মাত্র এক গোল হলেও পুরো ম্যাচে ছিল তীব্র লড়াই, টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে তারা হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে। আগামী শনিবার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ আরামবাগ।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগ পেয়েছে রহমতগঞ্জ। কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল রানার গ্লাভস থেকে বেরিয়ে আসা বলে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়েছেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ হেলাল। পরের মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ক্রস থেকে ফরোয়ার্ড জাফর ইকবালের হেড চলে যায় গোলপোস্টের বাইরে।
৪০ মিনিটে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। চট্টগ্রাম আবাহনীর ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরার ক্রস রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক গোলাম মোস্তফা তুয়ানের গ্লাভস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। গোললাইন থেকে বুক দিয়ে ফেরাতে গিয়ে বল ডিফেন্ডার মোজাম্মেল হোসেন নিরার হাতে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে রেফারি সুজিত ব্যানার্জির পেনাল্টির বাঁশি।
কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবু। ডাগ আউট ছেড়ে মাঠে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তিনি, এক পর্যায়ে মাঠ ছেড়ে চলে আসতেও বলেন খেলোয়াড়দের। কামাল বাবুকে রেফারি মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে সহকারী রেফারির সঙ্গে আলোচনা করে রহমতগঞ্জের কোচকে ডাগ আউটে থাকার অনুমতি দেন সুজিত ব্যানার্জি। প্রায় ১০ মিনিট পর খেলা শুরু হলে পেনাল্টি থেকে গোল করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনি।
দ্বিতীয়ার্ধে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও রহমতগঞ্জ গোল করতে পারেনি। ৬২ মিনিটে সাদ্দাম হোসেন অ্যানির বাড়ানো ক্রস থেকে নাইমুর রহমান শাহেদের হেড ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক আশরাফুল রানা। ৯ মিনিট পর চট্টগ্রাম আবাহনীর সামনে রীতিমতো ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। সোহেল রানাকে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় রহমতগঞ্জ। কিন্তু মোহাম্মদ ইলিয়াসের জোরালো শট দৃঢ়তার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন রানা। ৭৭ মিনিটে রহমতগঞ্জের জন্য আরেকটি আঘাত। অ্যানি দ্বিতীয় হলুদ দেখে বেরিয়ে গেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় পুরোনো ঢাকার দলটি। শেষ দিকে রনি আর আব্দুল্লাহ দুটো সুযোগ নষ্ট করলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় চট্টগ্রাম আবাহনীকে।
খেলা শেষে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেছেন, ‘আরামবাগ ভালো দল, তারা নকআউট পর্বে ভালো খেলছে। ফাইনালে দারুণ লড়াই হবে।’
অন্যদিকে রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবুর কণ্ঠে ছিল হতাশা, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারিনি। গোলটা হলে ম্যাচের চেহারাই পাল্টে যেতো।’







