নাবীব নেওয়াজ জীবন এবার নতুন করে জীবন পেয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সে এসে মাঠে আবারও পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন। রহমতগঞ্জ এমএফএসের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে ৮ গোল তার ঝুলিতে জমা পড়েছে। পুলিশ এফসির আল আমিনের পরই স্থানীয়দের মধ্যে এই ফরোয়ার্ডের অবস্থান অন্যতম। তবে নতুন করে আলো ছড়ালেও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে ৩৮ জনের মধ্যে নেই জীবনের নাম। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বগুড়া থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ ফুটবলারকে দলে রাখার প্রয়োজনবোধ করেননি। সন্ধ্যার পর জাতীয় দলের তালিকা দেখে জীবনের যেন ফেরার ক্ষীণ আশার প্রদীপটা দপ করে নিভে যায়!
২০১৮-১৯ মৌসুমে ১৭ গোল করে স্থানীয়দের মধ্যে একবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন জীবন। তখন খেলেছিলেন আবাহনী লিমিটেডে। ক্যারিয়ারে নানান সময়ে আট বছর লাল সবুজ দলের জার্সি গায়ে অনেক ম্যাচে মাঠে ছিলেন। যদিও গোল মাত্র ৫টি। কাবরেরার অধীনে ২০২২ সালে শুরুর দিকে বদলি হয়ে ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল জীবনের। এরপর অনুশীলনে একবার দেরি করে আসার কারণে সেই যে দল থেকে বাদ পড়লেন তারপর আর ভাগ্য মুখ তুলে তাকায়নি। অপাঙ্কতেয় হয়ে আছেন।
এবার রহমতগঞ্জের মতো দলের হয়ে দুই হালি গোল পেলে প্রত্যাশার বেলুন একটু ফুলে ফেঁপে ওঠে। মনের কোণে স্বপ্ন উঁকি দেয় এবার বুঝি কাবরেরার মানভঞ্জন হবে। ডাক পাবেন লাল সবুজ দলে। জীবনের সেই আশায় গুঁড়ে বালি। জামাল ভূঁইয়া-রফিকুল ইসলামের মতো খেলোয়াড়রা নিয়মিত না খেলে ডাক পেলেও তার সুর বাঁধেনি।
জীবন তাই হতাশা প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আসলে যারা নিয়মিত খেলেনি, তাদের কাউকে কাউকে ডেকেছে কোচ। আমি সরাসরি তাদের নাম বলতে চাই না। কাবরেরা আমাকে আগে বাদ দিয়েছিল ছোট ইস্যু নিয়ে। আমাকে তো সে পারফরম্যান্সের কারণে আগে বাদ দেয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয় ৩৮ জনের মধ্যে আমার নাম আসেনি! এটাই আমার কাছে বড় বিস্ময়কর লেগেছে।’
তবে কাবরেরা কোচ থাকলে কখনও জাতীয় দলে আর ডাক পাবেন না, তা বুঝে গেছেন জীবন। আজ তা আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে তার অভিমত, ‘আমি জাতীয় দলে ২০২২ সালে কাবরেরার অধীনে শুরুর দিকে বদলি হয়ে খেলছিলাম। সে তো আমাকে পুরোপুরি দেখতেও পারেনি। এবার ঘরোয়া ফুটবলে ভালো খেলেও জায়গা হলো না। এখন মনে হচ্ছে ভালো খেলে লাভ নাই। এটা পরিষ্কার যে কাবরেরা থাকলে কখনও আর ডাক পাবো না। মৌসুমে যদি ৫০ ম্যাচে ১০০ কিংবা ২০ ম্যাচে ৪০ গোল করি, সিন্ডিকেট কোচ কাবরেরা আমাকে ডাকবে না।’
কাবরেরাকে সিন্ডিকেট কোচ বলার কারণ হিসেবে জীবন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘দেখুন যারা এই মৌসুমে একটি ম্যাচও খেলেনি তারা প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছে। আমি তো অন্তত ৩৮ জনের মধ্যে থাকতে পারতাম। তাই আমার কাছে মনে হয় কোচ সিন্ডিকেট করে আমাকে ডাকেননি। অন্য যারা খেলেননি তাদের কিন্তু নিয়েছেন। আমার সঙ্গে পুরোপুরি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন উনি।’
জেমি ডের সময় জীবন অনেক সুযোগ পেলেও গোল মিস বেশি করেছেন। তার নামের পাশে ‘মিস মাস্টার জীবন’ ট্যাগ ছিল। জীবন স্বীকার করে নিচ্ছেন নিজের গোল মিসের কথা, ‘আমি তো জেমি ডের সময় গোল মিস করেছিলাম। হ্যাঁ ঠিক আছে আগে আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম। তখন গোল কম হয়েছে। তবে সেটা জেমি ডে বলতে পারে। কাবরেরা তো এটা বলতে পারে না। সে তো আমাকে ঠিকমতো খেলায়নি। একটা ম্যাচ শুধু বদলি খেলেছিলাম। তারপর থেকে দেরিতে আসার অজুহাতে আমাকে বাদ দিয়েছে। এবার ভালো করেও দলে রাখেননি। সে তো আমাকে দেখেইনি। ওর সঙ্গে তো আমার কোনও ঝামেলা নাই। কোনও খারাপ আচরণ করিনি।’
এরপর মন খারাপ করে ফোন রেখে দেওয়ার সময় জীবন শুধু বললেন, ‘এখন আমি শুধু নিজের জন্য খেলবো। খেলবো ক্লাবের জন্য। যতদিন পারবো খেলাকে উপভোগ করার চেষ্টা করবো। তবে জাতীয় দলের অন্যদের জন্য শুভকামনা সবসময় থাকবে।’









