অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছানোর পর প্রথম অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী আক্রমণভাগ কীভাবে নস্যাৎ করে নিজেদের রক্ষণ ঠিকঠাক রাখা যায় তা নিয়েই কাজ হয়েছে বেশি। ঠাণ্ডার মধ্যেই প্রথম দিনের অনুশীলনে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মনে হলো।
২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ের ‘আই’ গ্রুপে আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মেলবোর্নে এ ম্যাচ উপলক্ষে সোমবার ইরাভিলে গ্লোরি ফুটবল ক্লাব মাঠে অনুশীলন করেছেন জামাল-ইব্রাহিমরা।
ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল এবং ফিনল্যান্ড প্রবাসী কাজী তারিক রায়হান ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত। অন্যরা সেভাবে অভ্যস্ত নয়। তাছাড়া বাতাসের বেগও বেশি। জামালের অবশ্য মনে হচ্ছে শিগগিরই সবাই অভ্যস্ত হয়ে যাবে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম অনুশীলন করলাম। দুই দিন পর পুরো দল অনুশীলন করায় ভালো লেগেছে। আবহাওয়া একটু ঠাণ্ডা। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের কাছে ঠাণ্ডা লেগেছে; আমার এবং তারিকের এ ধরনের আবহাওয়ায় থাকার অভ্যাস আছে। এক-দুই দিনের মধ্যে বাকিরাও ঠাণ্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিবে।’
পুরো দল যে আত্মবিশ্বাসী, তা জামাল আবারও মনে করিয়ে দিলেন, 'ম্যাচ রাত ৮টায়; আমাদের এই আবহাওয়ার মধ্যেই খেলতে হবে। সব মিলিয়ে আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি, সবাই আত্মবিশ্বাসী আছে। এ ম্যাচের প্রতি সবার শতভাগ মনোযোগ আছে। আমার মনে হয়, স্টেডিয়ামের ভেতরে এর (ঝড়ো বাতাসের) কোনও প্রভাব থাকবে না। যখন আমরা বাইরে যাই, তখন ওখানে অনেক উইন্ডি আবহাওয়া (টের পাই)।'
ম্যাচে মূলত লড়াইটা হবে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে বাংলাদেশের রক্ষণের, বড় পরীক্ষাও। বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো ভিডিও বার্তায় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেস্তে দেওয়ার কৌশল নিয়েই কাজ হচ্ছে, 'সব মিলিয়ে ভালো অনুশীলন হয়েছে। প্রথম অনুশীলন হলো। একটু… বাংলাদেশের চেয়ে এখানে বেশ ঠাণ্ডা। কোচ চাইছেন আমরা যেন দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি; যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবো, ম্যাচটা খেলা আমাদের জন্য তত ভালো হবে। অস্বীকার করার উপায় নেই, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটা। অনুশীলনে কীভাবে ডিফেন্স ব্লক করবো, ওদের আক্রমণগুলো যেন ভেস্তে দেওয়া যায়, মূলত আমাদের কাজ থাকবে এটাই।'
কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সহকারী হাসান আল মামুন দলের মধ্যে ভালো কিছু করার তাড়না দেখছেন। জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার বলেছেন, 'এখানে ঠাণ্ডা আবহাওয়া, বাতাসও আছে। এ কারণে মনে হচ্ছিল, বলের সঙ্গে অনুশীলনে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। একটা দেশে গেলে প্রথম অবস্থায় এগুলো হয়, সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হয়। আশা করি, এটা সময়ের ব্যবধানে ঠিক হয়ে যাবে।'
এরপরই তিনি যোগ করেন, 'অনুশীলনে অস্ট্রেলিয়ার যে শক্তিশালী দিক, আমরা যদি বিল্ড আপে যাই, তাহলে ওরা কীভাবে প্রেস করবে, যেগুলো ওদের খেলায় আমরা দেখেছি, সেগুলো নিয়ে সেশন হয়েছে। ছেলেরা সবাই ভালো আছে এবং ফিট আছে। আমার মনে হচ্ছে, ভালো কিছু করার জন্য মুখিয়ে আছে সবাই।'








