গ্যালারিতে উঠলো উত্তেজনার ঢেউ। ন্যু ক্যাম্পের সেই ঢেউ উপচে পড়লো ফুটবলের সব অলিগলিতে। উত্তেজনা-রোমাঞ্চের যে আচের কথা বলা হচ্ছিল, তার সবই পাওয়া গেল বার্সেলোনা-অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মৌসুমের প্রথম দ্বৈরথে। জয়টাই কেবল পাওয়া হলো না ক্লাব ভক্তদের। উত্তেজনার চাদরে মোড়ানো ম্যাচটি যে শেষ হয়েছে ১-১ গোলের ড্রয়ে।
লা লিগার আগের ম্যাচে গোলের বন্যায় ভাসিয়েছিল দুদল তাদের প্রতিপক্ষদের। ন্যু ক্যাম্পে অবশ্য দেখা হলো না সে দৃশ্য। বরং আক্রমণ চালিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হয়েছে রক্ষণ প্রাচীরে ধাক্কা খেয়েছে। বার্সেলোনার ধাক্কার সংখ্যাটাই বেশি, বল পজেশন ৭০ ভাগ নিজেদের কাছে রেখেও কাজের কাজ করতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটেই অন্তত তিনবার হতাশ হতে হয়েছে তাদের অ্যাতলেতিকোর কড়া রক্ষণের সামনে। অবশেষে সেই বাধা দেয়াল ভাঙে ৪১ মিনিটে ইভান রাকিটিচের হেডে। ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারের লক্ষ্যভেদেই তো আনন্দের ঢেউ উঠে ন্যু ক্যাম্পে। কর্নার থেকে বল নিয়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ক্রস করেছিলেন অ্যাতলেতিকোর বক্সের ভেতর, ফাঁকায় থাকা রাকিটিচের মাথা ছুঁয়ে বল আশ্রয় নেয় জালে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ চালিয়েছে বার্সেলোনা। তেমনই এক আক্রমণের সময় বল হারিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ডিয়েগো গোদিনের সঙ্গে কাড়াকাড়ির সময় কুঁচকিতে নতুন করে চোট পান লিওনেল মেসি। এতটাই গুরুতর হয়ে দাঁড়ায় যে ৫৯ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি মাঠ ছাড়ার পর বদলি হয়ে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অ্যাতলেতিকোকে সমতায় ফেরান আনহেল কোরেরা। জেরার্দ পিকে ও হাভিয়ের মাসচেরানোর ভুলে তৈরি হওয়া জায়গায় ডান পায়ের মাপা শটে ৬১ মিনিটে বল জালে জড়ান এই আর্জেন্টাইন। শেষ দিকে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। যদিও নেইমারের বাঁ পায়ের শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন ইয়ান ওবলাক। বার্সা-অ্যাতলেতিকো ম্যাচটি শেষ করে তাই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।
আগের ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে রিয়াল মাদ্রিদও। বার্সার মতো মাদ্রিদের ক্লাবটিও ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে। সফরকারী ভিয়ারিয়াল প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে লিড নিয়েছিল ব্র“নোর লক্ষ্যভেদে। যদিও বিরতি থেকে ফেরার পর পরই রিয়ালকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক সের্হিয়ো রামোস। ৫ ম্যাচ শেষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল রিয়াল, ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে সেভিয়া। ১০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে বার্সেলোনার পরই অ্যাতলেতিকো (৯ পয়েন্ট)।
/কেআর/







