গঞ্জালো হিগুয়েনের দৈর্ঘ্য ছয় ফুট এক ইঞ্চি অন্যদিকে লিওনেল মেসির পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে আজ মেসি বাঁ পায়ের এক চোখ ধাঁধানো বাঁকে পুরোপুরি নিঃস্বার্থভাবে হিগুয়েনকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করে দিলেন, হিগুয়েন তা ঠেলে দিলেন ফাঁকা পোস্টে।
৭০,৫৮৫ দর্শকের সামনে হিগুয়েন তা উদযাপন করলেন কিভাবে? সাধারণত গ্যালারির দিকে, বা কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে বা নিজ ডাগআউটের দিকেই ছুটে যান গোলদাতারা। কিন্তু এর কোনওটি করলেন না হিগুয়েন। তিনি ছুটে গিয়ে কোলে তুলে নিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরকে। নিজ বুকেই রেখে দিলেন বেশ কিছুক্ষণ। এটি একসঙ্গে ভালেবাসা, কৃতজ্ঞতা আর স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। 'এল পিপিতা' ডাক নামের হিগুয়েন মেসির পাসেই যে গোল করেই চলেছেন।
২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার মাঠেও ঘটেছিল একই ঘটনা, নাইজেরিয়ার বক্সের সামান্য বাইরে থেকে স্পিনিং চিপ করে বক্সের মাঝে বল ফেলেন মেসি। চোখের পলকে কোনাকুনি শটে দূরের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন হিগুয়েন। ২৪ মিনিটে ৩-১ জয়ে দলের প্রথম গোলটি করেছিলেন হিগুয়েন। মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বাধিক গোল দাতাদের তালিকায় হিগুয়েন এখন ষষ্ঠ স্থানে। ওই ছয় জনের তালিকার মধ্যে শুধু মেসি-আগুয়েরো ও হিগুয়েন এখনও খেলছেন। বাতিস্তুতা, ক্রেসপো ও ম্যারাডোনা নিয়েছেন অবসর।
দলের যখন গোল প্রয়োজন তখনই গোল করার সুখ্যাতি রয়েছে হিগুয়েনের। বলা যায় তিনি হলেন 'ম্যান অব বিগ অকেশনস'।
আর্জেন্টিনা চলতি কোপা আমেরিকায় পাঁচ ম্যাচে এ পর্যন্ত গোল করেছে ১৮টি, চিলির যিপক্ষে ২-১, পানামার বিপক্ষে ৫-০, বলিভিয়ার বিপেক্ষে ৩-০, কোয়ার্টার ফাইনালে ভেনেজুয়েলাকে ৪-০ এবং আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-০। গ্রুপ ম্যাচে কোনও গোল করেননি হিগুয়েন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে দুটি করে গোল করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন তার যোগ্যতা।
সিরি আ'তে এবার দুরন্ত ফর্মে ছিলেন হিগুয়েন। নাপোলিকে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন করতে তিনি করেছেন ৩৬টি গোল। জিনো রসেতির ৮৭ বছরের পুরোনা রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। গোল করার যোগ্যতা তার রয়েছে সেটি প্রমাণ করার জন্য কোনও আলোচনার প্রয়োজন নেই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৯০ ম্যাচে তিনি করেছেন ১০৭ টি গোল। জিতেছেন তিনটি লা লিগা শিরোপা।
২০০৯ সাল থেকে আর্জেন্টিনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে আছেন হিগুয়েন। তবে আন্তর্জাতিক কোনও শিরোপা তো জেতেননি তিনি। মেসিও তো একই কাতারে! আগামী রবিবার হিগুয়েন ও মেসি দুজনেই তো তেঁতে থাকবেন, কারণ একটাই- ঘুচাতে হবে শিরোপা খরা।
/এমআর/








