দরজায় কড়া নাড়ছে এশিয়া কাপ হকি। আগামীকাল বুধবার হকি ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে, মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে শুরু হবে হিরো এশিয়া কাপ ২০১৭। বেলা তিনটায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও জাপান। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
র্যাংকিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪ নম্বরে, আর বাংলাদেশ ৩৪ নম্বরে। ঐতিহ্য আর সাফল্যেও দুদলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। তবে পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত স্বাগতিক দল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়নের লক্ষ্য, ‘সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা একটা ম্যাচ খেলেছি। তাদের খেলার ধরণ আমাদের জানা। এশিয়া কাপের চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা প্রস্তুত। কোনও সংশয় ছাড়া বলতে পারি, বাংলাদেশ সাহসের সঙ্গেই পাকিস্তানের মোকাবেলা করবে।’
অধিনায়ক রাসেল মাহবুব জিমিও ভালো খেলার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পর আমরা ঘরের মাঠে এত বড় টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি। নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেখানোর জন্য আমরা তৈরি। আর সেটা করতে না পারলে আমাদের এতদিনের প্রস্তুতি বৃথা।’
টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে মাহবুব হারুনের তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস ধরে অনুশীলন করছেন জিমি-চয়নরা। পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ কোচের ভাবনা, ‘আমরা দেশের মাটিতে খেলছি, এর মর্যাদাই আলাদা। পাকিস্তান ভালো দল, কিন্তু আমাদের নিজেদের শক্তির ওপরে বিশ্বাস আছে। পাকিস্তানকে নিয়ে বাড়তি কোনও উদ্বেগ নেই আমাদের। তারা সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, এশীয় চ্যাম্পিয়ন, এখনও হকির পাওয়ার হাউজ। তবে আমাদের ওপরে কোনও চাপ নেই।’
এশিয়া কাপ শুরুর ঠিক আগে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সারোয়ার হোসেনকে হারানো অবশ্য বড় ধাক্কা বাংলাদেশের জন্য। গত মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব হকি লিগের দ্বিতীয় পর্বে ঘানার এক খেলোয়াড়কে স্টিক দিয়ে আঘাত করায় এশিয়া কাপে খেলতে পারবেন না সারোয়ার। তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা শোনা গেলেও গত সপ্তাহে এশিয়ান হকি ফেডারেশন জানিয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টেই বাইরে থাকতে হবে তাকে।
মিডফিল্ডার সারোয়ারকে হারানোর দুঃখ লুকিয়ে রাখতে পারছেন না মাহবুব হারুন, ‘সারওয়ারের অভাব নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলবে। কারণ একটা কম্বিনেশনে আমরা মাঝমাঠ সাজিয়েছিলাম। এখন সে নেই, তাই তাকে ছাড়াই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে। সেটা কতটা কাজ করে মাঠেই বোঝা যাবে।’
বাংলাদেশের খেলার ধরণ নিয়ে কোচের ব্যাখ্যা, ‘পেনাল্টি কর্নারের ওপর একটু বেশিই নির্ভর করবো আমরা। আশরাফুল, চয়ন আর খোরশেদ বিভিন্নভাবে পেনাল্টি কর্নার অনুশীলন করেছে। আসলে ম্যাচে মনোসংযোগ রাখা সবচেয়ে জরুরি। শুধু এটা বলতে পারি, বাংলাদেশ বল পজেশন নির্ভর আক্রমণাত্মক হকি খেলবে।’
পাকিস্তানের কোচ ফারহাত হাসান খানের কণ্ঠে বাংলাদেশকে নিয়ে সমীহ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলবে। অবশ্যই তারা শক্ত প্রতিপক্ষ। বড় টুর্নামেন্টে অঘটন ঘটতেই পারে। কোনও ধরনের অঘটন যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে পাকিস্তান সতর্ক।’
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো নয়। টুর্নামেন্টে এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুদল। ১৯৮২ সালে প্রথম আসরে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হয়েছিল ৯-০ গোলে। তিন বছর পর ঘরের মাঠের এশিয়া কাপে দারুণ লড়াই করে ১-০ গোলে হেরে যায় লাল-সবুজের দল। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ আবার হার মানে বিশাল ব্যবধানে, ৮-০ গোলে। ওই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও ভালো ছিল না। আট দলের মধ্যে সপ্তম হওয়া বাংলাদেশ জিতেছিল শুধু চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে।







