আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। তাই অংশগ্রহণকারী ১৩টি দল নিজেদের মতো করে অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত। এরমধ্যে শিরোপা প্রত্যাশী দল কিন্তু খুব বেশি নয়। শীর্ষস্থানীয় দলগুলোই ফেবারিট। তাদের নিয়েই বাংলা ট্রিবিউনের ধারাবাহিক আয়োজন। আজ থাকছে আবাহনী লিমিটেডকে নিয়ে-
ঢাকা আবাহনীর দুশ্চিন্তা কম নয়। ঘরের মাঠে এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের প্রথম ম্যাচে হারতে হারতে ড্র করেছে মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের সঙ্গে। মালদ্বীপে ফিরতি লেগ জিততেই হবে। জিতলেই প্লে-অফ পর্বের টিকিট নিশ্চিত। এএফসি কাপের পাশাপাশি আবাহনীকে ঘরোয়া ফুটবল নিয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি মালেতে খেলে এসে প্রিমিয়ার লিগে মনোযোগ দিতে হবে।
আবাহনী এবার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে চায়। গতবার বসুন্ধরা কিংসের কাছে ট্রফি হারিয়েছিল। শুরু থেকে সমান তালে পাল্লা দিলেও একপর্যায়ে এসে খেই হারিয়ে ফেলে, বসুন্ধরার কাছে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ দুই ম্যাচেই হেরে যায়। পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান রেখে অস্কার ব্রুজনের দল জিতেছিল ট্রফি।
প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী সবচেয়ে সফল, ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন। এর মধ্যে প্রথম তিনবার শিরোপা জিতে হ্যাটট্রিকও করেছে। আবাহনীতে আছেন মারিও লেমোসের মতো সফল কোচ। গতবার তার অধীনে এএফসি কাপের আঞ্চলিক সেমিফাইনালে উঠেছিল দল, ঢাকায় উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সবাইকে। যদিও পিয়ংইয়ংয়ে গিয়ে পেরে ওঠেনি।
আবাহনীর এবারের দলটি শক্তিশালী। দুই ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও আতিকুর রহমান ফাহাদ চলে গেলেও নাসির উদ্দিন ও মোহাম্মদ সোহেল রানা এসেছেন। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যেও বদল এসেছে। আফগানিস্তানের মাসিহ সাইগানি নেই। ব্রাজিলিয়ান মেলসন আলভেজ এসেছেন। কিরগিজস্তানের বেরহার্ট এডগার ও মিশরের আলা এলদিন নাসেরকেও লিগে দেখা যাবে। দুই পরীক্ষিত নাইজেরিয়ার সানডে চিজোবা ও হাইতির কেরভেন্স বেলফোর্ট তো আছেনই।
৪-১-৪-১ কিংবা ৪-৩-৩ ফর্মেশনে সানডে মূল স্ট্রাইকার। নাবীব নেওয়াজ জীবনকে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার কিংবা উইংয়ে খেলতে দেখা যায়। মাঝমাঠে মামুনুল-সোহেল রানা বড় ভরসা।
যদিও মৌসুমের শুরুটা ভালো হয়নি আবাহনীর। ফেডারেশন কাপের শিরোপা ধরে রাখার আশা ভেঙে যায় সেমিফাইনালে রহমতগঞ্জের কাছে হেরে। লেমোস এএফসি কাপ দিয়ে জয়যাত্রা শুরু করতে চান, ‘আপাতত আমাদের চিন্তায় শুধুই এএফসি কাপ। যে করে হোক মালেতে জিততে হবে, পরের পর্ব নিশ্চিত করতে হবে। মালেতে জিততে পারলে লিগে মনোযোগ দিতে পারবো। আমাদের সামনে লিগ শিরোপা ফিরে পাওয়ার মিশন। ভালো খেলেই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
দলের খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে আবাহনীর কোচ বলেছেন, ‘জানি লিগ জেতা সহজ হবে না। কয়েকটি ভালো দল আছে। তবে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। এই দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।’
গতবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করা জীবন ছাড়িয়ে যেতে চান নিজেকে, ‘এবার আরও বেশি গোল করতে চাই, দলকে শিরোপা এনে দিতে চাই।’
মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম বলেছেন, ‘লিগে শিরোপা জিততে আপ্রাণ চেষ্টা করবো। হাজারো সমর্থকের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’







