ওয়ানডে ক্রিকেট কি তাহলে হারিয়ে যাবে? এমন বিতর্কের মধ্যেই বড় বার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। তার মতে, ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আছে, এমনকি এই ফরম্যাট আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। তবে সেজন্য ইচ্ছামতো আয়োজন করা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ইতি টানতে হবে! তার কথা হচ্ছে, ক্রিকেটকে শুধু টিকিয়ে রাখার চিন্তা নয়, বরং প্রতিটি ফরম্যাটকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।
ওয়ানডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন প্রশ্ন বাড়ছে, তখন গুপ্ত বলেছেন, প্রেক্ষাপটহীন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দিয়ে ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
পিটিআইকে সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘ইচ্ছামতো নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের যুগ শেষ করতে হবে। কারণ প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো বিষয় ছাড়া কোনো দেশই ক্রিকেটকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পারবে না। আর এসব নিশ্চিত করতে আর্থিক ও অন্যান্য-দুই ধরনের সম্পদেরই বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।’
তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের প্রতি মানুষের মনোযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে চারটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তার ভাষায়, ‘মনোযোগ ও সম্পৃক্ততা তৈরি করে যে চারটি বিষয়—প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা-সেগুলোর ওপর গুরুত্ব ধরে রাখা জরুরি। ফলে ওয়ানডেকে শুধু টিকে থাকলে হবে না, আরও বিকশিতও হতে হবে।’
ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুপ্তর দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রবৃদ্ধি। তার মতে, শুধু বর্তমান কাঠামো ধরে রাখাই কোনোভাবেই লক্ষ্য হতে পারে না।
বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও মর্যাদা যদি আধুনিক দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তোলা না যায়, তাহলে একসময় সেটিই বোঝা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা হতে হবে প্রবৃদ্ধি। আমাদের লক্ষ্য কখনোই শুধু বর্তমান অবস্থাটা ধরে রাখতে হবে- এমন হওয়া উচিত নয়।’
এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি, ‘কারণ এমন এক পৃথিবী যেখানে জনসংখ্যা বাড়ছে, মানুষের মনোযোগ নানা দিকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের সম্পৃক্ততা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে—আপনি যদি প্রবৃদ্ধি অর্জন না করেন, তাহলে আপনি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবেন।’
বিশ্বের নতুন নতুন বাজারে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টিই- আইসিসির প্রধান মাধ্যম বলে মনে করেন গুপ্ত। তবে এর বিস্তার যেন টেস্ট ও ওয়ানডের অর্থনীতি এবং দর্শক-সম্পৃক্ততার বিষয়টি আড়াল না করে, সেদিকেও নজর দিতে হবে, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রবৃদ্ধির জন্য আমাদের প্রধান হাতিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেটের মূল্য কিংবা দর্শকের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকে আমরা মনোযোগ দেবো না।’









