ব্যাটিং অ্যাপ্রোচই আফগানদের এগিয়ে রাখলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:৩০, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৬, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

প্রথম দিনের শেষে আফগানরা ২৭১ রানে ৫ উইকেট হারিয়েও এগিয়ে থাকলো। টি-টোয়েন্টি খেলায় কুশলী আফগান দলের ব্যাটসম্যানদের কাছে থেকে এত পরিচ্ছন্ন ব্যাটিং দেখবো ভাবিনি।

ওদের টেম্পারমেন্ট ও অ্যাপ্রোচ দেখে কখনোই মনে হয়নি তারা তাদের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলছে। আমাদের স্পিন বোলিং যথেষ্ট কুশলতার মাঝেই সামাল দিয়েছে তারা। আমাদের প্রথম সারির স্পিনারদের মাঝে একমাত্র তাইজুলই তার লাইন ও ফ্লাইটের ভেরিয়েশনে ছিলেন যথেষ্ট উজ্জ্বল। রহমত শাহ যে একজন মার্জিত নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তার ফুটওয়ার্ক, হাত, পা ও চোখের চমৎকার সমন্বয় তা জানান দিচ্ছিল। সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানই প্রথম দিনের মধ্যমণি ছিলেন। আসগর আফগানকে নিয়ে রহমত শাহই দলের ভিত গড়ার মতো একটি পার্টনারশিপ করেন। আফগান ও রহমত শাহ আমাদের স্পিনারদের করা শর্টপিচ ও লুজ ডেলিভারিগুলো থেকে নেওয়া বড় শটগুলি ছিল দারুণ টাইমিং সমৃদ্ধ।

আফগানরা যা চেয়েছিল দিন শেষে তারা নিশ্চয়ই তৃপ্ত। ৪ উইকেট হারিয়ে এই সংগ্রহ করতে পারলে আফগানরা পরিপূর্ণভাবে আত্মতুষ্টিতে বিভোর থাকতে পারতো। তবে দিনের শুরুতে টস জেতাটা ছিল তাদের বড় একটা প্রাপ্তি। সঙ্গে দিনের শেষে অপরাজিত ৭৪ রানের পার্টনারশিপ আফগানদের ইনিংসটাকে বড় করার একটা বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রথম একাদশে এত ব্যাটসম্যানের ছড়াছড়ি বলে দেয় তারা নির্ভার হয়ে ম্যাচ খেলতে নামেনি। চাপা একটা অস্বস্তি সেখানে বিদ্যমান। মোসাদ্দেকের জায়গায় একজন পেস বোলার হিসাবে তাসকিন বা এবাদতকে দেখবো বলে আশা করেছিলাম। দলে নতুন হেড কোচ, বোলিং কোচের সংযোজনের পরও এই স্পিন নির্ভরশীল একপেশে বোলিং প্রথম দিনে এক কথায় ছিল নির্বিষ। হেড কোচের কথা ও কাজে কোন মিল খুঁজে পেলাম না। তিনি বলেছিলেন, দেশের বাইরেও দল যেন ভালো করে সেদিকেও নজর দেবেন। সেটা কিভাবে করবেন, কারণ চকচকে শক্ত নতুন বল স্পিনারদের হাতে দুই প্রান্ত থেকে বড়ই বেমানান।

এই পিচ অধিকাংশ দিনই ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই থাকবে বলে আমার ধারণা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে স্পিনাররা কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন, তবে তা ভয়ঙ্কর হবে বলে মনে হয় না। তবে একই পিচে আফগান রিস্ট স্পিনাররা বলের থেকে কেমন টার্ন পান তা আগামী ইনিংসে পরিষ্কার হবে।

সারা দিনে ৯৬ ওভার বল করে ২৭১ রানে আটকে রাখা নেহায়েত মন্দ নয়। তবে তাইজুল, নাঈমদের পাশাপাশি সাকিবকেও উইকেট পেতে হবে। দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনের মাঝে আফগানদের অলআউট করাটাই হবে বাংলাদেশের প্রধান কাজ। সেই লক্ষ্য অর্জন ও তার সফলতা নির্ভর করছে কত দ্রুত আফগান ও জাজাই জুটিকে আউট করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানো যায়।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ