কে ভেবেছিল গতবার ৬ গোলে হারানো পাকিস্তানের কাছে হারতে হারতে কোনোমতে ড্র করবে বাংলাদেশ? আজ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তেমনই ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরকে। প্রথমার্ধে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে শেষ মুহূর্তে এসে শামসুন্নাহার জুনিয়র সাবিনাদের ত্রাতা। তার লক্ষ্যভেদী হেডে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে।
কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দাপট দেখায়। ৪-৩-২-১ ছকে একের পর এক আক্রমণ গড়লেও গোল আসেনি। ম্যাচে ফরোয়ার্ডরা অনেক সুযোগ পেয়েও দলকে এগিয়ে নিতে পারেনি। পাকিস্তানের রক্ষণ ও গোলকিপারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের কেউ গোল করতে পারেনি প্রথম অর্ধে।
১৮ মিনিটে শিউলী আজিমের দূরপাল্লার শট গোলকিপার ঠিকমতো হাতে জমাতে পারেননি। পরে বল ক্লিয়ার হয়। দুই মিনিট পর শামসুন্নাহারের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
২৫ মিনিটে ঋতুপর্নার জোরালো শট গোলকিপারের তালুতে। পরের মিনিটে পাকিস্তানের একজনের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভেদ হয়নি। ৩১ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বাংলাদেশ। মধ্যমাঠ থেকে রামিন ফারিদের লং পাস থেকে বাঁ প্রান্তে সামিনা মালিক রিসিভ করার আগেই শিউলী টোকা দিয়ে গোলকিপারকে বল দিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। শিউলির সঙ্গে লেগে থাকা সামিনা চকিতে বল পেয়ে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা গোলকিপার রুপনা চাকমার পাশ দিয়ে নিপুণ শটে জাল কাঁপান।
৪৩ মিনিটে ঋতুপর্নার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে বাটলারের দলকে হতাশ হতে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আগের মতো দাপট অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে সাবিনার জায়গায় কৃষ্ণা রানী নামেন। তাতে আক্রমণে ধার বাড়ে। তবে আগের মতো আক্রমণে গিয়েও গোল আসছিল না। তিন পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জেগেছিল। তবে যোগ করা সময়ের গোলে এক পয়েন্ট নিশ্চিত করলে হাফ ছেড়ে বাঁচে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ঋতুপর্নার মাপা ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়র আলতো হেডে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন।
এই ড্রতে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা বেঁচে থাকলো। পরের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পেলেই নকআউট নিশ্চিত হবে সাবিনাদের।









