একসময় ছিল দুই ক্লাবের স্বাভাবিক লেনদেন। এখন সেটি একমুখী লেনদেনে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে বার্সেলোনা ও পিএসজির সম্পর্ক বদলে গেছে বেশ নাটকীয়ভাবে। কাতালান ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য প্যারিসের ক্লাবটি অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিপরীতে পিএসজির অর্থে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া ক্লাবগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বার্সেলোনা।
২০১৭ সালের গ্রীষ্মে নেইমারকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকে শুরু করে সর্বশেষ ১৩ আগস্ট ২০২৬-এ ফেরান তোরেসকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে নেওয়ার চুক্তি- এই সময়ের মধ্যে বার্সেলোনার খেলোয়াড় কিনতে পিএসজি খরচ করেছে মোট ৩৩৩.৬৫ মিলিয়ন ইউরো।
স্পেনের মুন্দো দিপোর্তিভোর হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের পেছনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালা ক্লাব নিঃসন্দেহে পিএসজি।
অবশ্য দুই ক্লাবের মধ্যে এর আগেও খেলোয়াড় লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০০৩ সালে প্যারিস থেকে ২৭ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান জাদুকর রোনালদিনহোর আগমন। কিন্তু আসল টার্নিং পয়েন্ট ছিল নেইমারের দলবদলে।
সেই চুক্তিই যেন দুই ক্লাবের লেনদেনের গতিপথ পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে। এরপর থেকে যাত্রাটা বেশির ভাগ সময় হয়েছে ন্যু ক্যাম্প থেকে পার্ক দে প্রিন্সেসে। উল্টো পথে আর নয়।
নেইমারের দলবদল শুধু বার্সেলোনা-পিএসজি সম্পর্ক-ই নয়, পুরো ফুটবল ট্রান্সফার মার্কেট কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে নেওয়ার সেই চুক্তি আজও ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি।
বার্সেলোনার ইতিহাসে অবশ্য এমন ঘটনা নতুন নয়। ক্লাবের সবচেয়ে দামি তারকারা অনেক সময়ই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য ক্লাবে চলে গেছেন।
১৯৬১ সালে লুইস সুয়ারেজ মিরামোন্তেস গিয়েছিলেন ইন্টার মিলানে। ১৯৮৪ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা নাপোলিতে, ১৯৯৭ সালে রোনালদো নাজারিও ইন্টারে এবং ২০০০ সালে লুইস ফিগো পাড়ি দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে।
অপরদিকে, পিএসজির এই আগ্রহ শুধু বার্সেলোনার মূল দলের তারকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নজর পড়েছে ক্লাবের বিখ্যাত যুব অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ার ওপরও।
২০১৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মিডফিল্ড প্রতিভা জাভি সিমন্সকে নিয়ে যায় পিএসজি। ট্রান্সফার ফি ছিল মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো।
এরপর ২০২১ সালে রাফিনহা আলকান্তারা ৩.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দেন পিএসজিতে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি আসে তারও আগে লিওনেল মেসির বিদায়ে। বার্সেলোনা তার চুক্তি নবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্লাবের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা কোনও ট্রান্সফার ফি ছাড়াই পিএসজিতে চলে যান। এই প্রবাহ এরপরও থামেনি। ২০২৩ সালে বার্সেলোনা অ্যাতলেতিক গোলরক্ষক আরনাউ তেনাস ফ্রি ট্রান্সফারে পিএসজিতে যোগ দেন। তখন প্যারিসের কোচ ছিলেন বার্সেলোনার সাবেক কোচ লুইস এনরিকে।
একই বছর সাবেক কোচের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে উসমান দেম্বেলের। মাত্র ৫০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ সক্রিয় করে বার্সেলোনা ছাড়েন ফরাসি তারকা।
ফেরান তোরেসের আগে প্যারিসে পাড়ি দেওয়া সর্বশেষ বার্সেলোনা প্রতিভা ছিলেন পেদ্রো ‘দ্রো’ ফের্নান্দেস। হান্সি ফ্লিকের অধীনে মূল দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া এই তরুণের জন্য তার ৬ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজের চেয়েও বেশি ৮ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে পিএসজি। সব মিলিয়ে মাত্র ৯ বছরে ৩৩৩ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের পেছনে খরচ করেছে পিএসজি।









