বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে সোবহানা মোস্তারির প্রতিভা নিয়ে আলোচনা বহুদিনের। সেই সম্ভাবনাকে অবশেষে বড় মঞ্চে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১০৭তম ম্যাচে এসে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো নারী ব্যাটারের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। ব্রিসবেনে ম্যাচটি বড় ব্যবধানে হারলেও এই অর্জন সফরকারীদের জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।
এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এশিয়ার কোনো ব্যাটারের মাত্র চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সোবহানার এই ইনিংস তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেঞ্চুরির পর নিজের উচ্ছ্বাস লুকাননি সোবহানা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সেঞ্চুরি নিয়ে ভীষণ খুশি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন একটি দলের বিপক্ষে ব্যাট করেছি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমাদের মধ্যে প্রথমবার কেউ সেঞ্চুরি করল।’
প্রথম ওয়ানডেতে যেভাবে আউট হয়েছিলেন, তা নিয়ে ভেবেছেন বলেও জানান তিনি। সোবহানা বলেন, ‘প্রথম ওয়ানডেতে যেভাবে আউট হয়েছিলাম, এরপর নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে ভেবেছি। কীভাবে ইনিংসটা লম্বা করা যায়, সেটা বুঝতে পেরেছিলাম। নিজের পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা করেছি। এরপর মাঠে নেমে নিজের শক্তির জায়গা অনুযায়ী খেলেছি।’
সোবহানাকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছিল কঠিন পরিস্থিতিতে। ইনিংসের অষ্টম ওভারে মাত্র ৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, তার ওপর তাদের মাটিতে এমন অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
তার পরেও সোবহানার আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে অন্য প্রান্তে থিতু হওয়ার সুযোগ পান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ৪৫তম ওভারে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান সোবহানা। মাইলফলক ছোঁয়ার মুহূর্তে উইকেটে থাকা দুই ব্যাটারই উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে ওঠেন।
সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জ্যোতির ধৈর্যশীল ৭৪ রানের ইনিংসেরও প্রশংসা করেছেন সোবহানা। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১৯৫ রানের জুটি বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ।
সোবহানা বলেন, ‘অধিনায়ক জ্যোতি আমাকে বলেছিল, অন্তত ৪০তম ওভার পর্যন্ত উইকেটে থাকতে। এরপর হয়তো আমরা শট খেলতে পারব। আমরা খারাপ বলের অপেক্ষায় ছিলাম, আর সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছি। ভালো বলকে দেখে শুনে খেলতে হয়েছে। জ্যোতি বারবার বলছিল, আমি সেঞ্চুরি করতে পারি। জ্যোতিও খুব ভালো খেলেছে। সে আমাকে সমর্থন দিয়েছে।’
ম্যাচের আগে তাদের পরিকল্পনা কী ছিল, সেটিও জানিয়েছেন সোবহানা। বড় সংগ্রহের চিন্তা না করে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘ওরা খুব ভালো বোলিং করছিল। প্রথম ওয়ানডেতেও আমাদের পরিকল্পনা ছিল পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করা। আজও একই পরিকল্পনা ছিল। আমি যখন ব্যাট করতে নামি, তখন আমরা তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। আমি বলের মেধা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি, পাশাপাশি নিজের শটও খেলেছি। এরপর ওভার ধরে ধরে নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগিয়েছি।’