রাশিয়া বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেরে সামনে চোখ এখন ব্রাজিলের। লক্ষ্য ২০১৯ সালের ঘরের মাঠের কোপা আমেরিকা। তারই প্রস্তুতি হিসেবে এবার উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে সেলেসাওরা। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় আর্সেনালের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার দল দুটি।
কোপা আমেরিকা আসতে এখনও অনেকটা সময় বাকি। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) বিশ্বকাপের পর থেকেই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঘরের মাঠের এই প্রতিযোগিতায় উরুগুয়ে তাদের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই তাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের পরখ করে নিতে চেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এই প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে দলের নিয়মিত তিন সদস্যের চোটে।
উরুগুয়ের বিপক্ষে স্কোয়াডে থাকলেও চোটের কারণে ছিটকে গেছেন লেফটব্যাক মার্সেলো ও দুই মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়ো ও কাসেমিরো। তাদের হারিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কোচ তিতের কপালে। প্রীতি ম্যাচ হলেও উরুগুয়ের বিপক্ষে দলের অবস্থা ভালোমতে দেখার সুযোগ হলো না তার।
তবু ‘লা সেলেস্তেদের’ বিপক্ষে ফেভারিট ব্রাজিল। রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলটি আছে জয়ের পথে। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলার পথে রাশিয়ার আসরের পর চার ম্যাচের সবকটিতে তো জিতেছেই, সঙ্গে হজম করেনি কোনও গোল।
উল্টো অবস্থা উরুগুয়ের। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর মেক্সিকোর বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলেও পরের দুই ম্যাচে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। ব্রাজিলের বিপক্ষে লন্ডনের ম্যাচটি তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ। তবে কৌতিনিয়ো-মার্সেলো-কাসেমিরো না থাকলেও ব্রাজিলের স্কোয়াডে থাকা বিশ্ব মানের সব খেলোয়াড়ের বিপক্ষে কাজটা তাদের কঠিনই।
ব্রাজিলকে আটকানোর ছকই কষছেন ‘লা সেলেস্তে’ কোচ অস্কার তাবারেস, ‘আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যাদের দলে আছে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় ও যারা রয়েছে ফর্মের তুঙ্গে। আমরা তাদের আটকানোর চেষ্টা করব এবং নিজেরা ভুল না করে সুযোগ তৈরি করব।’
তবে খুব একটা স্বস্তিতে নেই ব্রাজিলও। কেননা তাদের রক্ষণভাগকে মোকাবিলা করতে হবে এখনকার ফুটবলের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকার লুই সুয়ারেস ও এদিনসন কাভানিকে। ক্লাব ফুটবলে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন তারা। কাভানির ক্লাব প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের সতীর্থ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকিনুস বলেছেন, ‘সুয়ারেস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না, তবে আমি বিশ্বাস করি সে ও কাভানি একই ধরনের খেলোয়াড়। ওরা উরুগুইয়ান ধাঁচের খেলোয়াড়, যাদের বিপক্ষে বল হারানো মারাত্মক ভুল।’








