প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব কেন পেলেন, এই নিয়ে সোমবার বোর্ড সভার পর থেকেই আলোচনা চলছে। দায়িত্বে আসার ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, 'আপনারা জানেন ২০১৩ সালের পর থেকে আমি বোর্ডের সঙ্গে নেই। করোনাকালের আগেও একাধিকবার বোর্ড থেকে আমার কাছে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজের প্রস্তাব এসেছে। আমার মা অসুস্থ ছিলেন তখন চিন্তা করারই সুযোগ হয়নি। নির্বাচনের আগেও প্রস্তাব এসেছে। এবার যখন আসলো (প্রস্তাব), কথা বললাম। আমার দিক থেকে যে ব্যাপারটা ছিল, আমি বোর্ড পরিচালক ছিলাম। হয়তো অনেকে জানেন না ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমি পাঁচ-ছয়টা আইসিসি সভায় প্রতিনিধিত্ব করেছি। এতগুলো ভূমিকা পালন করার পর আমার এখন এই পদে আসা, যেখানে একটা নিয়মের মধ্যে একটা বেতন কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হবে। সেটার জন্য ওপেনিং স্পেস চেয়েছিলাম। গঠনতন্ত্রের বাইরে একটা সমমানের সম্মান যাতে এই পদকে দেওয়া হয়। সেই জায়গায় তারা আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।'

প্রধান নির্বাচকের প্রস্তাব পাওয়ার পর বেশ কিছু বিষয় সামনে আনেন লিপু। বোর্ড থেকে সেসব বিষয় নিয়ে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই কাজ করতে রাজি হয়েছেন। বোর্ড তাকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। যার শুরুটা হচ্ছে ১ মার্চ থেকে। লিপু জানান, তার স্বাধীনতা থাকবে তা নিশ্চিত হয়েই এসেছেন তিনি, ‘স্বাধীনতা থাকবে এই ব্যাপারে কথা হয়েছে। তবে আগের প্রক্রিয়া নিয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাই না। কারণ, এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা জানি যে এটা বড় একটা প্রক্রিয়া ছিল। দল নির্বাচন সেখানে অধিনায়ক কোচ নিশ্চিতভাবেই অংশগ্রহণ করবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে প্রক্রিয়া মেনে চলে আমরা সেটাই রাখার চেষ্টা করবো।’
 
বর্তমান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দল নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখেন। তার সঙ্গে মতে মিল না হওয়ায় ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। নতুন এই প্রধান নির্বাচক হাথুরুসিংহেকে কীভাবে সামাল দেবেন? এই প্রশ্ন ক্রিকেট পাড়ায় এখন সবচেয়ে বড় চর্চিত প্রশ্ন। কোচ-অধিনায়কের মতামতকে সমন্বয় করে নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা সহজে চালাতে পারবেন, এরকম অনেক প্রশ্ন ছিল তার কাছে। উত্তরে সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেন লিপু,  'বল ইজ নট ইয়েট ডেলিভার্ড। লেট দ্য বল কাম, লেট মি প্লে দ্য বল।'

লিপু আরও বলেছেন, ‘দেখেন আমি আরও কয়েকদিন পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবো। সবকিছুর উত্তর এই মুহূর্ত দিতে চাচ্ছি না। আমার ক্রিকেট অফিসের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আরও একটু পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর আগে গণমাধ্যমে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে আমার যেটা ভিশন থাকবে, আপনারা সবাই জানেন আমাদের খেলোয়াড় নিয়ে সীমাবদ্ধতা আছে। সবাই ঢাকা কেন্দ্রিক ক্রিকেটে জড়িত। সেটা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ হোক, বিসিএল হোক। এখান থেকে আমাদের খেলোয়াড় বাছাই করতে হয়।’

নিজের প্যানেল নিয়ে কাজের দিক থেকে শতভাগ সৎ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লিপু, ‘ক্রিকেট মানেই চ্যালেঞ্জ। আমি এবং আমার প্যানেল (হান্নান সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক) যে নতুন দায়িত্ব পেয়েছি আমরা চেষ্টা করবো মেধা, প্রজ্ঞা, সততা ও একাগ্রতা দিয়ে আমাদের যেই সীমিত সম্পদ আছে সেটা দিয়ে… আমি বলবো না যে প্রচুর রিসোর্স আছে। সেটা থেকে প্রতিপক্ষের আলোকে, কোনও বিদেশি দলের বিপক্ষে দেশে কিংবা বিদেশে কোনও আলোকে বা গ্লোবাল টুর্নামেন্টে সেই আলোকে দেশের সেরা দলটা তৈরি করার চেষ্টা করবো।’ 

/আরআই/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আবারও হাবের নেতৃত্বে শাহাদাত হোসাইন
আবারও হাবের নেতৃত্বে শাহাদাত হোসাইন
গাজীপুরে তুলার গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে তুলার গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে ফের সভাপতি মনিরুল, সম্পাদক রাসেল
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে ফের সভাপতি মনিরুল, সম্পাদক রাসেল
‘অবৈধ ব্যক্তির কোনও সিদ্ধান্তে আমার মাথাব্যথা নেই’
সমিতির সদস্যপদ হারালেন জায়েদ খান‘অবৈধ ব্যক্তির কোনও সিদ্ধান্তে আমার মাথাব্যথা নেই’
সর্বাধিক পঠিত
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
মোবাইল অপারেটররা দিতে পারবে ওয়াই-ফাই সেবা, আপত্তি আইএসপি অপারেটরগুলোর
মোবাইল অপারেটররা দিতে পারবে ওয়াই-ফাই সেবা, আপত্তি আইএসপি অপারেটরগুলোর
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা
বেইলি রোড ট্র্যাজেডিব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা