ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নতুন এক নাম ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে চান ইউরোপীয় ফুটবলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তবে ফিফার বিশ্ব ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৭৬ বছর বয়সী ফরাসি কোচ এখনও সভাপতি পদে লড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি।
আগামী বছর ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ফুটবলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, ২০১৯ সাল থেকে ফিফার বিশ্ব ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করা ওয়েঙ্গার বর্তমান সভাপতির জন্য গ্রহণযোগ্য বিকল্প হতে পারেন।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) উদ্যোগ প্রকাশ্যে আসার পর এই প্রথম এই সপ্তাহে জুরিখে বৈঠকে বসছে ফিফা কাউন্সিল। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ফুটবল কর্তাদের একাংশ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তাদের কেউ কেউ ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন।
বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় ইনফান্তিনোকে তার কড়া সমালোচকদের মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কিত ঘটনাও বৈঠকের আলোচনায় আসতে পারে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে বের করার চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত তা খুব বেশি এগোয়নি। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি এবং উয়েফা প্রধান অ্যালেকসান্ডার সেফেরিনের মতো সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে লড়াইয়ে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে সফরের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন ইনফান্তিনো। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন তার আরেক মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত সাবেক টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার রামন ভেগাই প্রকাশ্যে সভাপতি পদে লড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে তার জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ওয়েঙ্গার অবশ্য এখনও এ বিষয়ে নীরব। বৈঠকের আগে জুরিখে ইনফান্তিনো ও ফিফা কাউন্সিলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বিবেচনা করবেন কিনা, সে বিষয়ে ওয়েঙ্গার কিংবা তার ঘনিষ্ঠজনেরা কেউই মুখ খুলতে চাননি।
ওয়েঙ্গারের এক ঘনিষ্ঠজন তাকে সম্ভাব্য শতভাগ সঠিক প্রার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার মতে, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওয়েঙ্গারকেই।
সমর্থকদের ধারণা, ওয়েঙ্গারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ফুটবলবিশ্বে তার সুনাম তাকে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বিশেষ করে জাপানে তার কাজের অভিজ্ঞতা এবং এশীয় ফুটবলে তার গ্রহণযোগ্যতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিবিসি স্পোর্টকে ইউরোপের একটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়েঙ্গার ফুটবল বিশ্বে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। নিজেই ফুটবলের উন্নয়ন বিভাগ পরিচালনা করায় খেলাটির বিকাশ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে।
তবে সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ হবে না। কারণ ফিফায় বর্তমানে যে ব্যক্তির সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করছেন, সেই ইনফান্তিনোকেই চ্যালেঞ্জ জানানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে তাকে।