মেয়েদের বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সাফল্য অনেক। কিন্তু সিনিয়রদের বেলায় এই সাফল্য আবার সোনার হরিণ। কারণটা হলো মেয়েদের ফুটবলের পেশাদার চর্চার জায়গাটা কম। কোনও লিগই যদি না হয়, আর্থিক নিরাপত্তা যদি আপনি নারী ফুটবলারদের না দিতে পারেন, তাহলে উন্নতির চাকাটা থমকে যায়। একটা জায়গায় গিয়ে আটকে যেতেই হয়। তাই বারবার আলোচনায় আসছিল স্থায়ীভাবে মেয়েদের লিগ আয়োজনের বিষয়টি। নানা অজুহাতে লিগ শুরু করতে গড়িমসি করা হচ্ছিল।
অবশেষে নতুন বছরের প্রথম মাসের শেষদিন, ৩১ জানুয়ারি থেকে লিগ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এই লিগটা মাঠে গড়ানোর কথা ছিল গত অক্টোবরে। এর আগে একমাত্র লিগটা হয়েছিল ২০১৩ সালে।
এবারের লিগে অংশ নেবে মাত্র পাঁচটি দল। ১১ থেকে ২৬ জানুয়ারি হবে দলবদল। পেশাদার লিগে খেলা ১০টি ক্লাবই এতে নেই! বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল,শেখ রাসেলের পাশাপাশি দুই নবাগত দল এফসি উত্তরবঙ্গ এবং বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং নাম নিবন্ধন করেছে। আর এদের নিয়েই শুরু করবে বাফুফে ।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দুই লেগে হবে এই লিগ। থাকছে না কোনও পুল প্রথা। আজ বৃহস্পতিবার লিগের নতুন দিনক্ষণ নির্ধারণী সভা শেষে বাফুফের মহিলা উইং কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার বলেছেন, ‘এবার লিগ হবেই। আমরা আপাতত পাঁচ দল নিয়ে লিগ আয়োজন করবো। এতে করে খেলোয়াড়রা কিছু অর্থ পাবে। এছাড়া তারা বেশ কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।’
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে লিগ না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহফুজা অসহায়ের মতো বলেছেন, ‘কী করবো বলুন। অনেকেই মেয়েদের লিগ খেলতে আগ্রহী না। আমরা তো কম চেষ্টা করছি না। জেলা, ক্লাবসহ অনেক সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সেভাবে সাড়া পাইনি। পাঁচটি দল পেতেই অনেক বেগ পেতে হয়েছে।’
তবে আগামীতে মেয়েদের লিগ ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করতে আগ্রহী বাফুফে। মাহফুজা বলেন, ‘নতুন বছরে দুটি লিগ করবো আমরা। জানুয়ারির পরে সেপ্টেম্বরে হবে আরও একটি লিগ। তখন হয়তো অন্য ক্লাবগুলোকে আমরা পাশে পাবো।’
জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন লিগ শুরুর খবর শুনে বেশ খুশি, ‘অনেক দিন ধরে হবে হবে করেও হচ্ছিল না লিগ। এখন লিগ শুরুর তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। আমরা খুশি। যেসব খেলোয়াড়েরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, তাদের সামনে এখন খেলার সুযোগ এসেছে।’







