লম্বা সময় পর দলে ফেরা সাইফ হাসান দুই ওভারে ১৮ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের কার্যকরী ইনিংসে বাংলাদেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে সাইফ কৃতজ্ঞতা জানান জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রতি। দীর্ঘদিন তার অধীনে অনুশীলন করেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলে জানান সাইফ।
আজ সিলেটে ঐচ্ছিক অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, কাউকে খুব তাড়াতাড়ি আকাশে তুলবেন না, আবার হুট করে নামিয়েও দেবেন না।’
সাইফের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা হয়েছিল টেস্ট দিয়ে, যেখানে তাকে মূলত লম্বা ফরম্যাটের সম্ভাবনাময় ব্যাটার হিসেবেই বিবেচনায় এনেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি- ছয় টেস্টে একটিও অর্ধশতক না পাওয়ায় থেমে যায় তার টেস্ট ক্যারিয়ারের গতি।
এরপর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও প্রথম দিকটা ছিল হতাশাজনক। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনবারই শূন্য রানে আউট হন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি সাইফ। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন আনেন- উপরের দিকে তিন বা চার নম্বরে খেলতে শুরু করেন এবং ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও মনোযোগ বাড়ান। নিজের খেলা এবং ভাবনা বদলে আবারও ফিরতে শুরু করেন আলোচনায়।
২০২১ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর সাইফ কেবল এশিয়ান গেমসে সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার আবার ফিরেছেন শক্ত মানসিকতা আর ধৈর্যের জোরে। সালাউদ্দিনের চোখে এটাই সাইফের সবচেয়ে বড় অর্জন, ‘যেকোনও মানুষই যখন পিছিয়ে যায়, সেখান থেকে সবাই বেরিয়ে আসতে পারে না। যেহেতু ওর একটা তকমা ছিল টেস্ট ক্রিকেটার, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, এটা সবার ভেতরে থাকে না। উন্নতি তো করে যেতেই হবে। কিন্তু তার চেষ্টা ছিল। এটা সে নিজেই করেছে। নিজেকে অন্য জায়গায় দেখতে চেয়েছে।’








