ওয়ানডেতে মাশরাফিকে অনেকদিন চান সাকিব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট, শ্রীলঙ্কা (কলম্বো) থেকে
প্রকাশিত : ১৫:৩০, এপ্রিল ০৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩০, এপ্রিল ০৭, ২০১৭

মাশরাফি ও সাকিবপরিবারের আপন কেউ মারা গেলে পুরো পরিবারে যেভাবে শোক নেমে আসে, ঠিক তেমনই ছিল বাংলাদেশের গত কয়েকদিনের ড্রেসিংরুমে। সেখানে সবার মধ্যে এক ধরনের বিষণ্নতা। সব কাজ ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে, কিন্তু সবার চোখেমুখে এক ধরনের কষ্ট লুকিয়ে। যেন প্রাণ নেই কাজে। কারণটা হলো- ক্রিকেটারদের প্রিয় নেতা মাশরাফি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে নিয়ে ফেলেছেন।

দলের তরুণ ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরুর আগে থেকেই মাশরাফির ভীষণ ভক্ত। বড় ভাই, অভিভাবক মাশরাফিকে হারিয়ে তাই বিষণ্ন তাসকিন। মাশরাফির বিদায়ে কেঁদে-কেটে অস্থির তাসকিন। শুধু যে তাসকিন তা নয়, জুনিয়র ক্রিকেটাররা সবাই মাশরাফিকে অভিভাবক মানেন। তার বিদায়ে সবাই শোকাহত।

সিনিয়র যারা আছেন; তারা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও জুনিয়ররা পারেননি। তাইতো তাদের ‍বুক ফাটলেও চোখ ছলছল করলেও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। মাশরাফি ড্রেসিংরুমে একটি পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছেন। যেখানে সিনিয়রদের কৃতিত্ব নেই। আছে শাসন, ভালোবাসা। পুরো সময়টাই তিনি সতীর্থদের মাতিয়ে রাখতেন। এমন মাশরাফিকে দলের সবাই দারুণভাবেই মিস করবে এটাই স্বাভাবিক।

দলের আরেক সিনিয়র খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। তারও আবেগ ছুঁয়ে গেছে মাশরাফির বিদায়ে। ড্রেসিংরুমের কথা মনে পড়তেই তিনি জানালেন, ‘তিনি (মাশরাফি) তো ড্রেসিংরুমে একটা অন্যরকম ব্যক্তিত্ব। স্বাভাবিকভাবেই সবাই উনাকে মিস করবে। অনেক জায়গাতেই অনেক সময় সমর্থন দরকার হয়, খেলার ভেতরে ও বাইরে। তার মতো সহায়তাকারী মানুষই হয় না। সেই সব দিক থেকে সবার জন্য ভীষণ কষ্টের অনুভূতি।’

অনেকদিন ধরেই একসঙ্গে খেলছেন সাকিব-মাশরাফি। টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফির উত্তরসূরি হিসেবে অন্যতম তালিকায় আছেন সাকিব। তার বিদায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেছেন এ অলরাউন্ডার। মাশরাফির বিদায়কে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে চান সাকিব, ‘ক্রিকেট খেলোয়াড়রা আজীবন খেলবে না। একটা সময় অবসর নিতেই হবে। আমি তাকে ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানাই। তিনি তো আর একবারে চলে যাচ্ছেন না। তিনি আমাদের ওয়ানেডে দলের অনেক বড় একটা অংশ। আমি চাইব ওয়ানডেতে যেন মাশরাফি ভাই অনেকদিন খেলেন। আগের মতো বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেবেন বলেই আশা করি।’

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচটিতে জিততে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। সাকিব বলেছেন, ‘অবশ্যই ভালোভাবে মাশরাফি ভাইয়ের বিদায়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শুধু যে মাশরাফি ভাইয়ের জন্য সেটা নয়। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে পরলে এমনিতেই সবাই দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে। আজ যেটা হয়েছে, আমরা বাড়তি প্রেরণা পেয়েছি।’

/আরআই/এফএইচএম/

লাইভ

টপ
X