আগামী সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিলেটে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে বিসিবির ডাকে সাড়া দিয়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে একত্রিত হলেন সবাই। যেখানে কেবল ক্রিকেটারদের কথা শুনেছেন বোর্ড পরিচালকরা। যে সেশনের নাম দিয়েছেন ‘শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার’। বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর ক্রিকেটারদের সঙ্গে আজই প্রথম বসেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
সোনারগাঁও হোটেলের কনফারেন্স রুমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বুলবুল। জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই উপস্থিত ছিলেন এই প্রোগ্রামে। ছিলেন বোর্ড পরিচালক আকরাম খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদরাও।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই বৈঠক যে অনেকটা ফলপ্রসূ হয়েছে, তা বুলবুলের কথাবার্তায় বোঝা গেছে, ‘জিজ্ঞেস করেছি লজিস্টিক, অ্যাটায়ার, অনুশীলনের সুবিধা, মেডিকেল, ওভারঅল সাপোর্ট- আমরা কতটুকু করতে পেরেছি। তারা তাদের কথা মন খুলে লিখেছে, পরামর্শ দিয়েছে। সেখান থেকে আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের অবস্থান কোথায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের যে এজেন্ডা ছিল, এজেন্ডার বাইরে থেকে এসে ক্রিকেটাররা লাফিয়ে লাফিয়ে মাইক হাতে নিয়ে কথা বলছিল। মনের কথা প্রকাশ করছিল। এটাই সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার।’
মূলত এই আয়োজন বোর্ডের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য। সামনেও নিয়মিত বিরতিতে এমন পর্যালোচনার ব্যবস্থা করবেন আমিনুল, ‘ক্রিকেটাররা তো মাঠে খেলে, আমরা তাদের কতটা সাহায্য করছি, সেই সাহায্য করার জন্য এই মুহূর্তে কতটুকু গ্যাপ আছে, গ্যাপটা কবে ও কীভাবে পূরণ করতে পারবো যাতে ক্রিকেটাররা মাঠে নিশ্চিন্তে খেলতে পারে…। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতি তিন মাসে একবার করে এরকম বৈঠক করবো এবং আমাদের দিক থেকে খেলার যে জায়গাটি আছে, মানে উন্নতির জায়গাগুলো যা আছে, সেগুলো আমরা কীভাবে কাটিয়ে উঠে ওদেরকে সাহায্য করবো।’
বিসিবি সভাপতি বুলবুল আরও যোগ করেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার আমরা ভাবি ক্রিকেটাররা, মাঠে যারা খেলে। তাদের দেখভাল করা আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব বলতে শুধু ইন্স্যুরেন্স বা মেডিকেল নয়, মাঠে কোচরা যে স্কিল উন্নতিতে কাজ করেন, সেটিই সবকিছু নয়… এখানে লজিস্টিকস, পোশাক, পিচ কন্ডিশন, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা, সার্বিক সাপোর্ট আমরা কতটুকু করতে পারছি, সবকিছুই। তাদের মনের কথা তারা মন খুলে লিখেছে, পরামর্শ দিয়েছে সকলে। সেখান থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে কোথায় অবস্থান করছি। অবস্থান যেহেতু জেনে গিয়েছি, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।’
‘শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার’ প্রোগ্রামে ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো করে মতামত দিয়েছেন। কিছু বিষয়ের উপর ফাইন্ডিংসও দিয়েছেন। এসব নিয়ে বুলবুল বলেছেন, ‘তারা তাদের মতামত দিয়েছে। আমরা জরিপে রেখেছি ১ হচ্ছে বেশি ভালো নয়, ৫ হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। সেটা পর্যবেক্ষণ করে আমরা যেটা পেয়েছি, সেখানে তারা যা বলেছে, সেটির আউটকাম পেয়েছি এবং ওই জায়গায় আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে।’
আরও এক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘তারা শুধু মার্কিংই করেনি, তারা নিজেদের মনের কথা লিখেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, লেখার পরও আজকে এখানে এসে তাদের যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো শেয়ার করেছে। তাদের সাফল্যগুলো শেয়ার করেছে এবং তারা এটাও বলেছে যে, বিসিবি থেকে যে সাপোর্ট তারা পাচ্ছে, তাতে তারা খুশি। আরও কিছু জায়গা আছে, যেখানে আমাদের (বোর্ডের) উন্নতির জায়গা আছে। একটা ব্যাপার ভালো মনে হয়েছে যে, আমরা যে একটি দল… হারলে শুধু ক্রিকেটাররা হারে না, কর্মকর্তারাও হারে, সেটা আজকে আমরা বোঝাতে পেরেছি।’








