ুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুু
করোনাভাইরাস মহামারির এই ভয়ঙ্কর সময়ে মাঠে কোনও খেলা নেই। সাবেক ফুটবলাররা ঘরে বসে অতীত স্মৃতিতে ডুবে যাচ্ছেন। তুলে আনছেন পেছনের সাফল্যগাঁথা। এবার থাকছে ১৯৯৯ সালের সাফ গেমস (বর্তমানে এসএ গেমস) ফুটবলের শিরোপা জয়ের কাহিনী। ২১ বছর আগের সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন জুয়েল রানা ও আলফাজ আহমেদ-
ভারতের গোয়াতে সাফ ফুটবলে রানার্স-আপ হয়ে তখনও বুঝি হারের বেদনা ভুলতে পারেননি জুয়েল রানা-আলফাজ আহমেদরা। স্বাগতিকদের কাছে ২ গোলে হেরে যে ট্রফি জেতা হয়নি। তাই পাখির চোখ করেছিলেন সাফ গেমস ফুটবলে। দলীয় পারফরম্যান্সে ইরাকি কোচ সামির শাকিরের অধীনে আসে গেমসের প্রথম শিরোপা। ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবর কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে শিরোপা উৎসবে মেতেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
অথচ এই প্রতিযোগিতাতেও ১৯৯৫ সালের প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। মিয়ানমারের সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল হার দিয়ে। কাঠমান্ডুতেও তাই। মালদ্বীপের কাছে ২-১ গোলে হেরে তখন নানা প্রশ্নের সম্মুখীন নজরুল-বিপ্লবরা। টিম ম্যানেজমেন্টের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়!
গেমসে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়ী অধিনায়ক জুয়েল রানার স্মৃতিতে তা এখনও অম্লান। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে সাবেক ডিফেন্ডার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মনে থাকবে এই ট্রফি জয়ের কথা। কাঠমান্ডুতে প্রথম ধাক্কা মালদ্বীপের কাছে ২-১ গোলে হার। ওটাই মালদ্বীপের কাছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম হার। যে কারণে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি। টিম মিটিংয়ে স্বীকার করে নিয়েছিলাম যে আমরা ভালো খেলতে পারিনি।’
এরপর যোগ করলেন, ‘তবে সেখানে এক কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তিনি সরাসরি আমাদের দোষারোপ করে নানান কথা বলতে লাগলেন। কোচ তো সেই মিটিংয়ের এক পর্যায়ে রাগ করে চলেই যান। কারণ তিনি কাউকে দোষারোপ করতে রাজি ছিলেন না। পরে আমরা ওই কর্মকর্তাকে এড়িয়ে চললাম। সিদ্ধান্ত নেই, তিনি যেখানে থাকবেন সেখানে আমরা থাকব না। বলতে পারেন তাকে বয়কট করেছিলাম।’
সেই গেমসের মাঝেই দলের একতা ঠিক রাখতে ‘এসওএস’’ পেয়ে কাঠমান্ডুতে উড়ে গিয়েছিলেন বাফুফের কর্মকর্তা বাদল রায়। এরপর সব ঝুট-ঝামেলা এড়িয়ে কোনও ম্যাচই আর বাংলাদেশ হারেনি।
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ‘সুপার-সাব’ হিসেবে পরিচিত পাওয়া শাহাজউদ্দিন টিপুর গোলে ফাইনাল দেখা। আর ফাইনালে আলফাজের একমাত্র গোলে স্বাগতিকদের হারিয়ে পুরো দশরথ স্টেডিয়ামকে স্তব্দ করে সামির শাকিরের শিষ্যদের সোনা জয়।
এই সাফল্যের পেছনে সামির শাকিরের অবদান কম নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ খেলে এসে এই ইরাকি ফুটবলার আবাহনীর হয়ে খেলেছিলেন। তারপর একসময় বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব বর্তায় তার কাঁধে। একটু মেজাজী হলেও তিনি সবার সঙ্গে কথা বলতেন। সবার কথা শুনতেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিতেন। সর্বোপরি একজন খেলোয়াড়কে বোঝার চেষ্টা করতেন। খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে তার সেরাটা বের করে নেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল।
ফাইনালের সেই স্মৃতি হাতরে জুয়েল বললেন, ‘আমরা ম্যাচে তখন এক গোলে এগিয়ে। চতুর্থ রেফারি তখন ইনজুরি সময় ৫ মিনিটের মতো দেখালো। কিন্তু মাঠের রেফারি ৫ মিনিট পেরোনোর পরও খেলা চালিয়ে গেলেন। ১০ মিনিট পরও ম্যাচ শেষ করার প্রয়োজনটুকু দেখাননি। কিন্তু তাতেও সফল হতে পারেনি নেপাল। আমরা ঠিকই তাদের আটকে দিয়ে ফাইনাল জিতেছি।’
ফাইনাল জয়ের নায়ক আলফাজ দশরথের মাঠ ভর্তি দর্শক দেখে একটুও ভড়কে যাননি। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে কর্নার থেকে বক্সের ভেতরে জটলায় বল পেয়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন তিনি।
সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন তিনি এভাবে, ‘দশরথ স্টেডিয়ামে আগেও খেলেছি। তাই মাঠ ভর্তি দর্শক যে আমাদের বিপক্ষে থাকবে, তা জানতাম। আর আগে থেকে স্বপ্ন ছিল সাফ গেমসের শিরোপা জিততে হবে। সেই স্বপ্ন সত্যি হলো সেখানেই। আর প্রথম ম্যাচের পর তো মিডিয়ার কিছু অংশ জুড়ে আমাদের সমালোচনা হলো। আমরা তাতে কর্ণপাত করিনি। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেই, আমাদের এগিয়ে যেতেই হবে। এগিয়েও গিয়েছি। প্রথমবারের মতো গেমসের শিরোপা জিতে এসেছি।’
গেমস শেষে এটা বাংলাদেশ দলের সুখস্মৃতি হলেও মন খারাপের খবরও ছিল! সোনা জেতার পর সেই রাতে যে যার মতো আনন্দ করেছেন। কিন্তু পরের দিন কোচ সামির শাকির নীরবে কাঠমান্ডু ছাড়েন। ঢাকায় না এসে ফিরে চলে যান ইরাকে! যাওয়ার আগে ছাত্রদের বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার কাজ আমি করে দিয়েছি। আমার দায়িত্ব শেষ। আমি ফিরে যাচ্ছি।’








