বড়ই হতাশাজনক পারফরম্যান্স

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:২৭, নভেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩২, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

গাজীখেলার প্রথম দিন শেষে স্বচ্ছ পানির মতোই অনুমেয় ছিল আমাদের পরাজয়। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেও যে আমরা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবো না তা ভাবিনি। কিন্তু খেলোয়াড়দের প্রতি আমাদের আস্থার আকাঙ্ক্ষিত মর্যাদা তারা রাখতে পারেনি, একমাত্র মুশফিকই বলতে পারেন যে অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থন শেষ অবধি তিনি পাননি।

আমার ধারণা অনুযায়ী দিনের শুরুতেই ভারত ইনিংস ঘোষণা করে এবং দিনের শুরুতে পিচে যে আর্দ্রতাটুকু থাকে, সেটা থেকে ফায়দা তোলা ছিল এই ইনিংস ঘোষণার মূল লক্ষ্য। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আমাদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা চকচকে উজ্জ্বল বলের পলিশটুকু নষ্ট হওয়া অবধি অবিচ্ছিন্ন থাকবেন, যা প্রথম ইনিংসের তুলনায় অনেক সহজ কাজ ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও তারা দুজনই প্রথম ইনিংসের মতো আবারও প্রত্যেকে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তবে সাদমান ইসলামকে ইশান্ত শর্মা যে ডেলিভারিতে বোল্ড করেন, তা ছিল ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত এক ডেলিভারি। প্রথম সেশনে চার ব্যাটসম্যানের প্রস্থানের মাঝে সূচিত হয়, তৃতীয় দিনে কখন ম্যাচটি শেষ হতে যাচ্ছে।

পিচের আচরণ যথেষ্ট ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি ছিল, বলের বাউন্সে কোনও ওঠা-নামা ছিল না। স্পিনারদের জন্য তেমন টার্নও ছিল না। এমন পিচেও যদি আমরা ব্যাট করতে না পারি তবে প্রশ্ন ওঠে আমাদের সক্ষমতার ওপরই, অন্তত ওপরের সারির ব্যাটসম্যানদের। লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আউট হওয়ার পেছনে তাদের টেম্পারমেন্ট ও বল সিলেকশনকে দায়ী করা যায়। ২০০০ সালে প্রথম টেস্টে আমিনুল ইসলাম করেছিলেন ১৪৫ আর ২০১৯ এ এসে দুই ইনিংস মিলে মাত্র একটি অর্ধশতক! এত সুযোগ-সুবিধা, ভুরিভুরি বিদেশি কোচ সঙ্গে নিয়েও এই পারফরম্যান্স হজম করা কঠিন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যায়ক্রমে পিচের উন্নতি হলেও তা এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দাবি মেটানোর কাছাকাছি যায়নি, যার দিকে নজর দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। মনমতো নীচু মানের পিচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর যখন বিসিবি তুলেছে তখনই নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমরা আমাদের ক্রিকেটের প্রকৃত মানটা কি ভুলে যাচ্ছি! আরও যে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে সেটা মাথায় আনিনি।

ভারতের আজ এমন পেস বোলিং ইউনিট দেখলে ঈর্ষা হয়, তারা আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে এমআরএফের পৃষ্ঠপোষকতায় পেস বোলিং অ্যাকাডেমি স্থাপন করে কাজ করে গেছে, এনেছে ঘরোয়া ক্রিকেটে পিচ তৈরিতে ব্যাপক উন্নয়ন। তাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল এমন বোলিং ইউনিট নয়, মায়াঙ্ক আগারওয়ালের মতো অনেক উঠতি ব্যাটসম্যানও।

আমাদের জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্রিকেট প্রশাসনকে তথা ক্রিকেটকে বিকেন্দ্রীকরণ অতি জরুরি। নইলে সামনে আমাদের টেস্ট ক্রিকেটে অন্তত সুদিন অপেক্ষা করছে না নিশ্চিতভাবে বলা যায়। আমি মনে করি, এই দেশের প্রকৃত ক্রিকেট মেধা টেস্ট ম্যাচের কনটেস্টের মাঝেই প্রকৃতভাবে বিচার করা যায়। একদিন বা টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল শুধু একটা ফরম্যাটেই হতে পারে। ক্রিকেটের প্রকৃত উন্নয়নের পরিকল্পনা ও দায়িত্ব আসলে বিসিবিকেই নিতে হবে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ