বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে। লিগের ১৩টি দল এখন শেষ সময়ের অনুশীলনে ব্যস্ত। শিরোপার প্রত্যাশা অবশ্য কয়েকটি দলের। তাদের নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের ধারাবাহিক পর্যালোচনায় আজ থাকছে মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড-
অনেক দিন ধরেই ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং। একসময়ের পরাশক্তি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আধিপত্য করলেও পেশাদার যুগে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছে। ২০০৭ সালে পেশাদার যুগে প্রবেশের পর টানা তিনবার তারা রানার্সআপ। এরপর থেকে পারফরম্যান্সের আরও অবনমন ঘটেছে। সেটা এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যে অবনমন বাঁচানোর লড়াই পর্যন্ত করতে হয়েছে।
সর্বশেষ ক্যাসিনো-কান্ডে তাদের জেরবার অবস্থা। তলানি থেকে দলটিকে টেনে তোলার জন্য সাবেক খেলোয়াড়েরা একজোট হয়েছেন। বাদল রায়-জনি-সাব্বিরদের প্রচেষ্টায় একটু একটু করে দল ঘুরেও দাঁড়াচ্ছে। তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে ফেডারেশন কাপে মোহামেডান খারাপ করেনি, খেলেছে সেমিফাইনাল পর্যন্ত।
তবে লিগে ভালো করতে চায় সাদা-কালো জার্সিধারীরা। শিরোপাতেই চোখ তাদের। দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন আশাবাদী মানুষ। গতবার ভঙ্গুর দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে করেছিলেন অষ্টম। এবার ট্রফির জন্য লড়বেন। এমন মন্ত্রই জপে দিয়েছেন ছাত্রদের মনে।
দলে জাতীয় দলের কেউ নেই। পরিচিত মুখ বলতে গোলকিপার মাজহারুল ইসলাম হিমেল, ইউসুফ সিফাত, আমিনুর রহমান সজীব ও হাবিবুর রহমান সোহাগ।
তিন মাস ধরে দলটি নিবিড় অনুশীলন করে যাচ্ছে। দলের ওপর তাই প্রত্যাশা বেশি কোচের, ‘আমার খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা আছে। এই দলটি শিরোপার জন্য লড়াই করতে পারবে। আমি মনে করি এটা সম্ভব।’
শন লেন দলকে ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলাতে পছন্দ করেন। আবার কোনও সময় রক্ষণে একজন বেশি রেখে ছক কষেন।
তবে লেন যেই ছকেই দলকে খেলান না কেন ছাত্ররা তাতে সহজেই মানিয়ে নিতে পারছেন। কোচ যেমন বলেছেন, ‘ফেডারেশন কাপে আমরা খারাপ করিনি। সব ফর্মেশনে খেলোয়াড়েরা ভালো করেছে। এখন লিগ আমাদের বড় পরীক্ষা। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে আমার মনে হয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।’
দলটিতে জাপানের উরু নাগাতার মতো মিডফিল্ডার আছে। আছেন মালিয়ান স্ট্রাইকার সোলেমানে দিয়াবাতে। অন্য বিদেশিরাও খারাপ নন।
সত্তর দশকের জার্সি এই মৌসুমে ফিরিয়ে এনেছে দলটি। বুকে পকেটওয়ালা সাদা-কালো জার্সিতে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ। তবে কোচ বড় স্বপ্ন দেখলেও খেলোয়াড়েরা বাস্তবের জমিতেই পা রেখে চলতে চান। শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে্ই তারা খুশি থাকবেন। ট্রফির জন্য লড়াইটা হবে অবস্থা বুঝে।
অধিনায়ক হিমেল বলেছেন, ‘আগের চেয়ে দল ব্যালান্সড। এই দল নিয়ে আমরা যত ওপরের দিকে থাকতে পারবো ততই ভালো। আমরা নিজেদের মধ্যে লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছি। সেরা পাঁচে থাকতে চাই। এর জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। তারপর সম্ভব হলে শিরোপার জন্য লড়বো।’
হিমেল আরও বাস্তবাদী, ‘দেখুন এখন বসুন্ধরা-আবাহনীর মতো দল রয়েছে। অন্য দলগুলোও খারাপ নয়। আমাদের জন্য ট্রফি জেতা কঠিনই হবে। তাদের বিপক্ষে যতটকু সম্ভব লড়াই করতে হবে। লড়াই করে পয়েন্ট তালিকায় ওপরের দিকে জায়গা করে নিতে হবে।’








