প্রস্তুত কলসিন্দুরের দ্বিতীয় প্রজন্ম

রায়হান মাহমুদ
১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:৩৭আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:৩৭

 

কলসিন্দুরের ফুটবল দল সানজিদা ও মার্জিয়ারা জুনিয়র হলেও তারাই হয়ে উঠেছে মূল নারী দলের মেরুদণ্ড। কিন্তু এখানেই থেমে থাকছে না কলসিন্দুর। তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মও তৈরি।

ময়নসিংহের গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ছোট্ট গ্রাম ‘কলসিন্দুর’। শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে ধোবাউড়া উপজেলার গামারিতোলা ইউনিয়নে অবস্থিত এক প্রত্যন্ত গ্রাম। আাধুনিক জীবনযাত্রার অনেক কিছুই এখানে এখনও অচেনা অজানা, তবে একদিকে তারা এখন দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। মেয়েদের ফুটবল দিয়ে দেশ তো বটেই, বিদেশেও ছড়িয়ে গেছে এই গ্রামের সুনাম। 

এই গ্রামে নাকি ভোর হয় পাখির কল-কাকলি আর ফুটবলের শব্দে। যারা ফুটবল খেলে তাদের বেশিরভাগই মেয়ে। ফুটবল খেলে তাদের পাশের বাড়ির মেয়েরাই তো আজ ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত নামে পরিণত হয়েছে। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে সমস্যা কোথায়! এটিই তাদের বড় অনুপ্রেরণা।

২০১১ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা গোল্ড কাপে প্রথম দেখা যায় কলসিন্দুরের ঝলক। প্রথম ম্যাচে মাঠের চারদিকে হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলতেই চায়নি মেয়েরা। তবে শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় তারা মাঠে নেমে ছিনিয়ে নেয় জয়, সেই শুরু তাদের পথচলা। ময়মনসিংহ জেলায়ই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। এরপর এই গ্রাম থেকেই বেরিয়ে আসে মার্জিয়া আকতার, সানজিদা আকতার, নাজমা আখতার, শিউলি আজিম. মারিয়া মান্ডা, মাহমুদা আকতার, লোপা আখতার, তাসলিমা আকতার ও তহুরা খাতুন। এরাই ২০১৫ সালে নেপালে এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে ইরান ও ভারতকে হারিয়ে জেতে শিরোপা। আর এর ধারাবাহিকতায় তারাই এ বছর ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ বাছাইপর্বেও গ্রুপ সি তে চ্যাম্পিয়ন হয়। থাইল্যান্ডে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বের টিকেট পায় তারা।

সানজিদা ও মার্জিয়ারা জুনিয়র হলেও তারাই হয়ে উঠেছে মূল নারী দলের মেরুদণ্ড। কিন্তু এখানেই থেমে থাকছে না কলসিন্দুর। তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মও তৈরি। চলতি জেএফএ কাপ মহিলা অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের ফাইনাল পৌঁছেছে ময়মসনসিংহ। আঞ্চলিক পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই এ দলটি চূড়ান্ত পর্বে এসেছে। বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে ময়মনসিংহ লড়বে রংপুরের বিপক্ষে। অবাক হওয়ার কিছু নেই, ময়মনসিংহের পুরো দলটিই কলসিন্দুরের মেয়েদের দিয়ে তৈরি। টুর্নামেন্টে দাপটেই  খেলছে তারা। সবাই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।

দলের ফরোয়ার্ড সাজেদা, আমেনা ও রোজিনা। মার্জিয়ার ছোট বোন তানিয়া, সেলিনা, ময়না, রুপা, শামসুন্নাহার মিডফিল্ডার; সাবরিনা ইয়াসমিন খেলেন ডিফেন্সে। বড় বোন মার্জিয়াকে দেখেই ফুটবলে আসা তানিয়ার। ‘আমি মার্জিয়ার মতো খেলতে চাই, জাতীয় ফুটবলার হতে চাই’- সোজা কথা তানিয়ার। 

কোচ মকবুল হোসেনও দৃঢ় প্রত্যয়ী, ‘সানজিদা, মারিয়াদের প্রতিভার তুলনায় পিছিয়ে নেই এরা। এই দলটিও যাবে অনেকদূর। এখনও এই দলটি ফুটবলের উন্নত প্রশিক্ষণ পায়নি, তারা শুধু জানে মৌলিক বিষয়গুলো। ভবিষ্যতে উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে এরাও তাদের অগ্রজদের ছুঁয়ে ফেলবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।’

/এফএইচএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম