ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের মাঝখানে গিয়ে শেখ জামালের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন করতালি দিলেন রেফারিদের উদ্দেশে। না, তিনি তাদের অভিনন্দন জানাননি। আসলে করেছেন কটাক্ষ। রেফারির এক সিদ্ধান্তেই যে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি গেছে ঘুরে! সাইফ স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে ১-১ ড্রতে হতে যাওয়া ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-১-এ হেরে বিদায়ই নিতে হলো শেখ জামাল ধানমন্ডিকে।
সাইফ স্পোর্টিং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টিভিএস-ফেডারেশন কাপের নকআউট পর্বে নাম লেখালো। তাদের পয়েন্ট দুই ম্যাচে চার। আর সমান সংখ্যক ম্যাচে শেখ জামালের এক পয়েন্ট। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
৩০ ডিসেম্বর ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী লিমিটেড মুখোমুখি হবে রহমতগঞ্জের। পরের দিন সাইফ লড়বে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ পুলিশ এফসির সঙ্গে।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ মুখর ফুটবল খেলেছে। প্রথম দুটি গোল এসেছে ১৪ মিনিটের মধ্যে। ম্যাচের ৯ মিনিটে ওমর জোবের শেখ জামালকে এগিয়ে নেন। তিন মিনিট পর সাইফ ম্যাচে সমতা ফেরায়। বক্সের বাইরে থেকে ইয়াছিন আরাফাতের জোরালো শট ডিফেন্ডার কেষ্ট কুমারের শরীরে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
প্রথমার্ধের বাকি সময় এই স্কোরলাইন নিয়েই ড্রেসিংরুমে যায় দুই দল। বিরতির পর আক্রমণ করেছে দুই দলই।কিন্তু গোল পেয়েছে সাইফ। তবে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ৮১ মিনিট পর্যন্ত। পরের মিনিটে ‘বিতর্কিত’ পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় সাইফ। তাজিক খেলোয়াড় জাহাঙ্গীর এরগাসেভ পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন।
ইনজুরি সময়ে সাইফ তৃতীয় গোল পায়। কিরগিজ খেলোয়াড় মুরোলিমজন আখমেদভ জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে শেখ জামালকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাইফের কোচ মোহাম্মদ নিজাম বলেছেন, ‘ম্যাচটি সহজ ছিল না। ছেলেরা খুব দ্রুত আমার ট্যাকটিস ধরে খেলতে পেরেছে। এতে আমি খুশি।’
শেখ জামালের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেফারিং নিয়ে, ‘বাজে রেফারিং আজ আমাদের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় করে দিলো। পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। ওটা কোনমতেই পেনাল্টি ছিল না। এমন বাজে রেফারিং কোনমতেই আশা করা যায় না।’








