২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৩টি বছর। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে খেলেছিলেন ২০০ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস। এরপর আরও তিন বাংলাদেশি ব্যাটার এই কীর্তি গড়েছেন। সর্বশেষ চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। তবে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির গল্পটি আজও মুশফিকের নামেই লেখা।
অথচ টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারবেন? ২০১৩ সালে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরের আগে ১৩ বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল এমন প্রশ্ন। শ্রীলঙ্কায় গল টেস্টেই প্রথমবারের মতো সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তার ব্যাট থেকেই এসেছিল বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।
একই ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুলও। ১৯০ রানে আউট হয়ে যান তিনি। ফলে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার।
টস জিতে সেই টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে ৫৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিকদের হয়ে সেঞ্চুরি করেন কুমার সাঙ্গাকারা, লাহিরু থিরিমান্নে ও দিনেশ চান্দিমাল। জবাবে বাংলাদেশ তোলে ৬৩৮ রান। মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডাবল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়ে টাইগাররা।
৪৩৭ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ২০০ রানের ইনিংসটি সাজান মুশফিক। তার ব্যাট থেকে আসে ২২টি চার ও একটি ছক্কার মার। একই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন নাসির হোসেনও। পরে অবশ্য সেই টেস্ট ড্র হয়েছে।
একবার দেখে নেওয়া যাক সেই ম্যাচের স্কোরবোর্ড
শ্রীলঙ্কা ৫৭০/৪ ডি. (সাঙ্গাকারা ১৪২, থিরিমান্নে ১৫৫*) ও ৩৩৫/৪ ডি. (দিলশান ১২৬, সাঙ্গাকারা ১০৫)
বাংলাদেশ ৬৩৮ (আশরাফুল ১৯০, মুশফিক ২০০, নাসির ১০০) ও ৭০/১ (জহুরুল ৪১*)