সহজে সিরিজ জয় এবং আবারও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:৫৩, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০১, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

সিরিজের শেষ ম্যাচে অনেক নতুন রেকর্ড করে টিম বাংলাদেশ অনায়াসে সিরিজ জয় করে নিলো। অভিনন্দন বাংলাদেশ দলকে ও বিশেষ করে (তিন ম্যাচের) এক সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ইমরুল কায়েসকে তার অসাধারণ ধারাবাহিক নৈপুণ্যের জন্য।

শেষ ম্যাচে এসে জিম্বাবুয়ে ব্যাট হাতে যথেষ্ট ভালো করেছে, লম্বা পার্টনারশিপ করেছে। যদিও দলীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করলেও তা আমাদের দল তাদের ২৮৬ রানের পুঁজিকে অনায়াসে টপকে যায়। জিম্বাবুয়ের এই দলে কয়েকজন ভালো ব্যাটসম্যান থাকলেও এক কাইল জার্ভিস ছাড়া ভালো মানের কোনও বোলার না থাকায় তাদের দলগত শক্তির ভারসাম্য ভালো পিচে ন্যুনতম বিচলিত করতে পারেনি বাংলাদেশ দলকে।

এই শেষ দুই ম্যাচের পিচ হয়তো একটু বেশি ব্যাটিং সহায়ক ছিল, তবে অধিনায়ক মাশরাফি এ ধরনেরই উইকেট চেয়েছিলেন যেখানে ধারাবাহিক বাউন্স ও গতিতে বল ব্যাটে আসবে। যদি পিচে বাউন্স সামান্য বেশি থাকতো, তাহলে তা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য পরিপূর্ণ উপযোগী হতো। মিরপুরের ‘বাজে’ পিচের চেয়ে চট্টগ্রামের পিচ তাকে তৃপ্ত করলেও দুর্ভাগ্যবশত জিম্বাবুয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির আলোকে মাঠে তেমন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। তাই বাংলাদেশ দলের কোনও দুর্বলতম জায়গা নতুন করে কোচদের চোখে ধরা পড়েনি।

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে এই একদিনের ম্যাচের সিরিজির ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার পর আলোচনায় ছিল সাকিবের জায়গায় তিন নম্বরে কে ব্যাট করবেন। আলোচনায় ছিলেন নবাগত ফজলে রাব্বি ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো ফর্মে থাকার কারণে ফজলে রাব্বি দুটি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি ব্যর্থ হওয়ার কারণে তৃতীয় ম্যাচে তাকে বাদ দিয়ে এবং দলে অন্তর্ভুক্ত শান্তকে একাদশে সুযোগ না দিয়ে দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো।

যখন তিন ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়, তখন সব জায়গায় বিকল্প খেলোয়াড়ের কথা বিবেচনা করেই নির্বাচকরা তা ঘোষণা করেন এবং তাদের এই প্রক্রিয়ায় একটি স্তরে অধিনায়ক ও কোচও সম্পৃক্ত থাকেন। তাই কোনও খেলোয়াড় অসুস্থ বা ইনজুরিতে না পড়লে অন্য খেলোয়াড়ের সংযোজন হওয়ার নজির সচরাচর দেখা যায় না।

চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গ এই পিচে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা উদ্বোধনী জুটিতে ১৪৮ রান সংগ্রহ করেছি এবং প্রায় ৬ ওভার বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছি। মাহমুদউল্লাহ তো চট্টগ্রামে ব্যাট করারই সুযোগ পেলেন না! পিচ এতটাই ভালো যে একজন আউট না হলে বোলারদের আউট করা কঠিন। ব্যাটসম্যানদের দাপটের দৃশ্যই তার প্রমাণ দেয়, তৃতীয় ম্যাচে দুই দলের যোগ করা মোট ৫৭৪ রানে উইকেট পড়েছে মাত্র ৮টি।

আমার প্রশ্ন হলো দ্বিতীয় ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে ম্যাচ ও সিরিজ জেতার পর মাশরাফি কিংবা প্রধান কোচ কি নতুন কোনও ব্যাটসম্যানের চাহিদাপত্র দিয়েছিলেন নির্বাচকদের? নাকি নির্বাচকরা তাদেরই তৈরি করা দলকে তৃতীয় ম্যাচের জন্য উপযুক্ত মনে না করে স্বপ্রণোদিত হয়ে সৌম্য সরকারকে খেলানোর জন্য উড়িয়ে এনেছেন? নাকি বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সরাসরি এটা হলো? এখানে এই নাটকীয় পরিবর্তনে কোন খেলোয়াড় জায়গা পেল কিংবা সেই খেলোয়াড় সফল হলেন না ব্যর্থ হলেন, সেটার চেয়ে ‍গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চিরাচরিত স্বীকৃত নির্বাচন প্রক্রিয়া কক্ষচ্যুত হচ্ছে এবং এশিয়া কাপের পর এই সিরিজেও একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি হওয়াতে তা বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। নির্বাচকদের ঘোষণা করা দলটি যা কিনা বোর্ড সভাপতি বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুমোদন করেন, সেটার আর যথার্থ মূল্য থাকছে না।

দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জেতাতে মাশরাফি দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই দলে পেসার আবু হায়দার ও ব্যাটিং অলরাউন্ডার আরিফুল হককে বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে মাঠে নামালেন, কিন্তু তিন নম্বরের জন্য উপযুক্ত খেলোয়াড় শান্তকে দলে খেলাতে পারলেন না। আমি অনেকটাই নিশ্চিত যে, এই সিরিজে তার দলের এত অর্জনের মাঝেও মাশরাফির মনে একটা অতৃপ্তির স্রোত বয়ে যাবে। তিনি নির্বাচিত একজন খেলোয়াড়ের প্রতি প্রাপ্য জাস্টিস করতে পারলেন না। একই সঙ্গে এমন ব্যাটিং স্বর্গ পিচে সম্ভাবনাময় একজন ব্যাটসম্যান ব্যাট করার সুযোগ হারালো।

কয়েক সপ্তাহ পরই বাংলাদেশ সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আশা করছি, তার আগেই বোর্ড পরিচালকরা অন্তত খুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করবেন, কেন বারবার নির্বাচন প্রক্রিয়া হোঁচট খাচ্ছে। চিন্তা-ভাবনার ব্যাপ্তি বাড়িয়ে সময় নিয়ে দল তৈরি করুন। নির্বাচকদের মর্যাদা যাতে ক্ষুন্ন না হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেন আবারও পড়তে না হয় ‘ডাজ বাংলাদেশ নিড এনি সিলেক্টরস’।

/কেআর/

লাইভ

টপ