শুরুতে গোল করে এগিয়ে গেল সাইফ স্পোর্টিং। পরবর্তীতে বসুন্ধরা কিংস ম্যাচে সমতা এনে এগিয়েও যায়। শেষ দিকে আবার পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলো সাইফ। যার খেসারত দিতে হলো ৩ পয়েন্ট হারিয়ে। আজ (শনিবার) সাইফকে ২-১ গোলে হারিয়ে বসুন্ধরা চলমান রেখে তাদের জয়রথ। অন্যদিকে ৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে উত্তর বারিধারা-আরামবাগ ৪-৪ গোলে ড্র করেছে।
বসুন্ধরা কিংস ১০ ম্যাচে নবম জয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। সাইফ ৯ ম্যাচে চতুর্থ হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। অন্যদিকে আরামবাগ ৯ ম্যাচে প্রথম পয়েন্ট নিয়ে তলানিতেই আছে। সমান ম্যাচে বারিধারা ষষ্ঠ ড্রতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১১ মিনিটে বসুন্ধরা এগিয়ে যেতে পারতো। ব্রাজিলিয়ান রবিনিয়োর কোনাকোনি শট দূরের পোস্ট দিয়ে গেলে তা হয়নি।
সাত মিনিট পর সাইফ প্রথম গোলের দেখা পায়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের লং পাস হেডে একটু এগিয়ে নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন জন ওকোলি। গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়াসিন খানকে ছিটকে দিয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে হারিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। প্রিমিয়ার লিগে এই প্রথম আগে গোল হজম করে বসুন্ধরা।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে মতিন মিয়াকে নামিয়ে আক্রমণভাগ ক্ষুরধার করেন অস্কার ব্রুজন। এরপরই মূলত ৩ মিনিটের ঝড়ে ২ গোল পেয়ে যায় বসুন্ধরা।
৩৪ মিনিটে ইরানের ডিফেন্ডার খালেদ শাফির থ্রো ইন এক ডিফেন্ডার হেডে ফেরানোর পর রবিনিয়োর শট ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি গোলকিপার সাইফুল ইসলাম, ফিরতি বলে সামনে থাকা তৌহিদুল আলম সবুজ হেডে সমতা নিয়ে আসেন।
দুই মিনিট পর রবিনিয়োর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের বুলেট গতির শট বাঁক খেয়ে জালে জড়িয়ে যায়। গোলকিপার সাইফুল লাফিয়ে উঠেও কিছু করতে পারেননি।
বিরতির পর বসুন্ধরা সুযোগ পেয়েও ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারেনি। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল বেসেরার হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
একটু পর অবশ্য সাইফের ইকেচুকু কেনেথের শট রুখে দেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। তাদের দুর্ভাগ্য তখনও পিছু ছাড়েনি। ৬৯ মিনিটে বক্সের ভেতরে শাফির হাতে বল লাগলে সাইফের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানান, কিন্তু রেফারি তাতে সায় দেননি।
আর ৮৩ মিনিটে তো পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে না পারার যন্ত্রণায় পুড়তে হয়েছে সাইফকে। নিজেদের সীমানায় জন ওকোলিকে ফেলে দেন বিশ্বনাথ। পেনাল্টি থেকে নাইজেরিয়ান ইকেচুকু কেনেথের শট গোলকিপার জিকো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন।
এদিকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে হয়েছে গোলবন্যা। উত্তর বারিধারা ও আরামবাগের মধ্যে সমানে সমান লড়াই হয়েছে। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ক্রিস্টোফার চিজোবা আরামবাগকে এগিয়ে নেন। দুই মিনিট পর আরিফ হোসেন গোল করে বারিধারাকে সমতা এনে দেন। ২২ মিনিটে চিজোবা ও ৪০ মিনিটে নিহাত জামানের গোলে আরামবাগ ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে অবশ্য বারিধারা চমক দেখায়। ৫২ ও ৫৬ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন অধিনায়ক সুমন রেজা। ৫৮ মিনিটে জাল কাঁপান সুজন বিশ্বাস। ৮০ মিনিটে অবশ্য মিশরের ডিফেন্ডার মাহমুদ সায়েদ গোলে করে বারিধারাকে জিততে দেননি।








