তারিক কাজীর বাবা বাংলাদেশি, মা ফিনল্যান্ডের। শেকড়ের টানে ২০২০ সালে বাংলাদেশে এসে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলছেন। পরের বছর বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগও পেয়ে যান। এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ খেলেছেন লাল-সবুজ জার্সিতে। সেশেলসের বিপক্ষে দেখা পেলেন প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের। ডিফেন্ডার হয়েও দলকে জয়সূচক গোল এনে দিতে পেরে তারিক যারপরনাই খুশি, আনন্দে আত্মহারা ফিনল্যান্ডে থাকা তার বাবা ও মা।
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হালকা অনুশীলন করতে দেখা গেলো তারিককে। আইস বাথও নিলেন ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। দলকে গোল করে জিতিয়ে অন্যরকম আনন্দ লাগছে তার। অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তারিক শুরুতে বললেন, ‘বিশেষ মুহূর্ত! একেবারে বিশেষ মুহূর্ত! খুবই আনন্দিত। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তাই আমি খুবই আনন্দিত। প্রতি ম্যাচেই আমার মূল লক্ষ্য থাকে গোল হজম না করা। তবে যদি ম্যাচে গোল পেয়ে যাই, সেটা আমার জন্য একটা বাড়তি পাওয়া। ম্যাচের পর বাসায় কথা হয়েছে, বাবা-মা আমার সাফল্যে আনন্দিত। বাংলাদেশের জার্সি আমার কাছে বিশেষ কিছু। দলের জন্য কিছু করতে পারলে সবাই আনন্দিত হয়।’
বাংলাদেশের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ডিফেন্ডাররা গোল পাচ্ছেন। ফরোয়ার্ডরা চেষ্টা করেও সেভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারছেন কোথায়! বর্তমান আধুনিক ফুটবলে যে কেউ গোল করতে পারে তা মনে করিয়ে দিলেন তারিক, ‘ফুটবল এখন অনেকটাই বদলে গেছে। এখন যে কেউই গোল করতে পারে। সেটপিস কিংবা ওপেন প্লে থেকে যে কারোরই গোল করার সুযোগ রয়েছে। ফুটবল এখন অনেকটাই বদলে গেছে।’
সেশেলসের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচে তাদের এক ডিফেন্ডার হেড করে ঠিকমতো বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। হেডেই আবার তারিক বল জড়ান জালে। থিয়াগো সিলভাকে আইডল মানা তারিক মনে করছেন এই গোলটি পরিকল্পনার অংশ, ‘আমি মনে করি না গোলটা আমি ভাগ্যের জোরে পেয়েছি। এটা পরিকল্পনার অংশ ছিল। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এবারের মৌসুমে ক্লাব এবং জাতীয় দল মিলিয়ে এটা আমার দ্বিতীয় গোল। ফিনল্যান্ডের প্রফেশনাল লেভেলে আমার কোনও গোল নেই। তবে জুনিয়র লেভেলে আমি গোল করেছি।’
ফিনল্যান্ডের জল-হাওয়ায় বড় হয়ে ওঠা তারিক এখন অনেকটাই এই দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। আগের মতো আর তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তারিক বলেছেন, ‘আমি যখন এখানে এসেছিলাম সবকিছু আমার কাছে অপরিচিত ছিল। এখন আমি সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছি। এখন সবকিছু আগের চাইতে আমার জন্য অনেক সহজ মনে হচ্ছে। এছাড়া যখন ফুটবলের মধ্যে থাকি, তখন অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় থাকে না।’
২৮ মার্চ সেশেলসের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়ার লক্ষ্য তারিকের। এই ম্যাচেও সুযোগ পেলে রক্ষণ থেকে উপরে উঠে এসে গোল করার সুপ্ত ইচ্ছা তো রয়েছেই!







