অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে অনেকবারই মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। তবে শনিবারের অনুভূতিটা ছিল তার অন্যরকম। পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার নেমেছিলেন তিনি বার্সেলোনার জার্সিতে। সত্যিকার অধিনায়কের মতো নেতৃত্ব দিয়ে এবারের লা লিগার উদ্বোধনটা রাঙিয়ে দিয়েছেন কাতালানদের। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের জোড়া লক্ষ্যভেদে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা।
ফ্রি কিক থেকে করেছেন প্রথমটি, অন্যটি মেসি করেছেন বক্সের ভেতর থেকে। তার এই দুই গোলের মাঝে স্কোরশিটে নাম তোলেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। প্রথমার্ধ গোলহীন থাকার পরও তাই বড় জয় দিয়েই ২০১৮-১৯ মৌসুমের লা লিগা শুরু করলো বার্সেলোনা।
ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচের শুরু থেকেই আলাভেসের রক্ষণে আক্রমণ চালিয়েছে বার্সেলোনা। শুরুর দিকেই গোল পেয়ে যেতে পারতেন মেসি, যদিও তার ডান পায়ের শট চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে। তবে প্রথমার্ধে সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিল বার্সেলোনা ৩৮তম মিনিটে, সেখানেও যথারীতি ছিলেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের নেওয়া ফ্রি কিক বারে লেগে ফিরে এলে গোল উৎসব করা হয়নি স্বাগতিকদের।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে এই ফ্রি কিক থেকেই এবারের লা লিগায় গোলের খাতা খোলেন মেসি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে বোনা বানিয়ে করেছেন চমৎকার এক গোল। আলাভেস ডিফেন্ডারদের তৈরি করা মানবদেয়ালের ওপর দিয়ে না মেরে নিয়েছিলেন মাটি গড়ানো ফ্রি কিক, সবাই লাফ দিলে তাদের পায়ের নিচ দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে।
এই গোলেই হয়ে যায় আরেকটি রেকর্ড। লা লিগা ইতিহাসের ৬ হাজারতম গোলটি আসে মেসির পা থেকে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যেতে পারতেন খানিক পরই, কিন্তু আবারও হতাশ করে তাকে বারপোস্ট।
দ্বিতীয় গোলের জন্য তাই বার্সেলোনাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৩ মিনিট পর্যন্ত। কৌতিনিয়োর ডান পায়ের বাঁকানো শটে আসে দেখার মতো এক গোল। আর দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয়বার স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি। লুই সুয়ারেসের পাস বক্সের ভেতর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও ফাঁকা রক্ষণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।








