যেভাবে তৈরি হয় গোলাপি বল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১৪, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৭, নভেম্বর ২১, ২০১৯

গোলাপি বলের অনুশীলনে বাংলাদেশ দল। ক্রিকেট সামগ্রীর উন্নতি সাধনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে অনেক প্রকারে। তবে দিবা-রাত্রির টেস্টের জন্য ব্যবহৃত গোলাপি বলের ওপর এত পরীক্ষা ক্রিকেট ইতিহাসে আর হয়নি! এমনটা দাবি বল প্রস্তুতিকারী কোম্পানিগুলোর। তাই অনেকেরই আগ্রহের জায়গা- এই বিশেষ বল তৈরি হয়েছে কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়ার কোকাবুরা অভিষেক দিবা-রাত্রির টেস্টের জন্য বানিয়েছিল গোলাপি বল। সেই টেস্ট দিয়ে অভিষেক হয় কোকাবুরার গোলাপি বলের। ভারতীয় উপহমহাদেশে ব্যবহৃত এসজি বল অবশ্য শুক্রবার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে একইভাবে। কলকাতায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-ভারতের কারোরই গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। আর এই টেস্টেই প্রথমবার ব্যবহৃত হবে এসজির গোলাপি বল। এক কথায় গোলাপি বলের টেস্টে অভিষেক হতে যাচ্ছে এসজি তথা স্যান্সপ্যারেইলস গ্রিনল্যান্ডসের।  

ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ টেস্ট ক্রিকেটকে আকর্ষণীয় করতে দিবা-রাত্রির টেস্টের জন্ম। কিন্তু এই সংস্করণের গোলাপি বলের আদর্শ রূপ দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ৯টি বছর! ২০০৬ সালে এমসিসির একটি ম্যাচে কোকাবুরার তৈরি করা গোলাপি বল ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই চ্যারিটি ম্যাচে বলটির ব্যবহারের পরই তা নজরকাড়ে ক্রিকেটের কাস্টোডিয়ান সংস্থা এমসিসির।
এ প্রসঙ্গে কোকাবুরার তথ্য কর্মকর্তা শ্যানন গিল জানান তাদের প্রথম অভিজ্ঞতার কথা, ‘হ্যাঁ, এটা সত্যি গোলাপি বলের ওপর অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ও টেস্টে ব্যবহারের আগে প্রচুর পরীক্ষা হয়েছে এই বলের ওপর। ২০০৬ সালে এমসিসি এই বলের চ্যালেঞ্জ নিতে বলে আমাদের। যাতে দিবা রাত্রির প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্টে ব্যবহার করা যায়। আর কোকাবুরা অন্যতম যারা গুরুত্বের সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জটা হাতে নেয়।’

অবশ্য গোলাপিতে কোন রঙয়ের শেড হবে এ নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে ৯টি বছর। প্রায় ১৬টি বিভিন্ন শেড ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়তি শেড ব্যবহারের কারণই হল আলোর নিচে যেন দেখতে সুবিধা হয়। চোখের দৃশ্যমানতা নিয়ে মূল সমস্যা ছিল প্রস্তুতকারকদের। গিল তাদের বল প্রস্তুতি নিয়ে জানান, ‘প্রথম টেস্টে যে পিংক রঙয়ের শেড ব্যবহার করা হয়েছে এটা ধীরে ধীরে উন্নতির ফসল। ক্রিকেট বলে যেসব চামড়া ব্যবহার করা হয়েছে সবগুলোই বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এসেছে। যাতে করে সেরা ফলটা পাওয়া যায়।’

সাধারণ লাল বল আর গোলাপি বলের পার্থক্যই হলো রঙয়ের বাড়তি স্তর এবং এর সঙ্গে প্রস্তুতির সময় আলাো করে দেওয়া বাড়তি রঙ। যাতে করে বলটা উজ্জ্বল দেখায় ফ্লাডলাইটে।

অবশ্য এই গোলাপি রঙকে আদর্শ হিসেবে ব্যবহার করার আগেও যে তা নির্বাচনে ভুল হয়নি এমন নয়। আলোর নিচে ব্যবহারের জন্য হলুদ আর কটকটে কমলা রঙ ব্যবহার হয়েছে। যাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন টিভির ব্রডকাস্টাররা। তারা জানিয়েছেন, টিভিতে এসব বল কমলা ও হলুদ রঙয়ে বলটি দেখতে গেলে চোখে ধাক্কা লাগবে ও দেখতে অসুবিধা হবে।

এরপর কোন রংয়ের সিম বসবে এনিয়েও এক প্রস্থ গবেষণা চলে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে। গিল জানান, ‘প্লেয়াররা জানায় বাইরের সবুজ সিম আর ভেতরের সাদা সিম গোলাপি বলে ধরা কষ্টকর হয়ে যায়। উজ্জ্বলতার বিষয় থাকে বলে কালো সিম দিয়ে আমরা পরীক্ষা করি। তখনই এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক ফল পাই।’

তাই ৯ বছরের প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে আদর্শ বর্তমান গোলাপি বলকে ব্যবহার হতে দেখা যায় দিবা-রাত্রির টেস্টে। ২০১৫ সালে প্রথম এই টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

কোকাবুরা আর ডিউক বল গোলাপি বলে অভিষিক্ত হয়ে গেলেও ভারতের এসজি গোলাপি বল এবারই প্রথম ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিতীয় টেস্টে। ইতিহাস গড়তে যাওয়া এই বলটি তৈরি হতেই সময় লাগে সাত থেকে আট দিন!

বল বানানোর প্রক্রিয়ার শুরুটা হয় গোলাপি ডাই করা চামড়া দিয়ে। এই গোলাপি রঙয়ের চামড়া যখন পুরোপুরি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত তখন চামড়াগুলো কাটা হয় বিভিন্ন অংশে। একটি বলের জন্য চারটি অংশ নির্দিষ্ট করেই কাটা হয় তা। যাতে করে কাপ আকৃতি দেওয়া যায়। আর এই চামড়া একরাতে নরম করে ফেলা হয়। এতে কর্কের চারপাশে সহজে মুড়িয়ে ফেলা যায়।

তারপর দুটি অংশ সেলাই করে দেওয়া হয় কাপ আকৃতি। এরপর আবারও রঙ করা হয়। দুটি ভিন্ন ভিন্ন কাপ আকৃতি সেলাই করার আগে ভেতরে দেওয়া হয় কর্ক। শুরুতে ভেতরের অংশে, তারপর বাইরে দেওয়া হয় আলাদা সেলাই। পুরোপুরি প্রস্তুত হলে তখন আবার দেওয়া হয় রঙ। বলটিকে উজ্জ্বল করতে যাবতীয় কাজ শেষ হলে তৈরি হয় একটি সম্পূর্ণ গোলাপি বল। যে বল দিয়ে শুক্রবার ইতিহাসের পাতায় ঢুকে যাবে বাংলাদেশ ও ভারত। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ