শেষ এক ঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলেও বার্সেলোনার মাঠে দারুণ লড়াই করেছিল অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। গোলরক্ষক জ্যান ওবলাকের বীরত্বে পয়েন্ট নিয়ে ন্যু ক্যাম্প ছাড়ার ইঙ্গিত দেয় তারা। কিন্তু শেষ দিকে লুই সুয়ারেস ও লিওনেল মেসির গোলে ২-০ তে জিতেছে কাতালান জায়ান্টরা।
এই জয়ে অ্যাতলেতিকোর চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গেলো বার্সা। ৩১ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা শিরোপা ধরে রাখার পথে বড় ধাপ ফেললো তারা। সমান খেলে ৬২ পয়েন্টে দ্বিতীয় মাদ্রিদ ক্লাব।
প্রথম আক্রমণ আসে অ্যাতলেতিকোর কাছ থেকে। ৯ মিনিটে ডিয়েগো কস্তার শট চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। তবে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে বার্সা। ১৪ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল দখলে নেন জোর্দি আলবা। সামনে কেবল ওবলাক থাকায় তার মাথার উপর দিলে বল তুলে দেন। কিন্তু গোলপোস্টে আঘাত করে বল।
এরপর অ্যাতলেতিকোর স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সব সেভে বার্সাকে ব্যর্থ করতে থাকেন। অবশ্য প্রথমার্ধে তাকে বড় কোনও পরীক্ষা দিতে হয়নি। ২০ মিনিটে ডিয়েগো গোদিনের বাধায় বল গোলবারের উপর দিয়ে মারতে বাধ্য হন সুয়ারেস। তিন মিনিট পর ২৫ গজ দূর থেকে ফ্রি কিক নেন মেসি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।
ফিলিপ্পে কৌতিনিয়োকে ২৮ মিনিটে চমৎকার সেভে রুখে দেন ওবলাক। এরপরই রেফারির সঙ্গে বাজে আচরণ করে লাল কার্ড দেখেন কস্তা।
২৮ মিনিটে ১০ জন হওয়ার পর আক্রমণে গতি হারাতে থাকে অ্যাতলেতিকো। বিরতিতে যাওয়ার এক মিনিট আগে মেসিকে সহজে রুখে দেন ওবলাক। তাতে গোলশূন্য থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
বিরতির পর বার্সা মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায়। কিন্তু অ্যাতলেতিকোর দুর্দান্ত রক্ষণভাগ সেটা সামাল দিতে না পারলেও গোলপোস্টের নিচে দেয়াল গড়ে তোলেন ওবলাক। ৫৬ মিনিটে মেসির শট রুখে দেন তিনি। এরপর ৬২ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের পাস থেকে সুয়ারেসের জোরালো শট পা দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর আবারও মেসিকে ঠেকান ওবলাক।
৬৯ মিনিটে পরপর দুইবার বার্সার চেষ্টা ব্যর্থ করেন তিনি। মেসির শট ফিরিয়ে দেওয়ার পর ম্যালকমের ফিরতি শট রুখে দেন ওবলাক। দারুণ সব সেভের পর তিনি পরাস্ত হন ম্যাচের শেষ দিকে।
৮৫ মিনিটে আলবার পাসে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বাঁ দিক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন সুয়ারেস। বাঁ দিকে ডাইভ দিয়েও বল রুখতে পারেননি ওবলাক। এক গোল হজমের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিগুণ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে অতিথিরা। পরের মিনিটে মাঠের বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে যান মেসি। বক্সের মধ্যে গিমেনেজ তাকে আটকে দিলেও বল কেড়ে নেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, তারপর গোদিনের সামনে দিয়ে নিচু শটে গোল করেন।
এই জয়ে মেসি ভেঙেছেন লা লিগার একটি রেকর্ড। স্প্যানিশ লিগে এটি ছিল তার রেকর্ড ৩৩৫তম জয়। গোল ডটকম








