২০১৯ সালে শেখ রাসেলের হয়ে একবার খেলে গেছেন। তবে সেবার সেভাবে আলোড়ন তুলতে পারেননি। ১১ ম্যাচে করেছিলেন তিন গোল। এবার প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ফর্টিস জিতেছে ভ্যালেরি গ্রিশিনের দেওয়া একমাত্র গোলে। তাতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইউক্রেনের ২৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। গোলের পর ঢাকায় এসে ভ্যালেরি নিজের অনুভূতি ও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে নানান কথা অকপটে বলে গেছেন। সেখানে নিজের ক্যারিয়ার ছাড়াও মাতৃভূমি রক্ষায় প্রয়োজনে যুদ্ধে নামারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইউক্রেনের লিমান শহরে জন্ম ভ্যালেরির। দুই ভাই ও বাবা-মা নিয়ে ভালোই সময় কাটছিল তাদের। যুদ্ধের কারণে এখন কিছুটা এলোমেলো। ২০১৮ থেকে দেশের বাইরে লিগ খেলছেন ভ্যালেরি। এর আগে নিজের দেশে বিভিন্ন ক্লাব ছাড়াও জাতীয় বয়সভিত্তিক দলেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
শনিবার ভ্যালেরির গোলে ফর্টিস প্রথমবারের মতো আবাহনীর বিপক্ষে জিতেছে। এমন জয়ে মোটেও অবাক হননি তিনি, ‘দল তিন পয়েন্ট পেয়েছে। আমি গোল পেয়েছি। এতেই খুশি। এই জয়ে আমি মোটেও অবাক হইনি। আমি শুনেছি আবাহনী বড় ক্লাব। আমি সব ম্যাচেই গোল করার চেষ্টা করে থাকি। এটা আমার দায়িত্ব, কাজও। তবে আমার কাছে গোল পাওয়ার চেয়ে বড় বিষয় হলো দলের জয় পাওয়াটা। আমি দলের জন্য ভালো খেলার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
সাধারণত অনেক স্ট্রাইকারই প্রতিটি মৌসুমে নিজে কয়টি গোল করবেন, তার আগাম ধারণা দিয়ে থাকেন। তবে ভ্যালেরি ব্যতিক্রমীদের মধ্যে একজন। তার চিন্তাতে শুধু দলের জয়টা মুখ্য।
ভ্যালেরি জানালেন, ‘আমার একটাই লক্ষ্য, ফর্টিসকে এগিয়ে নেওয়া। দল জিতলে তখন আমি এমনিতে গোল পাবো। নির্দিষ্ট গোল প্রাপ্তির কোনও লক্ষ্য নেই।’
২০১৯ সালে শেখ রাসেলের হয়ে খেলে গেছেন ভ্যালেরি। সেবার ১১ ম্যাচে তিন গোল ছিল তার। এবার এনিয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে খেলার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এখানে ফুটবলটা শারীরিক নির্ভর। এটা আমার জন্য ভালো অভিজ্ঞতা। শেখ রাসেলে আমি খেলেছি ২০১৯ সালে। তবে পুরোপুরি পার্থক্য বলতে পারবো না। আমার মনে হয় প্রতি বছরই কিছু উন্নতি হচ্ছে।’
নিজের খেলার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা হলো। এই যুদ্ধটা মোটেও কারও জন্য ইতিবাচক কিছু না, তা বলতে দ্বিধা করেননি ৬ ফুট উচ্চতার এই স্ট্রাইকার, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। তবে আমার পরিবার ভালো আছে। শতভাগ ভালো বলবো না। তবে পরিবার যেখানে থাকে, বড় কোনও সমস্যা আপাতত দেখছি না। এর জন্য ধন্যবাদ ঈশ্বরকে। নানান কারণে যুদ্ধটা সবার জন্য বিপজ্জনক। তবে এর মধ্যেও মানুষজন জীবনযাপনের চেষ্টা করছে।’
যুদ্ধ কবে শেষ হবে ধারণা করতে পারছেন না ভ্যালেরি। তবে চান শিগগিরই যেন এর অবসান হয়, ‘আমরা আসলে জানি না এই যুদ্ধটা (রাশিয়া-ইউক্রেন) কবে শেষ হবে! সবার স্বার্থে অবসান হওয়া উচিত। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের মানুষ মারা যাচ্ছে। অবকাঠামোসহ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে।’
সবশেষ আড়াই বছর আগে দেশে গিয়েছিলেন ভ্যালেরি। এরপর আর যাওয়া হয়নি। সুযোগ পেলে যেতে চান মাতৃভূমিতে, ‘আমি দুই বছর আগে ইউক্রেনে গিয়েছিলাম, যুদ্ধের আগে। কম্বোডিয়াতে আড়াই বছর খেলার কারণে দেশে যাওয়া হয়নি। ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকি তাই। অন্য কিছু নয়। তবে আমি আমার কাজকে উপভোগ করি। দেশে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব আছি। সুযোগ পেলে হয়তো যাবো। আপাতত আমার খেলা নিয়ে ব্যস্ত আছি।’
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী পর্যন্ত সব নাগরিককে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেছে ইউক্রেনের সরকার। ভ্যালেরি তা শুনেছেনও। মনস্তাত্ত্বিকভাবে তৈরি থাকার কথাও জানালেন ফর্টিসের স্ট্রাইকার, ‘প্রয়োজনে আমি দেশের (ইউক্রেন) হয়ে যুদ্ধ করবো। এর জন্য সবসময় তৈরি আছি। মাতৃভূমি রক্ষায় লড়বো। তবে আপাতত খেলা নিয়ে ব্যস্ত আছি।’









