ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা আগেই ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে। যারা বেঁচে আছেন, তাদের সবাই দিনাতিপাত করছেন মানবেতর অবস্থায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকার নিদারুণ সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে সবাইকে। এমনকি জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। খাদ্য থেকে শুরু করে নিরাপত্তার অভাব প্রকট। এমন অবস্থায় ফিলিস্তিনের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলার আহমেদ ওবায়েদ সরাসরি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের পরিবারকে গাজার ভয়ংকর অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য সাহায্য চেয়েছেন।
২০২৪ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ১০ দিন আগে ইনজুরিতে পড়েন ওবায়েদ। যে কারণে সিনিয়রদের দলে পরে আর খেলা হয়নি। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে ইসরায়েলের আগ্রাসনের আগেই ফিলিস্তিনের আরেক অংশ পশ্চিম তীরে খেলতে গিয়েছিলেন। আগ্রাসন শুরু হলে গাজায় ফিরতে পারেননি। পশ্চিম তীর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানেই আটকা পড়তে হয়েছে তাকে।
তারপরও সেখান থেকে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এমনকি গত বছরের ১৯ অক্টোবর গাজায় তাদের বাড়ি বোমা হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও ভাগ্য ভালো তার আগেই পরিবারের সদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। কিন্তু দিনকে দিন অবস্থা এতই খারাপ হয়েছে যে গাজায় জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে তার এক বছরের বাচ্চা-স্ত্রী ও তার বাবা-মাসহ অন্য তিন সন্তানকে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এই অবস্থা থেকে বাঁচতে ওবায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ ও শিশুর ছবি দিয়ে সাহায্যের পোস্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিচিত যাকে পাচ্ছেন তার কাছেই সাহায্য চাইছেন। যাতে দ্রুত কিছু একটা করা হয়।
পশ্চিম তীর থেকে আহমেদ ওবায়েদ বাংলা ট্রিবিউনের কাছেও যোগাযোগ করে আকুল আবেদন করে বলেছেন, ‘আমি আমার এক বছর দুই মাসের বাচ্চা ও স্ত্রীকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আসতে চাই। সেখানে আমার বয়স্ক বাবা ও মাসহ অন্য তিন বাচ্চাও আছে। সবাইকে আমি সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসতে চাই। সেজন্য আপনাদের সাহায্য লাগবে।’
গাজার বাইরে থাকায় পরিবারের কাছে যেতে পারছেন না ওবায়েদ। দূর থেকে অশ্রু ঝরানো ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু করতেও পারছেন না, ‘আমি এখন নাবলুসে আছি; পশ্চিম তীরে। সেখানে খেলছি পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে। ইচ্ছে করলেই গাজায় যেতে পারছি না। যখন আমি এখানে এসেছিলাম, সব ঠিক ছিল। এখন আর গাজায় যাওয়ার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞা থাকায় জায়গা থেকে নড়তে পারছি না।’
গাজার আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার কতটা অসহায় অবস্থায় আছে সেটা এভাবেই বলেছেন ওবায়েদ, ‘যে আশ্রয়কেন্দ্রের তাঁবুতে আমাদের পরিবার আছে, সেখানে খাওয়া থেকে শুরু করে আবাসনে মারাত্মক সংকট। না খেয়েও অনেক সময় থাকতে হচ্ছে। এমনকি নিরাপত্তাও নেই। তাছাড়া সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা। রোগবালাই লেগেই আছে। এমন অবস্থায় আমি আমার পরিবারকে আর দেখতে পারছি না। আপনাদের সাহায্য খুব দরকার। যদি পারেন আমার পরিবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু শেয়ার করেন। এতে যদি কিছু একটা হয়।’
পশ্চিম তীর থেকে গাজায় পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগও করতে পারছেন না ওবায়েদ। তাদের সর্বশেষ অবস্থা কী তাও জানতে পারছেন না। তাই ওবায়েদের পাগলপ্রায় অবস্থা, ‘গত তিন দিন হলো পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের বর্তমান অবস্থা কী জানতে পারছি না। আগে কোনোমতে যোগাযোগ করতে পারতাম। এখন তো সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।’
ইসরায়েলের এমন আগ্রাসন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তাই ওবায়েদ পরিতাপের সুরে বলেছেন, ‘ইসরায়েল এই সময়ে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গাজাজুড়ে বোম্বিং করে সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের এহেন কাণ্ডে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো প্রকারান্তরে কিছুই বলছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’ তাই অসহায় এক বাবার করুণ আর্তি- ‘প্লিজ সাহায্য করুন।’








