দায়িত্ব এখন ব্যাটসম্যানদের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০০:৫৮, নভেম্বর ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৭, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

দারুণ চাপের মাঝে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসেই এত বিশাল রানে পিছিয়ে পড়বে, খেলোয়াড়রাও সম্ভবত চিন্তা করেনি। ঠিক একইভাবে হঠাৎ করেই পাওয়া ১৩৯ রানের লিডটাকে অতিরিক্ত উত্তেজনায় ভোগা জিম্বাবুইয়েন ব্যাটসম্যানরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলো না। অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও শন উইলিয়ামস দুজনে যেভাবে বাংলাদেশের সব বোলারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন, যদি তারা তাদের মনসংযোগ না হারিয়ে এমন অপ্রয়োজনীয় শট না খেলতেন, তাহলে ম্যাচটাকে অনায়াসেই বাংলাদেশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে পারতেন। তবে এ কথাও ঠিক এই দুই ব্যাটসম্যানের দুই ইনিংসের অবদানের কারণে তৃতীয় দিন শেষেও জিম্বাবুয়ের জয় পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।

তৃতীয় দিনের পিচ এমন কোনও ভয়ঙ্কর আচরণ করেনি যে, জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯৫ রান করা যাবে না। তবে এই জয় পেতে হলে অন্তত দুজন ব্যাটসম্যানের অনেক বড় ইনিংস খেলতে হবে। দুটো শক্তিশালী জুটি প্রয়োজন এবং সেটা যত উপরের সারির ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে পাওয়া যায় ততই মঙ্গল। বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার কৌশলে শুরুটা ভালোই হয়েছে বাংলাদেশের। তবে স্পিনের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশলের সঙ্গে লুজ বল থেকে ফায়দা তুলে নেওয়ার মাঝেই নিহিত হবে আমাদের সফলতার সম্ভাবনা। গত ৪-৫ টেস্টে আমাদের ব্যাটিং পরিসংখ্যান মোটেও ভালো নয়, তাই চতুর্থ ইনিংসে প্রয়োজনীয় ২৯৫ রান সংগ্রহ করার কাজ যথেষ্ট কঠিন।

মন্থর পিচে জিম্বাবুয়ের পেস বোলাররা রিভার্স সুইংয়ে কতটা কার্যকর হয়, সেটি হবে দেখার বিষয়। তবে পেস বোলারদের জন্য বলের একদিক চকচকে করে রাখলে তাদের স্পিনাররা সেটি নিশ্চয় পছন্দ করবে না। জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য ১০ উইকেট, তার জন্য বোলিং ইউনিটের স্পিনারদের ওপরই নির্ভর করবেন তাদের অধিনায়ক। তৃতীয় দিনে সিকান্দার রাজার করার শেষ বলটি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বল মোকাবিলায় ব্যাটসম্যানরা রক্ষণাত্মক ভূমিকায় বেশি থাকবেন বলে জিম্বাবুয়ে দলের সফলতা নির্ভর করবে ক্লোজিং ফিল্ডারদের শার্প ক্যাচ ধরার সামর্থ্যের ওপর। লো বাউন্স থাকায় এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে যেন আমাদের ব্যাটসম্যানরা না পড়েন, তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ভালো ব্যাট করলেও এই ম্যাচে অন্তত চারটি সেশনের মুখ দেখবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং জিম্বাবুয়ের অনভিজ্ঞ স্পিনারদের ম্যাচ জেতার আগাম উত্তেজনা তাদের স্বাভাবিক বোলিংয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তবে সিকান্দার রাজা নিশ্চিতভাবেই সমীহ আদায় করে নিয়েছেন। ম্যাচ জেতার মতো অবস্থানে থেকেও দক্ষ দল পরিচলনার অভিজ্ঞতার কারণে মাসাকাদজা চাপে থাকবেন। তার ফিল্ডিং সাজানোর কৌশল ও বোলিং সামলানোর দিকে সবারই বিশেষ নজর থাকবে।

চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশকে যে ৩৮০ বা ৪০০ রান চেজ করতে হচ্ছে না, সেই কৃতিত্বের বেশিরভাগই পাবেন তাইজুল ইসলাম। দলের মুখ্য স্পিনার সাকিব থাকলে বোলিংয়ের ভাগাভাগিতে তাইজুল এত কম সুযোগ পান যে, তার সামর্থ্য আমরা দেখার সুযোগ পাই না। এই ম্যাচে ঠিক যেমনটি হয়েছে নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে। অতীত হিসাবের অঙ্ক বা চতুর্থ ইনিংসের ব্যাট করার চাপ যতই আমাদের প্রতিকূলে থাকুক না কেন, আমার বিশ্বাস চতুর্থ দিনে শেষ অবদি জয় হবে বাংলাদেশের।

ম্যাচ জেতার জন্য জমজমাট লড়াই করার নতুন এক পরীক্ষা চতুর্থ দিনে আমাদের ব্যাটসম্যানরা যেন সফলভাবে দেয়, সবার মতো আমিও সেই প্রার্থনাই করব।

/কেআর/

লাইভ

টপ