দেশের ফুটবলে অনেকটা দাপট দেখিয়েই চলছিল দুই ক্লাব শেখ জামাল ধানমণ্ডি এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) ফুটবল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী খেলা চালানো, বৃষ্টির দিনে খেলা আয়োজন না করা, ক্লাবগুলোর পাওনা পরিশোধের দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিদ্রোহ করে আসছিল। এবার তাদের সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের আরও তিনটি ক্লাব।এবার বাফুফের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে তারা।
একজোট হয়ে হুমকিও দিয়েছে বিদ্রোহী ক্লাবগুলো। তাদের দাবি পেশাদার ফুটবল লিগ কমিটি পুনর্গঠন না করলে দলবদলে অংশ নেবে না তারা। শনিবার ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ক্লাব সমিতির বৈঠক শেষে এই হুমকি দেয় ক্লাবগুলো।
ক্লাব সমিতি ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী হেলাল, মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ব্রাদার্স ইউনিয়নের আমের খান ও বিজেএমসির মজিবর রহমান মল্লিক।
সভায় মনজুর কাদের বলেন, ‘ক্লাব ছাড়া ফুটবল ফেডারেশনের দাম নেই। বাফুফে আমাদেরকে কোর্ট-কাচারি দেখাচ্ছে। শেখ জামাল চ্যাম্পিয়ন টিম। কিন্তু বাফুফের কতিপয় কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ক্লাবকে ভেঙে দিতে চায়। তাদের নিরপেক্ষ হতে হবে। টেবিলে কোনও খেলা চলবে না। সালাউদ্দীন সাহেব জেলায় যেতে চান না। তিনি এএফসি ফিফায় যেতে চান। এএফসি ফিফা থেকে যে অনুদান পাওয়া গেছে, তা থেকে গত সাতটি বছরে সাতটি ডলারও ফুটবল উন্নয়নে খরচ হয়নি। এই টাকা কোথায় গেলো? আমরা হিসাব চাই। ফিফা এএফসি বছরে ৫ লাখ ডলার অনুদান দেয়। এই টাকার হদিস নেই।’
মনজুর কাদের আরও বলেন, ‘একাডেমি চালুর আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাস্টার প্ল্যান করা উচিত ছিল। এই কমিটি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী খেলা চালাতে পারছে না। বাফুফের বর্তমান কমিটির কাজী নাবিল আহমেদ ও তাবিথ আউয়াল ছাড়া আর কোনও কর্মকর্তা ফুটবলের জন্য একটি টাকাও খরচ করেন না। বৃষ্টির মধ্যে খেলা চালিয়ে ফুটবল নয়, হাডুডু কুস্তি চলে।’
এসময় লিগ কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘লিগ কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের পাওনা টাকা না দিয়ে বাফুফে আমাদের সঙ্গে চিটিং করেছে। আমরা কারও চাকরি করি না। বাফুফে লিগ কমিটি পুনর্গঠন ও পাওনা টাকা না দিলে আমরা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে দল বদলে অংশ নেবোনা।’
তিনি এসময় বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দীনকে নিয়ে বলেন, ‘এই সালাউদ্দীনকেই বিগত নির্বাচনে চরম ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য গুণ্ডামি করেছিলাম। তারই প্রায়শ্চিত্ত করছি এখন শোকজ পেয়ে। ক্লাব সমিতির সভাকে বানচাল করার জন্য সালাউদ্দীনরা উঠে পড়ে লেগেছেন।’
শেখ রাসেলের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী হেলাল বলেন,‘ বাফুফের কারও সঙ্গে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই। সবাই আমাদের বন্ধু ও সহকর্মী। কিন্তু ফেডারেশনের মধ্যে যেভাবে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করে নোংরামি করা হয়েছে তা নজিরবিহীন। কাদের ও লোকমান সাহেবকে শোকজের নিন্দা জানাই আমি। ফুটবলের উন্নতি চাইলে এ থেকে সরে আসতে হবে বাফুফেকে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করতে হবে। ক্লাব ছাড়া ফুটবল ফেডারেশনের কোনও মূল্য নেই।’
/আরএম/এফআইআর/








