এই প্রথম করপোরেট দুটি দলের ফাইনাল হতে যাচ্ছে ফেডারেশন কাপ দিয়ে। মুখোমুখি হচ্ছে বসুন্ধরা কিংস-সাইফ স্পোর্টিং। কাল (রবিবার) বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে দল দুটি। দুই দলের পার্থক্য বিস্তর। বসুন্ধরায় জাতীয় দলের একঝাঁক তারকার সঙ্গে আছেন ভালোমানের বিদেশি। সাইফের কোচ পল পুটের চোখে যারা ‘ফেরারি’ (বিলাসবহুল গাড়ির ব্র্যান্ড)। অবশ্য নিজেদের ‘টয়োটা’ উল্লেখ করলেও ফাইনালে ঠিকই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখছেন সাইফের বেলজিয়ান কোচ।
ফাইনাল অভিজ্ঞতাতেও সাইফ থেকে এগিয়ে বসুন্ধরা। এবার দিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলছে তারা। এর মধ্যে একটিতে চ্যাম্পিয়ন ও অন্যটিতে হয়েছে রানার্স-আপ। বিপরীতে সাইফ এবারই নিচ্ছে ফাইনাল খেলার স্বাদ।
এই ফাইনালও নিজেদের করে নিতে চায় বসুন্ধরা। তাদের কোচ ব্রুজন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সাইফ শক্তিশালী একটা দল। বল হারালে তারা দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারে। উইংয়ে এবং আক্রমণভাগে তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। নিজেদের প্রতিও আমাদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস আছে। কিন্তু আমরা যদি নিজেদেরকে ফেভারিট মনে করি, তাহলে হারতে শুরু করবো। আমাদের সতর্ক হতে হবে। কেননা আমরা ইতিবাচক ফুটবল খেলা একটি দলের বিপক্ষে খেলবো।’
বসুন্ধরায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের তিন খেলোয়াড়, যারা ফাইনালের গতি-প্রকৃতি বদলে দিতে পারেন। এর মধ্যে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল বেসেরা তো ৪ গোল করেছেন। এছাড়া রবিনিয়ো ও ফের্নান্দেস করেছেন দুটি করে। ফাইনালেও তাই তাদের দিকে আলাদা করে দৃষ্টি থাকছে।
বসুন্ধরা অধিনায়ক তপু বর্মণ বললেন, ‘সাইফ শক্তিশালী দল। তারা তিন-চার বছর একসঙ্গে খেলছে। যখন তারা শুরু করেছিল, তখন তরুণ ছিল, তবে এখন তারা পরিণত। ওদের খুব ভালো স্ট্রাইকারও অছে। তবে আমরা যৌথভাবে রক্ষণ সামলাই, রক্ষণ জমাট রাখি। দলীয় পারফরম্যান্সে আমরা ভালো করেছি। যদি প্রতিপক্ষের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমরা ভালো করবো।’
প্রথম কোনও প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলতে যাওয়া সাইফের তারুণ্যনির্ভর দলটির প্রধান অস্ত্র নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ইকেচুকু কেনেথ। ৫ গোল করে সবার ওপরে তার নাম। স্কোয়াডে থাকা বাকি দুই নাইজেরিয়ানও কম নয়। এছাড়া রহমত-রহিমদের নিয়ে বেলজিয়ান কোচ পল পুট ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
পুট ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী, ‘সাইফ যে ফাইনালে উঠবে, সেটা অনেকেই প্রত্যাশা করেনি। এই দলটিকে ভবিষ্যতের শক্তিশালী দল হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। আমার মনে হচ্ছে, আমি যেটা চাচ্ছি, সেটা ছেলেরা মাঠে করে দেখাতে পারছে। তারা শৃঙ্ক্ষলাবদ্ধ এবং কঠোর পরিশ্রম করছে।’
এরপরই তিনি ফেরারি ও টয়োটার তুলনায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য বোঝালেন, ‘কালকের প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমাদের কোনও তুলনা হয় না। আপনি ফেরারির সঙ্গে টয়োটার তুলনা করতে পারেন না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ফুটবলে যে কোনও কিছু সম্ভব। হতে পারে আরও বড় ইতিহাস গড়বে দল।’
সাইফ অধিনায়ক রিয়াদুল হাসান রাফিও আত্মবিশ্বাসী, ‘আমাদের এই দলটি কয়েক মৌসুম ধরে একসঙ্গে আছে, নিজেদের সমন্বয়টা ভালো। আমরা ট্রফির জন্য লড়াই করবো। আর আমাদের আল আমিন খেলতে পারছে না। আগের ম্যাচে পা ভেঙে গেছে। যদি ট্রফি জিততে পারি, তাহলে তার জন্য তা উৎসর্গ করবো।’







