বাংলাদেশ ক্রিকেটের কৌশলগত উন্নয়ন আমার কাছে পরিষ্কার নয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:১৫, নভেম্বর ০৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৫, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।সকালে টেলিভিশনের পর্দায় সিলেটের এই নতুন টেস্ট ভেন্যুটি দেখে মন ভরে গেলো। বিসিবি ও স্থানীয় আয়োজকদের ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখার বিভিন্ন তৎপরতাও ছিলো প্রশংসনীয়। ঝকঝকে প্যাভিলিয়ন ও চোখ জুড়ানো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দারুণ উপভোগ করছিলাম।। ধারাভাষ্যকারদের আলাপচারিতার সময় এত সবুজ আউটফিল্ড আমার মনকে দারুণভাবে তৃপ্ত করেছিলো। আমি মুখিয়ে ছিলাম ও আশা করছিলাম এই নতুন টেস্ট ভেন্যুতে আমাদের ক্রিকেটকে আরও গতিশীল করার জন্য গতিময় সবুজ ঘাসের উইকেটের দেখা পাবো। প্রচলিত মন্থর সনাতন পিচের রেসিপি পাল্টিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলার জন্য এই ভেন্যুটিতে একটি আদর্শ পিচের দর্শন মিলবে, যা পেস বোলারদেরকেও গতি ও বাউন্স দিয়ে সহায়তা করবে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিলো ভিন্ন, পিচ দর্শনে বোঝা গেলো পিচের ঘাস ছেটে এক প্রকার ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। দল ঘোষণার সময় প্রথম সারির চারজন পেস বোলার নেওয়া হলেও দলে স্থান পেয়েছেন মাত্র একজন। যা দুদিন আগে হেড কোচের দেওয়া বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।

১৫ সদস্যের দল ঘোষণার আগে প্রতিপক্ষ ও সিলেটের পিচের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং এই ম্যাচ থেকে দলের পেস বোলিংয়ের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে নিশ্চয় ৪ পেসার দিয়ে দল তৈরি করেছিলেন নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। তাহলে কার পরামর্শে পিচ ন্যাড়া হলো এবং দলে ৩জন স্পিনার সংযোজনের মতো একটা ক্ষেত্র তৈরি করা হলো। টি-টোয়েন্টি ও একটিদের ম্যাচের জন্য অধিকতর গ্রহণযোগ্য আরিফুলের জায়গায় একজন বিশেষজ্ঞ পেস বোলার সংযোজন না করাটা ছিলো বড়ই অবাক করার মতো বিষয়। সেক্ষেত্রে নির্বাচকদের আস্থাভাজন নবাগত খালেদ মাহমুদকে পরখ করে নেওয়া যেত। এই মন্থর ও লো বাউন্স পিচেও রাহী, আরিফ সারা দিনে (১৮+৪) ২২ ওভার বল করে ৪-৫টি আউটের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তারা একটি উইকেটও তুলে নিয়েছেন। রাহি নতুন বলে চমৎকার সুইং করিয়েছেন তবে লাইনের প্রতি আরেকটু যত্নশীল হতে পারলে আরও উইকেট পেতে পারতেন। দলে অন্তত দুজন পেস বোলার সংযোজন না করা বা এমনভাবে পিচ তৈরি করার মাঝে পেস বোলারদের দারুণভাবে নিরুৎসাহিত করা হলো। সারা দিনে প্রথম সারির তিনজন স্পিনার দীর্ঘ ৬৬ ওভার বল করে পেয়েছেন মাত্র ৩ উইকেট এবং খণ্ডকালীন রিয়াদ ত্রানকর্তা হিসেবে দিনের সফল ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামসকে আউট করেছেন।

প্রথম দিনে আমার মূল্যায়নে ৪ স্পিনার দুই প্রান্ত থেকে ৬৯ ওভার বল করে জিম্বাবুয়ে দলের ব্যাটিংয়ের ওপর মোটেও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। কোচ স্টিভ রোডস ভবিষ্যতে বিদেশের সিরিজের কথা মাথায় রেখে পেস বোলারদের দলে সংযোজনের যে ইচ্ছা   সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন তার সেই কৌশল অবমূল্যায়িত হয়েছে। পিচে যদি ঘাস ও বাউন্স রাখার চেষ্টা করা হতো ও বাড়তি পেস বোলার সংযোজন করা হতো। তাহলে কোর্টনি ওয়ালস তাদের পারফরম্যান্স আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন। টেস্ট ম্যাচে কার্যকর বাউন্সার দেওয়ার পারদর্শিতার পরীক্ষা নিতে পারতেন। সারা দিনে দুটি নতুন বল ব্যবহার হলেও এক প্রান্ত থেকে স্পিনারদের দিয়ে আক্রমণের দৃশ্য দেখা হেড কোচ ও বোলিং কোচের জন্য দুঃখজনক। কয়েক মাস পর নিউজিল্যান্ড সফরে সারা দিনে হয়ত পেস বোলারদের ৪৫ থেকে ৫৫ ওভার বল করতে হবে। তাদের খেলার সুযোগ যদি জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে না হয় তবে আর হবে কবে?

একদিনের ম্যাচে আমরা তিন পেসার দিয়ে প্রায়শই খেলছি অথচ টেস্ট ম্যাচে যখন একজন ব্যাটসম্যান দলনায়ক থাকেন তখন অধিকাংশ সময়ই কাটাছেঁড়াটা হয় পেস বোলারদের নিয়ে এবং অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান সংযোজিত হয় মূল একাদশে।

দেশের মধ্যে অধিকতর সফলতার জন্য দুর্বল কৌশলকে প্রাধান্য না দিয়ে আদর্শ প্লেয়িং কন্ডিশনের পিচে ক্রিকেটারদের প্রতিদ্বন্দ্বী করে গড়ে তোলার ছক যেন তৈরি করা হয়। তার সঠিক বাস্তবায়ন ঘরোয়া ক্রিকেট পিচের, আম্পায়ারিংয়ের মানের উন্নয়নে ও ধারাবাহিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাঝেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের এই জুটি ভঙ্গ করতে না পারলে তারা প্রথম সেশনটি খেলে ফেলতে পারেন। ৪টি সেশন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে টিকে গেলে তারা এই ম্যাচে লড়াই করার একটি বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবেন।

বাংলাদেশের দলে আমি ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মিঠুনকে দেখবো বলে আশা করেছিলাম। দীর্ঘদিন বেঞ্চে বসে থাকার পর যে ছকের হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও আরিফুল দলভুক্ত হয়ে থাকেন না কেন তাদের উচিত হবে নিজের সামর্থ্যটুকু দিয়ে প্রথম ইনিংসটিকে আলোকিত করা। আমার চোখে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই দুজন খেলোয়াড় যথেষ্ট ভাগ্যবান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের বড় রান করার সুযোগ নাও হতে পারে।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ