সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এলেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা বুনতে থাকেন স্বপ্ন, ২০০৩ সালের পর আবারও ট্রফি জয়ের। ঘরের মাঠের এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা কতটা? যার অধীনে এসেছে একমাত্র শিরোপাটি, সেই অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দিয়েছেন তার মতামত।
‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ হিসেবে অভিহিত সাফ ফুটবলের শিরোপা বাংলাদেশ জিতেছে একবারই। ২০০৩ সালের পর মাঝে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা চলে গেলেও সাফল্য আর আসেনি। সেবার জর্জ কোটানে হাত ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব জিতেছিল লাল-সবুজের দল। তার দীর্ঘমেয়াদি কোচিংয়ে রজনী-আরমানরা ঘরের মাঠে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে জিতেছিল শিরোপা। সময়ের পরিক্রমায় নিজেদের মাঠে আরেকটি সাফ ফুটবল শুরুর অপেক্ষা।
সামনের মাসের এই প্রতিযোগিতা শুরুর আগে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন কোটান। সাফের আগে ফুটবলে দারুণ সময় পার করেছে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে। ইন্দোনেশিয়ার আসরে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব খেলেছে বাংলাদেশ। খবরটা শুনেই ভীষণ উচ্ছ্বসিত কোটান, ‘এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে শুনে বেশ ভালো লাগছে। আমি বর্তমান দলকে শুভকামনা জানাচ্ছি যেন সাফে ভালো করতে পারে। সঙ্গে এই আসরে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তারপরই মনে করিয়ে দিলেন সাফ ফুটবলের ট্রফি জেতা বেশ কঠিন। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেরই এই ট্রফি জেতার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সাদা-পাকা চুলের এই কোচ বললেন, ‘সব কোচেরই তার দল নিয়ে আশাবাদী হওয়া উচিত। কিন্তু কীভাবে সাফ জেতা সম্ভব হবে, আগে থেকে বলা কঠিন। আমার কাছে মনে হয় সবার জন্য এই ট্রফি উন্মুক্ত, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।’
বাংলাদেশ দলের মূল সমস্যা হিসেবে স্ট্রাইকার সংকটকে সামনে এনেছেন কোটান। তার কথায়, ‘বাংলাদেশের সমস্যা হলো স্ট্রাইকার সংকট। ভালো স্কোরার নেই। লিগে এই পজিশনে বেশিরভাগই খেলে বিদেশি স্ট্রাইকার, যে কারণে দেশি খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ কম থাকে। এতে করে উন্নতি করতে পারে কম।’
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান। কোটান গ্রুপ নিয়ে বলেছেন, ‘নেপাল ও পাকিস্তান বিপজ্জনক হতে পারে। সেমিফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে।’








