একের পর এক আক্রমণে কেঁপে উঠেছে কাদিজের রক্ষণভাগ। আসলে আক্রমণ বললে ভুল হবে, ম্যাচের প্রায় বেশিরভাগ সময় বল থেকেছে তো তাদের সীমানার কাছাকাছিই! এরপরও শেষ বাঁশি বাজার পর আনন্দের ঢেউ উঠলো কাদিজের ডাগ আউটে। না জেতেনি তারা, তবে ন্যু ক্যাম্পে এসে শেষ মুহূর্তের গোলে বার্সেলোনাকে রুখে দেওয়া তো আর চাট্টিখানি কথা নয়! বিপরীতে অসংখ্য সুযোগ নষ্টে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশায় ছেয়ে গেছে কাতালানদের আকাশ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে এই ঘরের মাঠেই প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনা। সেখানেই আবার কাদিজের কাছে হারালো পয়েন্ট। ৩২ মিনিটে লিওনেল মেসির পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়া বার্সেলোনা শেষ মুহূর্তে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ‘বিতর্কিত’ পেনাল্টিতে।
এতে শীর্ষে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল রোনাল্ড কোম্যানের দলের, সেই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলো না তারা। ২৩ ম্যাচ শেষে বার্সা ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আতলেতিকো। আর এক ম্যাচ বেশি খেলে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ।
বার্সেলোনার মোট শট ২০, বিপরীতে কাদিজ নিতে পেরেছে মোটে তিনটি শট। নিজেদের দুর্বল শট কিংবা প্রতিপক্ষ গোলকিপারের দুর্দান্ত সব সেভে সুযোগ নষ্ট হয়েছে কাতালানদের। মেসি নিজেও ব্যর্থ হয়েছেন বেশ কয়েকবার। তবে ৩২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। কাদিজের সীমানায় পেদ্রি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। মাটি কামড়ানো আলতো শটে লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন মেসি।
এর আগে-পরে প্রথমার্ধে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধেও চলে সুযোগ নষ্টের খেলা। যদিও বা বল জালে জড়িয়েছে, তখন আবার পড়েছে অফসাইডের ফাঁদে। উসমান ডেম্বেলে, আতোঁয়া গ্রিজমান, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং নষ্ট করেছেন সহজ সুযোগ। বিশেষ করে, গ্রিজমানের মিস নিশ্চিত কাঠগড়ায় উঠবে। মেসির চমৎকার পাস ফাঁকায় গোলকিপারের সামনে পেলেও বল জালে জড়াতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড।
একে সুযোগ নষ্টের হতাশার, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পেনাল্টির যন্ত্রণা। খেলার শেষ মুহূর্তে ক্লেমঁ লেংলে বল ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে মারেন, যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে ‘ইচ্ছাকৃত’ ছিল না। এরপরও ভিএআরে পেনাল্টি বহাল থাকে। ৮৯ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে কাদিজকে সমতায় ফেরান আলেক্স ফের্নান্দেস।
এই ড্রয়ে সাত ম্যাচ পর লিগে পয়েন্ট হারালো বার্সেলোনা। একই সঙ্গে শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগও নষ্ট হলো তাদের।









