দেশের একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ মারুফুল হক। দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ফুটবলে কোচিং করে আসছেন। এবার ছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। যদিও ক্লাবটি এই মৌসুমে ট্রফি পায়নি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেশের খেলোয়াড়দের নানাভাবে মূল্যায়ন করেছেন। তার দৃষ্টিতে এবার আগের চেয়ে খেলোয়াড়দের মান কমেছে।
শেখ জামালকে নিয়ে এক থেকে তিনের মধ্যে থাকতে চেয়েছিলেন মারুফুল। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে দল হয়েছে ষষ্ঠ। প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো না হওয়ায় কিছুটা মন খারাপ। তাই শুরুতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘মৌসুম খারাপ কাটেনি। তবে যে প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করেছিলাম তা পূরণ হয়নি। কোনও বদল দেখতে পাইনি খেলোয়াড়দের মধ্যে। গতানুগতিক খেলা হয়েছে। মান আগের চেয়ে একটু কমেছে মনে হয়।’
মান কমার কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কোচের কাছে মনে হয়েছে খেলোয়াড়দের সামর্থ্য আগের মতো নেই। তার ভাষায়, ‘টেকনিক্যাল সামর্থ্য কমে গেছে। প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের যদি টেকনিক শেখাতে হয় তাহলে তো কোনও মানে নেই। এই পর্যায়ে এসে টেকনিক শেখানোর কিছু নেই। টেকনিক সংশোধনও করানো যায় না।’
এরপরই খেলোয়াড়দের দিকে তির ছুড়ে দিয়ে জানালেন, ‘আসলে খেলোয়াড়দের মধ্যে শেখার আগ্রহ কম। চেষ্টা কম। যেটা শিখে আসছে সেটাতেই থাকতে চায়। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কম। আউট অব দ্য বক্স যেতে চায় না। দেশে খেলোয়াড় আছে অনেক। তবে হয়তো সেই ভালো পর্যায়ে যেতে সময় লাগবে।’
খেলোয়াড়দের মধ্যে শেখার অনীহার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাতীয় দলের সাবেক কোচ জানালেন, ‘বড় কারণ হলো অর্থ। বলার মতো খেলোয়াড় তো সেভাবে নেই। যে একটু খেলতে পারছে টাকা পাচ্ছে। টাকা পাবে ভালো কথা। তবে সেই খেলোয়াড়ের ত্যাগ করার ইচ্ছা থাকতে হবে। কখন খাবো, কখন ঘুমাবো কিংবা অনুশীলন করবো, সেটা তো বুঝতে হবে। নিজের কোথায় ঘাটতি আছে, তা জানতে পারলে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এখন ৫০ লক্ষ পেয়েছি। সামনে আরও বেশি পেতে হবে। সেই চেষ্টাটা নেই অনেকের মধ্যে।’
মৌসুমে সেরা আবিষ্কার শেখ মোরসালিন। বেঙ্গালুরুর সাফেও দুর্দান্ত খেলেছেন বসুন্ধরা কিংসের উদীয়মান তারকা। তাকে সরাসরি পাস মার্ক দিয়ে মারুফুল বলেছেন, ‘তবে এই মৌসুমে শেখ মোরসালিন উদীয়মান তারকা। বয়স অনুযায়ী ওর মধ্যে বড় খেলোয়াড় হওয়ার সব গুণাবলি আছে। জাতীয় দলে অন্য খেলোয়াড়ের চেয়ে তার খেলা ভালো। তবে ওকে আরও অনেক কিছু শিখতে হবে। নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। এছাড়া অন্য খেলোয়াড় এই মৌসুমে সেভাবে আমার দৃষ্টি কাড়েনি।’









