ফরোয়ার্ডের ব্যর্থতায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সাফ ফুটবলের পর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপেও দেখা গেছে একই দৃশ্য। অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারাতে হয়েছে কিংবা পোস্ট ঘেঁষে বল গেছে বাইরে। ব্যর্থতার এই চিত্রে কোচ জেমি ডে ফরোয়ার্ডের মান উন্নয়নে আবারও ঘরোয়া ফুটবলে জোর দেওয়া কথা বলেছেন।
ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশিদের দাপটের সামনে স্থানীয় খেলোয়াড়দের একটি অংশের খেলার সুযোগ কমে যায়, বিশেষ করে ফরোয়ার্ড পজিশনে। বিদেশিরাই ফরোয়ার্ডে দাপট দেখান বেশি। গত কয়েক মৌসুমে তারাই শীর্ষ গোলদাতা। যার প্রভাব এসে পড়েছে জাতীয় দলে।
গতবার তবু তিন বিদেশি খেলানোর সুযোগ ছিল, আর এবার একাদশে খেলতে পারবেন চার বিদেশি। বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে চাইছেন স্থানীয় স্ট্রাইকাররা যেন বেশি খেলার সুযোগ পান। বাংলা ট্রিবিউনকে এই ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘ঘরোয়া ফুটবলে একজন বিদেশির জায়গায় যদি স্থানীয় খেলোয়াড় সুযোগ পায়, এছাড়া অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ের একজন খেলোয়াড় থাকে, তাহলে ভালো। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের স্ট্রাইকারদের লিগ খেলার সুযোগ করে দিতে হবে।’
সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, ‘আমরা অনেক সুযোগ পাচ্ছি কিন্তু গোল হচ্ছে না। প্রতিপক্ষের বক্সে গিয়ে সব কিছু পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আমার কথা হলো, সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশি কোটা কমাতে হবে। দেশি খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলাতে অভ্যস্ত হবে, আরও অভিজ্ঞ হবে, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। এটা আমার জন্য বলা সহজ, কিন্তু আমি তো কর্মকর্তা নই।’
জেমির আরও চাওয়া, জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস যেমন ছিল, তেমনটি ক্লাবে গিয়েও থাকুক। বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে আশার বাণী, ‘ইতিমধ্যে কয়েকটি ক্লাব যোগাযোগ করেছে। তারা জাতীয় দলের মতোই ক্লাবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস রাখতে চাইছে। আশা করছি এ দেশের ফুটবল উন্নয়নে সবাই এগিয়ে আসবে।’
এশিয়ান গেমস, সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে দুই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে এই কোচের। যেখানে হতাশার সঙ্গে আছে আশার আলোও, ‘তিনটি প্রতিযোগিতায় আমার অভিজ্ঞতা খারাপ নয়। ভালো মুহূর্ত বেশি। কিছু হতাশার চিত্রও আছে। যদি আমি পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে নিজেকে সুখী মনে হয়।’
রবিবার ইংল্যান্ডে ছুটি কাটাতে যাবেন জেমি। ফিরে এসে ফেডারেশন কাপ দেখার কথা রয়েছে তার। যেখান থেকে নভেম্বরের প্রীতি ম্যাচের জন্য দল গঠন করার পরিকল্পনা তার, ‘যারা ভালো করবে তাদের জাতীয় দলে ডাকা হবে। যে গোল করবে তাকেই বিবেচনায় রাখা হবে।’








