তিন বছর আগে সৌভাগ্যের পরশ পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের হয়ে ইউনিফায়েড ফুটবল খেলতে গিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সান্নিধ্য পেয়েছিলেন মোহাম্মদ জুয়েল। গত বছর ওপারের বাসিন্দা হওয়া ফুটবল কিংবদন্তিকে কাছ থেকে দেখা সেই জুয়েলের ভাগ্য আবারও খুললো। এবার জাতীয় দলের দরজা খুলে গেছে এই স্ট্রাইকারের।
জেমি ডের স্ট্যান্ডবাই তালিকায় ছিলেন জুয়েল। মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন করার সৌভাগ্য হয়েছিল এই স্ট্রাইকারের। তবে ২০ বছর বয়সী ফুটবলারের সামনে এখন আরও বড় দুয়ার খুলে গেছে। একদিন অনুশীলন করেই বাংলাদেশ দলের কোচের নজরে পড়েছেন। আগেই নেপালের তিন জাতি ফুটবল প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ২৪ জন ফুটবলার চূড়ান্ত ছিল। এর সঙ্গে বাড়তি হিসেবে জুয়েলকে যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন প্রাপ্তি সামনে এগিয়ে চলার পথটা আরও চওড়া করে দিয়েছে জুয়েলকে। আজ (মঙ্গলবার) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমকে তরুণ স্ট্রাইকার শোনালেন তার স্বপ্নের কথা, ‘খুবই ভালো লাগছে। অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে আমি জাতীয় দলে এসেছিলাম। চেষ্টা করছি ভালো কিছু করতে। লক্ষ্য ছিল স্কোয়াডে জায়গা করে নেবো। এখন জায়গা করে নিতে পেরে খুব ভালো লাতেছে। আশা করছি, যখন যেই সুযোগ পাবো তা কাজে লাগাতে। আসলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারাটা আমার জন্য বড় সুযোগ।’
জুয়েল এর আগেও নেপালের মাঠে খেলেছেন। ২০১৩ সালে সাফ অনূর্ধ-১৬ ফু্টবলে সেখানকার অভিজ্ঞতা বেশ কঠিন ছিল। নেপালের আবাহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কষ্ট হয়েছে। তবে এবার পাঁচ দিন আগে দল সেখানে যাবে, তাই সেভাবে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার আনন্দ নিঃসন্দেহে আকাশছোঁয়া। এর আগেও আরেকবার আনন্দের বৃষ্টিতে ভিজেছিলেন ম্যারাডোনাকে কাছ থেকে দেখে। জুয়েলের সেই অনুভূতি এখনও স্মৃতিতে টাটকা, ‘এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
জুয়েলের ক্যারিয়ার শুরু ২০১৬ সালে। ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স দিয়ে। এরপর আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ হয়ে এখন পুলিশ দলে খেলছেন তিনি। এর আগে বিকেএসপিতে কেটেছে বেশ ক’বছর। সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন ২০১৩ সালে।
একাদশে লড়াই করে জায়গা করে নিতে হবে জুয়েলকে। সেখানে সুমন রেজা, মাহবুবুর রহমান সুফিল ও মতিন মিয়াদের মতো খেলোয়াড় আছেন। জুয়েল অবশ্য প্রস্তুত, ‘এমনিতে বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুশীলনে শিখছি। তবে এখানেই শেষ দেখতে পাচ্ছি না। খারাপ কিছু হলে সব শেষ হবে, তা নয়। সামনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব আছে। এখন জীবন ভাই ইনজুরিতে। হয়তো একটু সমস্যা হতে পারে। তবে অন্যরা ভালো করছে। লিগে গোল পাচ্ছে। আশা করছি, আমরা নেপালে ভালো কিছু করতে পারবো।’









