X
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪
২ আষাঢ় ১৪৩১

‘জার্মানির তৃতীয় বিভাগের ক্লাবের সঙ্গেও বাংলাদেশকে মেলানো যায় না’

তানজীম আহমেদ
১৯ মে ২০২৪, ০৯:০৩আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ০৯:০৩

২০০৯ সাল থেকে জার্মানির হকি লিগে খেলছেন জাতীয় দলে খেলা একসময়ের ডিফেন্ডার ইমরান হোসেন পিন্টু। করোনার সময় বাদ দিয়ে তার সেখানে খেলতে কোনও পিছুটান নেই। এবারও ঢাকার লিগ শেষে তৃতীয় বিভাগের দল এইচটিএসর হয়ে ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-১৮ ছেলে ও মেয়ে দলের কোচের দায়িত্বও পালন করছেন। তবে ১৫ বছর ধরে সেখানে গিয়ে যা দেখছেন, দেশে ফিরে এসে আক্ষেপটাই যেন বেশি ঝরে।

মূলত জার্মানির কোচ গেরহার্ড পিটারের সময় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ইউরোপে খেলার সুযোগ এসেছিল। বিশেষ করে জার্মানিতে একটু বেশি। এমনিতে ঢাকায় প্রিমিয়ার হকি লিগ অনিয়মিত। খেলোয়াড়রা অলস সময় কাটাতেন। তাই তাদের মান বাড়াতে গেরহার্ড নিজেই সেখানে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। রাসেল মাহমুদ জিমি-মামুনুর রহমান চয়নরা শুরু থেকে খেলেছেন। এবারও চার জন খেলোয়াড় খেলছেন। পিন্টু বনে রয়েছেন। বাকি তিনজন খেলছেন অন্য শহরে বুন্দেসলিগায়।

সবার মধ্যে অভিজ্ঞ পিন্টু এখনও আগের মতোই রোমাঞ্চ অনুভব করেন। জার্মানিতে নিয়মিত খেলা কিংবা কোচিং করানোয় নিজের ফিটনেসের সঙ্গে স্কিলের উন্নতি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিখতে পারছেন। উন্নত পরিবেশের ছোঁয়া তো আছেই। এসব দেখে জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডারের মন খারাপও হয়। বিশেষ করে জার্মানির বন শহরের তৃতীয় বিভাগের একটি হকি ক্লাবে নিজস্ব টার্ফের মাঠসহ আধুনিক সবকিছুই আছে। কোনও কিছুতেই কমতি নেই। প্রতি বছরই তাদের টেকনোলজিতে কিছু না কিছু পরিবর্তন আসছে। আর নিজ দেশে ফিরলে একমাত্র মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামই ভরসা! সেটা ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের বেলাতে প্রযোজ্য।

এনিয়ে আফসোসের সঙ্গে বন থেকে পিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘এখানে আসলে নিজ দেশের কথা চিন্তা করলে খারাপ লাগে। কী নেই তাদের! তৃতীয় বিভাগের দলের একাধিক মাঠ। সুবিধাদি তো রয়েছেই। এছাড়া বয়সভিত্তিক দলও আছে। একাডেমি থেকে সবকিছু হয়ে থাকে। আর তখন আমাদের দেশের হকির কথা মেলাতে গেলে কিংবা চিন্তা করলে খারাপ লাগে। আমাদের তো সেভাবে কিছুই নেই।’

ছেলেদের দলের সঙ্গে পিন্টু (সবার বামে, পেছনে)

পিন্টু বনের সেই ক্লাবের একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড়। বাকি সবাই জার্মান। এই ৩৬ বছর বয়সেও শেখার শেষ নেই বলে সেখানে ছুটে যান তিনি, ‘আসলে সেই ২০০৯ সাল থেকে যাচ্ছি। ওরাও আমাকে আপন করে নিয়েছে। তাই প্রতি বছর সুযোগ পেলেই সেখানে খেলতে যাই। বসে থেকে কী লাভ বলুন। তার চেয়ে যদি  জার্মানির দলে খেলতে পারি। খেলার মধ্যে থাকি। কোচিং করাতে পারি। উন্নত পরিবেশের মধ্যে থাকতে পারলে শেখাও যায় অনেক কিছু। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে ওদের বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের দীক্ষা দিতে পারছি সেটাও কম বড় বিষয় নয়।’

জার্মানি ও বাংলাদেশের তুলনা করা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। কোথায় ইউরোপের ধনী দেশ আর কোথায় উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ! পিন্টুর এতদিনের উপলব্ধি, ‘হয়তো আমরা কখনও জার্মানির মতো অবকাঠামো কিংবা সুবিধাদির কাছাকাছি যেতে পারবো না। তবে তাই বলে আমাদের হকির জন্য একটি মাঠ তো যথেষ্ঠ নয়। এমনকি আমাদের হকি তৃতীয় জনপ্রিয় খেলা। অথচ ক্লাবগুলোর তো হকির জন্য কোথাও কোনও মাঠও নেই। বড় দলগুলো কি পারে না ছোট আকারে হলেও হকির জন্য জায়গা বের করতে। ঢাকার বাইরে তো আরও খারাপ অবস্থা। আসলে হকি দিনকে দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মনোযোগ কম সবার। আর ঘরোয়া হকিই তো ঠিকমতো হচ্ছে না। সারা বছর তো খেলাটা মাঠেই নেই। এসব বলে আর কী হবে।’

ঘরোয়া হকি অনিয়মিত। তারওপর যা হয় তাও আবার বিতর্কে ঘেরা। জাতীয় দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। জোরেশোরে কিছু যে হবে, সেদিকে দৃষ্টি কম। পিন্টুর প্রত্যাশা, ‘হয়তো এই দশা কোনও একসময় থাকবে না। হকির উন্নতি হবে। হারানো গৌরব ফিরে আসবে। সেই আশায় আছি।’

পিন্টু স্বপ্ন দেখেন। আশায় বুক বাঁধেন। তবে শিগগিরই হকিতে কিছু হবে, তা ভাবা অলীক স্বপ্নের মতোই!

/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এ বছর বরিশাল রুটে লঞ্চে চাপ বেড়েছে
এ বছর বরিশাল রুটে লঞ্চে চাপ বেড়েছে
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
নামিবিয়াকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড
নামিবিয়াকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড
টিভিতে আজকের খেলা (১৬ জুন, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (১৬ জুন, ২০২৪)
সর্বাধিক পঠিত
রেমিট্যান্সের পালে স্বস্তির হাওয়া, রিজার্ভেও উন্নতি
রেমিট্যান্সের পালে স্বস্তির হাওয়া, রিজার্ভেও উন্নতি
আমরা আক্রান্ত হলে ছেড়ে দেবো না: সেন্টমার্টিন নিয়ে ওবায়দুল কাদের
আমরা আক্রান্ত হলে ছেড়ে দেবো না: সেন্টমার্টিন নিয়ে ওবায়দুল কাদের
কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া?
কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া?
বেনাপোলে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি
বেনাপোলে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি
‘মাস্তান’ গরুটির জন্য কাঁদছে দর্শক
‘মাস্তান’ গরুটির জন্য কাঁদছে দর্শক